কোন রাশির সঙ্গে কোন রাশির প্রেমের সম্পর্ক মজবুত হয়
একেক পরিবার থেকে আসা মানুষ যেমন একেক রকম হয়ে থাকেন, তেমনই একেক রাশিতে জন্ম নেওয়া মানুষও কিন্তু একেক রকম হয়ে থাকেন। জ্যোতিষশাস্ত্র বলে, রাশি ভেদে প্রেমের সম্পর্কে আসে নানান উত্থান পতন। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষত প্রেম ও সম্পর্কের মতো অনিশ্চয়তার ক্ষেত্রে কোনও রাশির মানুষ কেমন তা জানাটা আমাদের একটু হলেও স্বস্তি দিতে পারে।
আপনার রাশির সঙ্গে অন্য কোন রাশির মানুষের সম্পর্ক কেমন হতে পারে জেনে নিন:
মেষ: মেষ রাশির সঙ্গে বেশ ভাল বনিবনা হয় মিথুন, সিংহ, ধনু এবং কুম্ভের। প্রেমের জন্য মিথুন এবং কুম্ভ, মেষের জন্য অসাধারণ। ক্ষণস্থায়ী বা হালকা ধরনের সম্পর্কের জন্য বেছে নিতে পারেন এই দুই রাশিকে। সিংহের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলাটা জীবনে এনে দিতে পারে খুব ইতিবাচক পরিবর্তন। আর যদি আরও দীর্ঘস্থায়ী চিন্তা করতে চান, তবে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে পারেন ধনুকে। মেষের থেকে একেবারেই উল্টো প্রকৃতির তুলাও কিন্তু অনেক সময়ে ভাল সঙ্গী হয়ে উঠতে পারেন যদি নিজেদের মাঝে সাধারণ সমস্যাগুলো ভুলে যেতে পারেন। কন্যা এবং বৃশ্চিকের সঙ্গে মেষের প্রেম ভাল হওয়ার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। মানে ভাল বা খারাপ দুটোই হতে পারে। কর্কট এবং মকরের থেকে একটু দূরে থাকাই উত্তম হবে মেষের জন্য।
বৃষ: কন্যা রাশির সঙ্গে খুব ভাল জমবে বৃষ রাশির প্রেম। এঁরা দু’জনেই জীবন থেকে একটু শান্তি খোঁজেন। তাই সুখে শান্তিতে ঘর বাঁধতে কোনও সমস্যাই হবে না এঁদের। আর জীবনে যদি সফল হয়ে উঠতে চান, তবে বেছে নিন মকরকে। তিনি আপনাকে ঠেলে ঠেলে কখন যে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দেবেন টেরই পাবেন না! কর্কটের সঙ্গে মিষ্টি একটা প্রেম হতে পারে আপনার, তবে সেটা কত দূর স্থায়ী করবেন সেটা আপনাদের ইচ্ছার ওপরেই নির্ভরশীল। দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ক্ষেত্রে কর্কট-বৃষ বেশ স্থিতিশীল হতে দেখা যায়। আর মীনের সঙ্গে বৃষের তৈরি হবে সত্যিকারের ভালবাসা, যা পার করতে পারে সব রকমের বাধা। শুধু তাই নয়, খুব সুন্দর একটা বন্ধুত্বের সূচনা হতে পারে এই দুইয়ের মাঝে। বৃষের ঠিক উল্টো হল বৃশ্চিক। এর সঙ্গে বৃশ্চিকের প্রেমের পথ কণ্টকিত। খুব চেষ্টা করলে তবেই বৃষ এবং বৃশ্চিকের প্রেম সফল হতে পারে। তুলা এবং ধনুর সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, তবে বেশি আশাবাদী না হওয়াই ভাল। আর সিংহের সঙ্গে সম্পর্কে গেলে অযথাই ঝামেলা হতে পারে আপনার।
মিথুন: ধনু এবং কুম্ভের সঙ্গে খুব সহজেই মিশতে পারে মিথুন। তবে মেষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গাঢ়ত্ব বেশি হয়। সম্ভাবনা থাকে দীর্ঘমেয়াদী কোনও পরিণতির। হাসিখুশি জীবনের জন্য বেছে নিতে পারেন সিংহ রাশির সঙ্গী। বৃশ্চিকের সঙ্গেও বেশ ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে মিথুনের। তবে দূরত্ব বজায় রাখুন কর্কট, মকর, কন্যা এবং তুলা রাশির মানুষের থেকে।
কর্কট: কর্কট হয়ে থাকে বেশ সংবেদনশীল। তাঁদের জন্য মীন এবং বৃশ্চিক রাশির মিল হয় সবচেয়ে ভাল। এই দুই রাশি নিজের সঙ্গীর প্রতি যত্নশীল থাকে বলে তাঁদের সঙ্গেই সবচেয়ে ভাল থাকে কর্কট। একই কারণে শান্তিপ্রিয় বৃষের সঙ্গেও তাঁর বেশ ভাল মিল হতে দেখা যায়। বিয়ের জন্য এই সবগুলো রাশিই কর্কটের জন্য ভাল। এ ছাড়া কন্যা রাশিও খারাপ নয়। কর্কট এবং কন্যার সংসারে পারস্পরিক বোঝাপড়া ভাল হতে দেখা যায়। মেষ এবং তুলার সঙ্গে কর্কটের একেবারেই বনে না। প্রেম বা বিয়ে, উভয় ক্ষেত্রেই অশান্তির আশঙ্কা থাকে।
