এনবিআরের আওতায় আলাদা বিভাগের সুপারিশ বিসিআই’র - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

এনবিআরের আওতায় আলাদা বিভাগের সুপারিশ বিসিআই’র

সরকারের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতায় আলাদা বিভাগ খোলার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। একই সঙ্গে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভূক্তির জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করেছে।



সম্প্রতি সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ) স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি সুপারিশ অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সরকারের ভিশন ২০২১ ও ২০৪১, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য একটি বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বান্ধব স্থায়ী কর ও শুল্ক কাঠামো জাতীয় স্বার্থে অপরিহার্য এই লক্ষ্য সামনে রেখে ২০১৯-২০২০ বাজেটে অন্তর্ভূক্তির লক্ষ্যে এ বাজেট প্রস্তাব দিয়েছে বিসিআই।

বাজেট প্রস্তাবে বিসিআইকে বাংলাদেশব্যাপী একক এবং একমাত্র জাতীয় শিল্প চেম্বার হিসেবে দাবি করে বলা হয়েছে সংগঠনটি সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সর্বপ্রকার শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং দেশের শিল্পায়নে তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিরন্তর নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে সংগঠনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শিল্প সহায়ক এবং রপ্তানি খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে প্রস্তাবগুলো অন্তর্ভূক্তির সুপারিশ করেছে।   

বিসিআই’র সুপারিশে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম থেকে ট্যাক্স, ট্যারিফ এবং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নামক একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা আবশ্যক। এই উদ্দেশ্যে গৃহীত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সদস্যকে প্রধান করে একটি পৃথক ট্যাক্স, ট্যারিফ এবং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বিভাগ অবিলম্বে গঠন করা অত্যন্ত জরুরী।

এই বিভাগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ট্যাক্স, ট্যারিফ এবং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের কাজ তদারকি করবে। শুল্ক, মূসক ও করহার যৌক্তিকিকরন করবে। রপ্তানি, রপ্তানি বলে গণ্য, ডিউটি ড্র ব্যাক সংক্রান্ত দেখভাল করবে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নিরীক্ষা এবং পরিদর্শন সংক্রান্ত কর্মকা-, বিরোধ নিস্পত্তি এবং বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা এবং আইন সংস্কার প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কর্মকা- পরিচালনা করবে।

সুপারিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সঙ্গে সঙ্গে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ সমপর্যায়ের বিভিন্ন দেশের বিপুল রপ্তানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষে নেওয়া অপরিহার্য। এর মধ্যে রপ্তানি খাতে উৎসে কর ০.০১% নির্ধারণ করা। সব রপ্তানি খাতে করপোরেট কর হার সমআয়তন করে ১০% ধার্য করা।

আমদানি ও রপ্তানি নীতি আদেশে রপ্তানি খাতে নির্দেশিত শুল্ক ও কর সুবিধা ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন রেয়াতি ব্যবস্থা সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে বিধান ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা।

এতে বলা হয়েছে, ডলারের বিপরীতে পাউন্ড, ইউরো, রুবলসহ বিদেশী মুদ্রার বিনিময় হার জনিত ঝুঁকি মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রাপ্ত রপ্তানি চালান ভিত্তিক পরিশোধিত রপ্তানি মূল্যের উপর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট বিদেশি মুদ্রার জন্য নির্ধারিত বিনিময় হার প্রযোজ্য হবে।

রপ্তানি পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত গুণগত মান সনদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা। রপ্তানি পণ্যের আন্তকর্জাতিক স্বত্ব নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের মূল্য সংযোজন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা। রপ্তানি বৃদ্ধির সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট সব রপ্তানিপণ্য খাতে রেয়াতি হারে বিদ্যুৎ পানি গ্যাস সংযোগ ও সরবরাহের সংস্থান করা।



একক এবং রপ্তানিমুখী গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র শিল্প এবং নারী উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে খাত ভিত্তিক যৌথ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ডেড-ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রদান করা। রপ্তানি পণ্য প্রস্তুতকরণে ব্যবহৃত আমদানিকৃত এবং দেশীয় উপকরণের উপর পরিশোধিত সব শুল্ক ও কর মওকুফ গণ্য করে ফেরত প্রদান করা। সংশ্লিষ্ট সব রপ্তনিপণ্য খাতে রেয়াতি হারে অর্থায়ন করা, ফ্যাক্টরিং সার্ভিসকে কার্যকর করন এবং রপ্তানিতে অর্থায়নের জন্য রেয়াতি হারে মূলধনী ঋণ ও এলসি’র বিপরীতে ঋণ সুবিধা প্রদান করা। বিদেশে প্রদর্শণী বা ফেয়ারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা এবং সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য সহায়তা ও সুযোগ সুবিধাদি কার্যকর করা।  

কোন মন্তব্য নেই