ইরাকে অঘোষিত সফরে ট্রাম্প
বড়দিনের চমক হিসেবে হঠাৎ করেই বুধবার ইরাকে মাকির্ন সেনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন মাকির্ন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় দুই বছর ধরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে এই প্রথমবারের মতো ইরাকে গেলেন ট্রাম্প। ইরাকের প্রতিবেশী সিরিয়া থেকে মাকির্ন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে গেলেন তিনি। তার সফরসঙ্গী হিসেবে মাকির্ন ফাস্টর্ লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও রয়েছেন। সংবাদসূত্র: রয়টাসর্, বিবিসি
ইরাকের রাজধানী বাগদাদের পশ্চিমে আল আসাদ বিমানঘঁাটিতে মাকির্ন সৈন্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প সিরিয়া থেকে মাকির্ন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেন এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিরা পরাজিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানান। ঘঁাটিটির একটি হ্যাঙ্গারে ক্যামোফ্লেজ উদির্ পরা সৈন্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সিরিয়ায় আমাদের উপস্থিতি অনিদির্ষ্টকালের জন্য নয় এবং এটাকে স্থায়ী করার সংকল্প কখনোই ছিল না। এখন কিছু সেনা বাড়িতে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারে।
ইরাকে গত বছর আইএস পরাজিত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে ব্যাপক মাত্রার কোনো সহিংসতা দেখা যায়নি, তারপরও ইরাকি বাহিনীগুলোকে প্রশিক্ষণ ও তাদের সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দেশটিতে ৫,২০০ জন মাকির্ন সৈন্য অবস্থান করছে। হঠাৎ এ সফরে এসে ট্রাম্প ইরাকে তিন ঘণ্টার মতো সময় অতিবাহিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে তিনি জামাির্নর রামস্টাইন বিমানঘঁাটিতে থেমে দেড় ঘণ্টা অবস্থান করেন। এখানে ঘঁাটির একটি হ্যাঙ্গারে উপস্থিত কয়েক শ সেনার মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে হাত মেলান ও ছবি তোলেন। এরপর রামস্টাইন থেকে তিনি ওয়াশিংটন ফিরে যান।
ইরাক সফরের সময় ট্রাম্প দেশটির প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে ধারণা করা হয়েছিল, কিন্তু শেষে সক্ষাৎ না করে তিনি শুধু টেলিফোনে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। আব্দুল মাহদির দপ্তর জানিয়েছে, সাক্ষাৎকারটি কীভাবে হবে তা নিয়ে মতভেদ হয়েছিল। ইরাকি আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, ওই সামরিকঘঁাটিতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাতে রাজি হননি।
অপরদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডাসর্ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় ও সফরের অল্প আগে সফর সম্পকের্ জানানোয় বৈঠকটির আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের মধ্যে টেলিফোনে হৃদ্যতাপূণর্ কথাবাতার্ হয়েছে এবং আব্দুল মাহদি নতুন বছরে হোয়াইট হাউসে সফরে আসার ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে।
ট্রাম্পের সফরের সমালোচনায় ইরাকের আইনপ্রণেতারা : মাকির্ন সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠাৎ ইরাক সফরের সমালোচনা করেছেন ইরাকি রাজনৈতিক ও মিলিশিয়া নেতারা। ট্রাম্পের বুধবারের ওই সফরকে ইরাকের সাবের্ভৗমত্বের লঙ্ঘন অভিহিত করে এর নিন্দা জানিয়েছেন তারা। ইরাকি পালাের্মন্টের ইসলাহ বøকের নেতা সাবাহ সাদি পালাের্মন্টের জরুরি অধিবেশনের আহŸান জানিয়ে বলেছেন, ইরাকের সাবের্ভৗমত্বের এই স্পষ্ট লঙ্ঘন নিয়ে এবং ট্রাম্প, ?যার নিজের সীমা সম্পকের্ জানা উচিত, তার এসব আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ থামাতে আলোচনার জন্য অধিবেশনে বসা দরকার। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারিত্বের দিন শেষ হয়েছে। এদিকে, এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই সফর সম্পকের্ ইরাকের নেতৃত্বকে সময়ের আগেই জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কতৃর্পক্ষ। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট টেলিফোনে কথা বলেছেন কারণ কীভাবে বৈঠক পরিচালনা হবে তা নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্প আইন আল আসাদ সামরিকঘঁাটিতে বৈঠকটি করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এই প্রস্তাবে রাজি হননি আব্দুল মাহদি।
ট্রাম্পের সফর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির প্রকৃতি ও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং এই উদ্দেশ্যগুলো ইরাকের নিরাপত্তার জন্য বিপদ হতে পারে কি না সে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবধর্মান উত্তেজনার মধ্যেই ইরাকে গেলেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে চায় ওয়াশিংটন। অপরদিকে ইরানপন্থি বিনার সঙ্গে বিরোধী ইসলাহর দ্ব›েদ্ব ইরাকের সরকার গঠন অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে।

কোন মন্তব্য নেই