নেতৃত্বে অযোগ্য ব্যক্তিরা কেনো বার বার আসে - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

নেতৃত্বে অযোগ্য ব্যক্তিরা কেনো বার বার আসে



যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা দেশ পরিচালনায় নেতৃত্বের অনেক বড় ভূমিকা থাকে। তাই যোগ্য নেতৃত্বকে নির্বাচিত করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সব মানুষেই চায় যোগ্য ব্যাক্তিকে নির্বাচন করতে। কিন্তু তার পরেও আমরা দেখি বিভিন্ন জায়গাতে বা প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসেন। এখন প্রশ্ন হলো কেনো এমন হয় বা এর সমাধানই বা কি?

এমন একটি বিষয় নিয়ে গবেষণামূলক বই 'হোয়াই সো মেনি ইনকমপিটেন্ট মেন বিকাম লিডারস' লিখেছেন লেখক ও মনোবিদ ড. টমাস চামোরো পিরেমুজিক। এই বইয়ের লেখকের বিভিন্ন উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি।

অযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে ড. টমাস তার বইয়ে বলেন, ‘যখন নেতাদের প্রসঙ্গ আসে তখন যোগ্যতার বিষয়টিকে যতটা গুরুত্ব দেয়া উচিত ততটা আমরা দেই না, এটা ব্যবসা ও রাজনীতি দুই জায়গাতেই।’

নারীদের জন্য নেতৃত্ব পর্যায়ের পদগুলোতে উঠে আসা কেন কঠিন তা নিয়ে ড. টমাস তাঁর বইয়ে অনেক যুক্তি-তর্ক তুলে ধরে বলেন, ‘সমাজে আমরা পুরুষদের দৃষ্টিকোণ থেকে যোগ্যতাকে দেখতে ভালোবাসি কারণ এর জন্য তাদেরকেই আমরা পুরস্কৃত করতে চাই।’

ড.টমাস আরো বলেন, ‘রাজনীতি বা ব্যবসায় নেতা পছন্দ করার ক্ষেত্রে আমরা বিবেচনাযোগ্য দায়িত্বশীলতার মুখোমুখি হই কিন্তু আমরা তাদের নির্বাচন করি। কিন্তু সেটা আমাদের প্রতিষ্ঠান বা দেশের জন্য ভালো না মন্দ তা যাচাই করা হয় না।’

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নেই কিন্তু আমাদের হাতে পর্যাপ্ত তথ্য থাকে না যা দিয়ে বুঝা যায় যে এসব নেতারা ভালো করবেন কি-না। পরিণামে তাদের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা আছে কি-না সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে আমরা স্টাইল বা এমন বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেই।’

তিনি মনে করেন, ‘আমরা যোগ্যতার চেয়ে আত্মবিশ্বাসের ওপর বেশি দৃষ্টি দেই এবং প্রায় সময়েই আমরা জব ইন্টারভিউ বা টেলিভিশন বিতর্কের মতো অল্প সময়ের আলাপচারিতার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।’

দ্বিতীয়ত, বিনয়ের চেয়ে ক্যারিশমা গুরুত্ব পায় বেশি। তৃতীয়ত, নেতাদের আমরা স্বার্থপরের মতো এমনভাবে মানতে শুরু করি যা সবচেয়ে উদ্বেগজনক।

আর একই ভুল বারবার করার কারণ ও ভুল ব্যক্তিকে নির্বাচন করা বিষয়ে ড. টমাস বলেন, 'সম্ভবত আমরা আসলে সেরা ব্যক্তিকেই চাকুরীতে দেখতে চাই না।’

ড. টমাস মনে করেন, অনেক সময় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ স্বল্প মেয়াদী লক্ষ্য ঠিক করে। তাদের মন্তব্য থাকে 'এই ব্যক্তি সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে পারবে।’ এছাড়াও,‘প্রতিটি সংগঠন বা ব্যবসায় নেতৃত্বে যারা আছেন তাদের কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত এভাবে যে তারা অধীনস্থদের বা টিমকে কতটা প্রভাবিত করতে পেরেছেন।’

এই চক্র ভাঙ্গার বিষয়ে ড. টমাস কোম্পানি বা ডেমোক্রেসি- অযোগ্য নেতাদের সরানোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ  পরামর্শ বা পদ্ধতির কথা তুলে ধরেছেন।



১. ভোটে হোক আর হায়ার করে আনা হোক, কয়েকটি বিষয় যত্ন সহকারে বিবেচনা করতে হবে।

যেমন- যোগ্যতা, দক্ষতা, বিনয়, আত্ম সচেতনতা, সততা ও শেখার ক্ষমতা।

২. ধারণা নয় বরং তথ্য উপাত্তের ওপর নির্ভর করা।

৩. লিঙ্গ বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে লিঙ্গকে নয় বরং মেধাকে গুরুত্ব দেয়া।

নারী নেতৃত্বের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সমাধান হয়তো নারী নন বরং সমাধান হলো মেধা ও যোগ্যতাকে মূল্যায়নে সিরিয়াস হওয়া।’ একটি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অনুযায়ী মেধা ও যোগ্যতা বিবেচনায় নিলে সেটি নারীদের জন্য বাধা তৈরি করবে না বরং পুরুষের চেয়ে নারীরাই তখন নেতৃত্বে বেশি উঠে আসবে।’

কোন মন্তব্য নেই