রাজশাহীতে ব্যাপকহারে শিল্পায়ন ঘটাবো : বাদশা - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

রাজশাহীতে ব্যাপকহারে শিল্পায়ন ঘটাবো : বাদশা

 এবার নির্বাচিত হতে পারলে রাজশাহীতে ব্যাপকহারে শিল্পায়ন ঘটান হবে উল্লেখ করে আসন্ন নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের ১৪ মনোনীত ও মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, আমি আর মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন হাতে হাত রেখে কাজ করব। ব্যাপক শিল্পায়ন ঘটিয়ে রাজশাহীকে কর্মসংস্থানের নগরীতে পরিণত করবো।
সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতি, রাজশাহী বিসিক শিল্প মালিক সমিতি এবং জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির (নাসিব) জেলা শাখা আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রোববার বিকালে রাজশাহী নগরীর বিসিকে বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির কার্যালয় চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় বাদশা বলেন, সিটি করপোরেশনে মেয়র আছেন লিটন ভাই। আর আমি যদি আবারও এমপি নির্বাচিত হই, তাহলে আমরা দুজনে মিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করবো। রাজশাহীতে শিল্পায়নের জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা সেই দাবি জানাবো। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি উপেক্ষা করবেন না। কারণ তিনি আমাদের খুব ভালোবাসেন।


তিনি আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারা রাজশাহীর রেশম কারখানা, টেক্সটাইল মিল, বিমানবন্দরসহ অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে রাজশাহী ব্যবসা-বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়ে। ২০০৮ সালে আমি এমপি নির্বাচিত হয়ে একে একে সবগুলো প্রতিষ্ঠান আবার চালু করি। আমি আর মেয়র লিটন মিলে রাজশাহীতে গ্যাস আনি। এখন শিক্ষানগরী রাজশাহীতে শিল্পায়নেরও দ্বার উন্মোচন হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে শুধু বন্ধ করতে জানে। আর আমরা চালু করি।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মেয়রপত্নী শাহিন আক্তার রেণী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের নারীদের সম্মান দিয়েছেন। আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলছেন। তাই নারীর ক্ষমতায়ন চাইলে তাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। নৌকায় ভোট চেয়ে রেণী বলেন, আপনার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে যেভাবে কাজ করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন এবারও সেভাবে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় দেখতে পাব।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, সদর আসনে আজ যিনি বিএনপির এমপি প্রার্থী তিনি এই শহরে ১৭ বছর মেয়র এবং এমপি ছিলেন। উন্নয়নের জন্য তিনি কিছুই করেননি। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও তিনি গ্যাস আনতে পারেননি। রাজশাহীর গ্যাস হাওয়া ভবনের যুবরাজ নিয়ে গিয়েছিলেন বগুড়ায়। বিএনপির আমলে বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যায়, বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর ট্রেন চলাচল আটকে দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ফলে রাজশাহীতে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশ ঘটেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজশাহী ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে নানামুখি উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য নৌকা মার্কায় সবাইকে ভোট দিতে হবে।
বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফ আহসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের মোল্লা, মহানগর আওয়ামী লীগের দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক মো. সেন্টু, নাসিবের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আকতারুল আলম, জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক প্রমুখ।


এর আগে সকালে রাজশাহী নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন ফজরে হোসেন বাদশা। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।
এসময় তিনি বিএনপি রাজশাহীর নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করছে উল্লেখ করে সদর আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু মিথ্যা তথ্যের প্রচার করছেন। জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তিনি নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উত্তপ্ত করে তুলছেন। তারপরও আমরা সহনশীল আছি।
তিনি আরও জানান, শনিবার শহরে শিবিরের ক্যাডাররা মুখ বেঁধে মিছিল করেছে। মিজানুর রহমান মিনু নির্বাচনে শিবির ক্যাডারদের ব্যবহার করছেন। আমি আগেই বলেছি, জঙ্গি মদদদাতারা প্রার্থী হলে তার জন্য জঙ্গিরা মাঠে নামবে। এটা তার প্রমাণ।


ফজলে হোসেন বাদশা এই দিন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিরোইল কলোনী থেকে নৌকা প্রতীকের প্রচারণা শুরু করেন। পায়ে হেঁটে তিনি নগরীর ছোটবনগ্রাম হয়ে বারোরাস্তার মোড় পর্যন্ত গণসংযোগ করেন। বিশাল একটি মিছিল নিয়ে কর্মী-সমর্থকরা তার সঙ্গে যোগ দেন। বাদশা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন, মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ বাবু, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল হক মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক কামরুল, ওয়ার্ড ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাফর, নগর যুবমৈত্রীর সহ-সভাপতি শিশির আহমেদসহ ১৪ দলের নেতাকর্মীরা। গণসংযোগরে সময় সকলে ‘নৌকা’, ‘নৌকা’ শ্লোগানে তারা চারপাশ মুখরিত করে তোলেন।

কোন মন্তব্য নেই