গেমিং ফোনের ভূবনে শক্তিশালী প্রতিযোগী : ব্ল্যাক শার্ক 2 প্রো
স্মার্টফোনকে যারা কেবল সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক বিরক্তিকর ডিভাইস মনে করে থাকেন, তাদের জন্য নতুন বার্তা হচ্ছে, ফোন কেবল মাল্টি-মিডিয়া প্লেয়ার কিংবা মাল্টি-টাস্কিং ডিভাইসই নয় বরং হাই-এন্ড গেমিং ডিভাইসের লাইটার ভার্সনে পরিণত হতে চলেছে।
সম্প্রতি গেমিং ফ্ল্যাগশিপ ফোন এনে বাজারে হইচই ফেলেছে আসুস। নিজেদের আরওজি ফোন2 এর শক্ত প্রতিস্বন্দ্বী হিসেবে আসছে ব্ল্যাক শার্ক 7 প্রো। গেল বছর বাজারে আনা ব্ল্যাক শার্ক 2 এর প্রো ভার্সনে থাকছে বেশ কিছু নতুন ফিচার। সর্বশেষ শক্তিশালী প্রসেসর ও সুপার রেপন্সিভ ডিসপ্লে’র এই ফোনটি গেমিং বাজারে আসুসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, বলার অপেক্ষা রাখে না।
চলতি সপ্তাহে ফোনটির তথ্য ফাঁস করলেও পুরো কনফিগারেশন সম্পর্কে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। তবে এর মূল শক্তির জায়গা হবে প্রসেসর এবং ডিসপ্লে, সে সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে ব্ল্যাক শার্ক।
নিজেদের আপডেট ভার্সনের গেমিং ফোনের টাচ ডিসপ্লেটি আগের মডেলের চেয়ে 7 মিলিসেকেন্ড দ্রুত রেসপন্স করতে সক্ষম। ব্ল্যাক শার্ক 2 এর 43.5ms টাচ রেসপন্সের বিপরীতে এর প্রো ভার্সনের রেসপন্স টাইম 34.7ms এ আনা হয়েছে। যা আসুস আরওজি ফোন 2 এর 49ms রেসপন্স টাইমের চেয়ে দ্রুততর।
নিজেদের গেমিং ফ্ল্যাগশিপে সর্বশেষ সংস্করণের Qualcomm’s Snapdragon 855 Plus প্রসেসর ব্যবহারের কথা জানিয়ে ব্যাপক সাড়া তৈরি করেছিল আসুস। একই প্রসেসর নিয়ে আসতে যাওয়া ব্ল্যাক শার্ক 2 প্রো এর সাথে লড়াইটা ভালই জমবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
ব্ল্যাক শার্ক 2 এর নতুন ভার্সনে উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুইটি বিশেষ পরিবর্তন হচ্ছে প্রেসার সেন্সিটিভ ডিসপ্লে এবং ম্যাজিক টাচ। এর মাধ্যমে টাচ অপশনে কিছুটা কাস্টমাইজ করে কাজ করার সুযোগ থাকবে গ্রাহকের। তবে আগের ভার্সন থকে উন্নত করতে গিয়ে বেশ কিছু অদ্ভুদ পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে ফোনে। এর মধ্যে লিকুইড কুলিং সিস্টেম, পেছনের X আকৃতির অ্যান্টেনা যা ল্যান্ডস্কেপ পজিশনে নেটওয়ার্ক পেতে সুবিধা দেবে। এই গেমিং ফোনের ডিসপ্লেতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যামোলেড ডিসপ্লে যা টাচ রিপোর্ট রেট 240Hz। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ডিসেপ্লটির রিফ্রেশ রেট মাত্র 60Hz। যা 120Hz রিফ্রেশ রেটের রেজর ফোন 2 এবং আসুস আরওজি ফোন 2 এর প্রায় অর্ধেক! এমনকি ওয়ানপ্লাস 7 প্রো এর 90Hz এর ডিসপ্লেও এর চেয়ে গতিশীল।
ফোনটির বেজলাইন কনফিগারেশন হিসেবে 12GB র্যাম এবং দ্রুতগতির 128GB এবং 256GB UFS 3.0 স্টোরেজ ব্যবহৃত হয়েছে। 128GB স্টোরেজের ফোনের দাম 435 এবং 256GB এর দাম 508 ডলারের কাছাকাছি হতে পারে।
গেমারদের প্রয়োজন মেটাতে ব্ল্যাক শার্ক 2 প্রো প্রায় সব ধরণের আধুনিক ফিচার নিয়েই হাজির হচ্ছে। আগামীর স্মার্টফোন যে শুধু সোশ্যাল মিডিয়া ফোকাসড থাকবে না তারও একটি বড় ইঙ্গিত মিলছে সাম্প্রতিক এসব গেমিং ফোনের আগমনে। পাশাপাশি গেমিং ফোনের পরিসরে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথেও বড় স্নায়ু লড়াইয়ের সময় আসছে। আগামী বছর হয়ত তার নমুনা মিলবে।
ফোনটি কয়েকমাসের মধ্যে ইউরোপের বাজারে যাত্রা শুরু করবে। মার্কিন বাজারে এটি পেতে হয়ত ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: দ্যা ভার্জ।

কোন মন্তব্য নেই