সিংহ: সিংহ এমন, সবার সঙ্গেই ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন, যাঁরা তাঁর কর্তৃত্ব মেনে চলতে পারেন। মেষ এবং ধনুর সঙ্গে সিংহ জীবনে আরও এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ পায়। আবার তুলা এবং মিথুন রাশির সঙ্গীও তাঁদের জন্য খারাপ নয়। এঁরা সিংহকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। বৃষ রাশির সঙ্গে সিংহের একেবারেই খাপ খায় না। দু’জনেই সম্পর্ক থেকে পালাবার পথ খোঁজেন। তেমনই বৃশ্চিক এবং কুম্ভের সঙ্গেও সহজে সম্পর্ক সফল করতে পারেন না সিংহ।
কন্যা: কন্যার সঙ্গে বৃষের ভাল মিল হয়। তেমনই মকরের সঙ্গেও ভাল মিল হতে দেখা যায়। মকরের সঙ্গে বিয়ে কন্যার জন্য শুভ। এতে তেমন চোখ ধাঁধানো কোনও প্রেম কাহিনি তৈরি না হলেও শান্তিপূর্ণ ও সুখী জীবনযাপনের ভাল সম্ভাবনা থাকে। অন্য রকম প্রেমের স্বাদ পেতে চাইলে কর্কট এবং বৃশ্চিক হয়ে উঠতে পারেন কন্যার আদর্শ সঙ্গী। মিথুন এবং ধনুর সঙ্গে প্রেমের চেষ্টা না করাই ভাল। কন্যার ঠিক উল্টো রাশি হলো মীন। এর সঙ্গে কন্যার প্রেম সাধারণত সাফল্যের মুখ দেখে না।
তুলা: আর সকল রাশি থেকে তুলা পুরোপুরি আলাদা। প্রেমে পড়লে এঁরা সব কিছুই করতে পারেন। তাই ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’ এই কথা এক বার না, একশো বার তুলার প্রেমিক প্রেমিকারা বলতে পারেন কারণ তুলা হল ‘হার্ডকর লাভার’। প্রেমে পড়লে প্রেমিক বা প্রেমিকাকে এঁরা অন্য চোখে দেখেন। প্রেমপত্র থেকে গান, কবিতা লিখে থাকেন এঁরা।
বৃশ্চিক: প্রেমে পড়লে বৃশ্চিকের প্রেমিক প্রেমিকাদের মনে হয় যেন চোখের শক্তি বেড়ে যায়। এঁরা ভালবাসার কথা মুখ দিয়ে না বলে চোখ দিয়েই যেন বলে দেন। আর বিপরীতে যিনি আছেন, তিনিও বুঝে যান। বৃশ্চিকের প্রেমিক-প্রেমিকাদের ক্ষেত্রে ‘চোখে চোখে কথা বলা’র বিষয়টি একশো ভাগই সত্য। এঁরা প্রেম করে চোখ দিয়ে। বৃশ্চিকের চোখ খুবই রোম্যান্টিক।
ধনু: এঁরা যখন প্রেম করেন, তখন ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ এই কথা না বলে নানা ধরনের কথা বলে শুধু প্রেমিক/প্রেমিকাকে হাসিয়ে থাকেন। এর মাধ্যমেই এঁরা যা বলার বলে থাকেন। এই ভাবেই এক দিন তাঁরা বুঝিয়ে দিতে পারেন নিজেদের মনের কথা।
মকর: মকরের প্রেমিক প্রেমিকারা ভারী স্বভাবের হয়ে থাকেন। কথা কম বলেন, কিছুটা জেদী স্বভাবের, আর ভিতরে ভিতরে বেশ লাজুক। ফলে এদের পক্ষে ভালবাসার মানুষকে মনের কথা বোঝানো বেশ কঠিন। তাই এঁরা সরাসরি ‘আই লভ ইউ’ না বলে পরোক্ষ প্রেমিক/প্রেমিকাকে উপহার দিয়ে থাকেন। এই ভাবেই এঁরা প্রেম নিবেদন করে থাকেন।
কুম্ভ: এঁরা প্রেম করেন নীরবে, নিভৃতে, গোপনে। যদিও এঁরা খুব খোলা মনের রাশি, খোলামেলা কথা বলতেই ভালবাসেন বেশি। এটা বন্ধুত্বের রাশি। কিন্তু প্রেমের ক্ষেত্রে এঁরা ভীষণ গোপনচারী। প্রেমের ক্ষেত্রে এঁরা এমনই যে, যাঁকে ভালবাসেন, তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে এই গোপন প্রেমের কথা জানান না।
মীন: মীন হচ্ছে আত্মার রাশি। মিডিয়াম মিস্টিক রাশি। সাইকিক সাইন। বলা কওয়া হাঁক ডাকের দিক থেকে এঁরা অনেকটা সিংহের মতো। তাই যখন বোঝেন, প্রেমিক/প্রেমিকাকে ‘ভালোবাসি’ কথাটা বলতে হবে, তখন প্রথামতোই বলে থাকেন। কারণ প্রেমে এঁরা আন্তরিক। এঁরা সব সময় প্রেমিক/প্রেমিকার মন বুঝে চলে থাকেন। প্রেমে এঁরা চিরকালই আত্মত্যাগী।

কোন মন্তব্য নেই