বাজেটের পর আরো নাজুক পুঁজিবাজার
ঘোষিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য বেশকিছু পয়েন্ট শুনে বিনিয়োগকারীরদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল। তারা ভেবেছিলেন বাজেট পরবর্তী ইতিবাচক হবে পুঁজিবাজার। কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাশা গুড়েবালিতে পরিণত হয়েছে বাজেট পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসেই। যাতে অনেকেই হতাশ হয়েছেন। কেননা দীর্ঘ মন্দায় তলানিতে থাকা পুঁজিবাজার যখন বাজেট প্রত্যাশায় একটু একটু করে বাড়তে ছিল, সেই বাজারেই বাজেট ঘোষণার পর দেখা গেল ভিন্ন পরিস্থিতি। অর্থাৎ সপ্তাহের প্রথম দিনেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক কমেছে প্রায় ৪৪ পয়েন্ট। পাশাপাশি কিছুটা কমেছে লেনদেনও। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেট নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কেননা বাজেটে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নগদ লভ্যাংশ উৎসাহিত করার জন্য স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ট্যাক্স এবং রিজার্ভ বাড়ানোর কাজকে নিরুসাহিত করতেও একই হারে কর আরোপ করা হয়েছে। তবে অনেক কোম্পানির নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করার মতো পর্যাপ্ত সামর্থ নাই। আর সমার্থ না থাকার কারণেও তাদের ক্যাটাগরিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি রিজার্ভের ওপর কর বাসানোয় বড় মূলধনী বিশেষ করে ব্যাংক খাত কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়বে। এমন ধারনা থেকেই আজ বাজার কিছুটা নড়বড়ে বলেও ধারনা করছেন তারা।
এদিকে, আজকের দুপুরের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুপুর ১২টায় ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫৪০১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১২২৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৮৯৭ পয়েন্টে। এ সময় লেনদেন হওয়া ৩৩৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০১টির, দর কমেছে ১৯৮টির এবং দর পরিবর্তীত রয়েছে ৩৬টির। এ সময় টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ২২৬ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
এর আগের কার্যদিবস একই সময় ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ১২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৫৪৬২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ১২৪২ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ১৯১৫ পয়েন্টে। আর ওইদিন লেনদেন হয়েছিল ২৩৪ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৪৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১০ হাজার ২৬ পয়েন্টে। এ সময় লেনদেন হওয়া ১৮৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৭টির, দর কমেছে ১২৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির। আলোচিত সময়ে টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৯ হাজার টাকা।

কোন মন্তব্য নেই