শাহবাগে ফুল ব্যবসায়ীদের অলস সময়
যে কোনো দিবস মানেই শাহবাগের ফুল ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় বহুগুণ। বিশেষ করে পহেলা ফাগুন, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এখানকার ফুল ব্যবসায়ীদের দম ফেলানোর সুযোগ থাকে না। যে কয়েকটি জাতীয় দিবসে ফুলের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায় তার মধ্যে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসও একটি। এদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ফুলের শ্রদ্ধায় সিক্ত হন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা। যে শ্রেষ্ঠ সন্তানদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। পহেলা ফাগুন, ভালোবাসা দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মতো স্বাধীনতা দিবসে ফুলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও এদিন অনেকটা অলস সময় পার করতে দেখা যায় শাহবাগের ফুল ব্যবসায়ীদের। কারণ রাজধানী ও আশপাশের বাসিন্দারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। ফলে শাহবাগ থেকে ফুল বা শ্রদ্ধাঞ্জলি কেনেন না সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী ও কর্মীরা চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে রয়েছেন। কেউ কেউ চেয়ারে বসে ঝিমাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ছোট কাঁচি দিয়ে ফুলের সঙ্গে থাকা ডাল কেটে ফুল সাজাচ্ছেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কিছু তৈরি করা শ্রদ্ধাঞ্জলিও দেখা গেছে। কথা হয় আদর্শ ফ্লাওয়ার শপের কর্মী মো. রমজানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২৬ মার্চ দিনের বেলায় এখানে ফুল তেমন বিক্রি হয় না। কারণ স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান হয় সাভারে। ওখান থেকেই সবাই ফুল ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নেয়। তাই এদিন সাভারের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা খুব ভালো হয়। তিনি আরও বলেন, এখান থেকে ২৬ মার্চ উপলক্ষে ২৫ মার্চ রাতে কিছু ফুল বিক্রি হয়। তবে অন্যবারের তুলনায় এবার বিক্রি অনেক কম হয়েছে। বিক্রি হয়নি বললেই চলে। কারণ সাভারের ব্যবসায়ীরা সরাসরি চাষি অথবা পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ফুল নেন। তিনি বলেন, শাহবাগে সব থেকে বেশি ফুল বিক্রি হয় পহেলা ফাগুন, ভালোবাসা দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে।
সত্যি কথা বলতে আমরা সারা বছর যে ফুল বিক্রি করি তার থেকে বেশি ফুল বিক্রি করি ওই তিন দিবসে। নাঈম পুষ্প বিতানে দেখা যায় একজন চেয়ারে হেলাল দিয়ে বসে রয়েছেন। তিনি বলেন, পরিচয় জেনে কি করবেন? ব্যবসা মোটেই ভালো না। বিক্রি নেই। এটা শুধু আমার দোকানের চিত্র না। এখানে ঘুরে দেখেন সবারই একই চিত্র। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শাহবাগ থেকে ফুল বিক্রি হয় না? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এখান থেকে কে ফুল নেবে? সবাই ফুল নেয় সাভার থেকে। পাশের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী মো. রফিক বলেন, ভাই ২৬ মার্চ উপলক্ষে যা বিক্রি হওয়ার তা ২৫ মার্চ রাতেই হয়ে গেছে। ২৬ মার্চ দিনের বেলা এখানে তেমন ফুল বিক্রি হয় না। কারণ এ দিনে রাজধানীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের কোনো অনুষ্ঠান হয় না। তবে ব্যক্তিগত প্রোগ্রামের জন্য কেউ কেউ মাঝেমধ্যে ফুল কিনতে আসে। তিনি বলেন, এখানে মূল ব্যবসা হয় তিনদিন। ওই তিন দিবসে শাহবাগের প্রত্যেক ব্যবসায়ীই ৩০-৪০ হাজার টাকা করে মুনাফা করেন। আর বছরের অন্য দিনে ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রামকেন্দ্রিক ফুল বিক্রি হয়।

কোন মন্তব্য নেই