ঘুষ দিয়ে টিকে থাকতে হচ্ছে উত্তর কোরীয়দের: জাতিসংঘ - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

ঘুষ দিয়ে টিকে থাকতে হচ্ছে উত্তর কোরীয়দের: জাতিসংঘ



আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে একরকম বিচ্ছিন্ন এবং দুর্নীতি জর্জরিত উত্তর কোরিয়ার নিপীড়িত নাগরিকদের কর্মকর্তাদেরকে ঘুষ দিয়ে টিকে থাকতে হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে। তবে পিয়ংইয়ং এ প্রতিবেদনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করা মানুষদের কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায় করছে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করা, আটকে রাখা কিংবা বিচারের মুখে দাঁড় করানোর ভয় দেখানো হচ্ছে।

খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, কাজের অধিকার এবং চলাফেরার স্বাধীনতা মানুষের জন্য অপরিহার্য এবং সার্বজনীন। কিন্তু উত্তর কোরিয়ায় মানুষের এ মৌলিক অধিকারগুলো পেতে গেলে প্রথমেই তা নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদেরকে কোনো ব্যক্তির ঘুষ দেওয়ার ক্ষমতার ওপর।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কারণে মানুষকে তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে লড়াই করতে হচ্ছে।

তবে এই অব্যবস্থাপনার মধ্যেও উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তহবিল বরাদ্দ পাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



২০১৭ এবং ২০১৮ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পক্ষত্যাগী ২১৪ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ‘দ্য প্রাইস ইজ রাইট’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে জাতিসংঘ।

এর সমালোচনায় উত্তর কোরিয়া বলেছে, “এ ধরনের প্রতিবেদন অতিরঞ্জন ছাড়া আর কিছু না..কারণ, এ ধরনের প্রতিবেদন সবসময়ই পক্ষত্যাগীদের তথাকথিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে করা হয়, যারা অতিরঞ্জিত তথ্যই দেয়।”

এ মাসের শুরুর দিকে ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম’ (ডব্লিউএফপি) এক হিসাবে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ১০ জনে ৪ জন উত্তর কোরীয় মারাত্মক খাদ্য সংকটে আছে এবং সম্প্রতি দেশটিতে ভয়াবহ খরার কারণে খাদ্যশস্য উৎপাদন কম হওয়ায় আরো বেশি খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উত্তর কোরিয়া তাদের মানবিক সংকটের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে দেশটির ওপর আরোপিত জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করে আসছে।



জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলে এক বিবৃতিতে বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বেশি নজর দিতে গিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মানবাধিকারের ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকটি কারো নজরে না আসার বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

কোন মন্তব্য নেই