একদিনে সড়কে প্রাণ গেল ১১ জনের - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

একদিনে সড়কে প্রাণ গেল ১১ জনের



দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ জন। এর মধ্যে নাটোরে ৪, ফরিদপুরে ৩, সাতক্ষীরায় ২, মাগুরা ও উল্লাপাড়ায় ১ জন রয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো শতাধিক লোক। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-
ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুর শহরের কোমরপুর এলাকার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সেনা ক্যাম্পের সামনে একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ঘটনাস্থলেই গ্রামীণ জুয়েলার্সের মালিকসহ নিহত হয়েছেন ৩ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৭ মাইক্রোবাস যাত্রী। নিহত ও আহতরা সকলেই একই পরিবারের সদস্য। আহতদের ফরিদপুর ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজনের মৃত্যু হয়।


নিহতরা হলেন- গ্রামীণ জুয়েলার্সের মালিক আসলাম মোল্লা, তার মা মহিরন নেছা ও তার বোন আসিয়া বেগম।

নিহত পরিবারের আহত সদস্যরা জানান, তারা গতকাল সকালে ঢাকা থেকে তাদের নিজ বাড়ি আলফাডাঙ্গা উপজেলার দেউলি গ্রামে যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে এসে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় দু’জন মারা যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদেরকে ফরিদপুর ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হলে সেখানে আরো একজনের মৃত্যু হয়। 

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরার ওয়াপদা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তাপস রায় (৪৫) নামের এক ইজিবাইক আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অপর তিনজন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তাপস রায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর গ্রামের চান্দু রায়ের ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছে তাপস রায়ের স্ত্রী ঊর্মিলা রায় (৩০), সাজেদা বেগম (৪০) ও সাথী। মাগুরা রামনগর হাইওয়ে থানার ইনচার্জ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাফুর আহম্মেদ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরার ওয়াপদা এলাকার গড়াই সেতুর উপরে ইজিবাইক ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই নিহত হন তাপস রায়। 

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান, স্বামী-স্ত্রী মোটরসাইকেল নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন সদ্য ভুমিষ্ট হওয়া দৌহিত্রকে দেখার জন্য, কিন্তু দৌহিত্রের মুখ আর দেখা হলো না দাদুর। পথিমধ্যে যাত্রীবাহী ঘাতক বাস কেড়ে নিলো দাদু নাসির উদ্দিন (৪৫)-এর প্রাণ। এ সময় গুরুত্বর আহত হন নাসির উদ্দিনের স্ত্রী শেফালী বেগম (৪০)। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পাওখালী নামক মহসড়কে। নিহত নাসিরউদ্দিন উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আবু বক্কার সরদারের পুত্র।



নিহতের শ্যালিকা তানবিয়া বেগম জানান, নিহত নাসিরউদ্দিনের বড় পুত্র রাজুর প্রথম পুত্রসন্তান হয় গত বৃহস্পতিবার বিকালে নলতা হাসপাতালে। দৌহিত্রকে দেখতে আমার বোন ও দুলাভাই মোটরসাইকেল নিয়ে রওনা দেন। পথিমধ্যে পাওখালী নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস তাদেরকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুলাভাই নাসিরউদ্দিন মারা যান। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আমার বোনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাতক্ষীরা ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কালীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ উদ্ধার এবং ঘাতক বাস আটক করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। অপরদিকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বাপ্পি (২৭) নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ী ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জের হাজামপাড়া নামক স্থানে। নিহত বাপ্পি গণেশপুর গ্রামের মমিন গাজীর পুত্র।

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, উল্লাপাড়ায় গতকাল সকালে উল্লাপাড়া-লাহিড়ী মোহনপুর আঞ্চলিক সড়কে একটি মাটিবাহী ট্রাকের চাপায় আনজিনা খাতুন (৪৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। আনজিনা পার্শ্ববর্তী কয়রা কৃষ্টপুর গ্রামের আবদুল মমিনের স্ত্রী। 


উল্লাপাড়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক দিলীপ কুমার জানান, পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি আটক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। লাশ উদ্ধারের প্রস্তুতি চলছে। 

নাটোর প্রতিনিধি জানান, গুরুদাসপুরে ট্রাক ও পিকআপভ্যানের সংঘর্ষে তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ৬ টার দিকে উপজেলার নাটোর-সিরাজগঞ্জ সড়কের রাণীগ্রামের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশের আবদুল কাদের (৫০) ও রুহুল আমিন (৩৫)। অন্যজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। ওসি আরো বলেন, গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ থেকে একটি পণ্যবাহী ট্রাক এবং শ্রমিকদের নিয়ে একটি পিকআপভ্যান নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে রাণীগ্রাম এলাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপভ্যানে থাকা তিন শ্রমিক নিহত হয়। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।



বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, বড়াইগ্রামে বাসের ধাক্কায় মাসুম ইসলাম (৪২) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের উপজেলার রাজ্জাকমোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত মাসুম রাজশাহীর দামকুড়া থানার সোনাইকান্দী গ্রামের খাইরুল ইসলামের ছেলে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার সাব-ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান জানান, মোটরসাইকেলটি সিরাজগঞ্জ খেকে রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিলো। এ সময় পেছন দিক থেকে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী দেশ ট্রাভেলস এর একটি বাস চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘাতক বাসটি আটক করেছে। 




কোন মন্তব্য নেই