নিউজ ফাস্ট

নদীর দেশে মরুর ফল





'সাম্মাম' মরুভূমির ফল। সৌদি আরবে তরমুজ জাতীয় এ ফলের চাষ হয় ব্যাপক। তবে বরিশাল নগরীর করমজা এলাকায় সাম্মামের চাষ করে সফল হয়েছেন গিয়াস উদ্দিন লিটু (৪৫)। গত দুই সপ্তাহে ২০০ কেজি সাম্মাম বিক্রি করেছেন তিনি। পাইকারি দেড়শ' টাকা কেজি দরে ফল বিক্রেতারা সাম্মাম কিনছেন। হলুদ রঙের কাঁচা পেঁপের মতো সাম্মাম খেতে খুবই মিষ্টি। ঘ্রাণ ফ্রুটির মতো। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বরিশালের আবহাওয়া সাম্মাম চাষের জন্য উপযোগী। ফলনও ভালো হয়। তাই মরুভূমির এ ফল চাষ করে কৃষকরা অধিক লাভবান হতে পারেন।

বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন লিটু একসময় পল্লীবিদ্যুতের চুক্তিভিত্তিক ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। সবজি ও ফল চাষে দীর্ঘদিনের আগ্রহ তার। বিশেষ করে নতুন জাতের ফল উৎপাদনের প্রতি তার ঝোঁক বেশি। গিয়াস উদ্দিন জানান, চাষাবাদের প্রতি আগ্রহী হয়ে সাত-আট বছর আগে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ ছেড়ে দেন। মনোনিবেশ করেন ফল চাষে। বাড়ির পাশেই ৯০ শতাংশ নিজস্ব জমি আছে তার। শুরুতে পেয়ারা ও মালটা চাষ করেন তিনি। তিন-চার বছর আগে শুরু করেন অফসিজনের তরমুজ চাষ। এসব ফলের আবাদ করে ভালোই উপার্জন হচ্ছিল। তবে নতুন জাতের ফল উৎপাদনের নেশায় গিয়াস উদ্দিন চার-পাঁচ মাস আগে ঢাকার সিদ্দিকবাজারের একটি বীজের দোকানে গিয়ে বাংলাদেশে উৎপাদন সম্ভব, এমন বিদেশি ফলের বীজ খোঁজেন। তখন পেয়ে যান সাম্মামের বীজ। মাত্র ১০ গ্রাম বীজ কিনে আনেন ৫০০ টাকায়।



গিয়াস উদ্দিন বলেন, 'ভাদ্র মাসে ওই সাম্মামের বীজ বপন করি ৫০ শতাংশ জমিতে। পাশাপাশি তরমুজেরও চাষ করেছি। বীজ বপনের মাত্র ৪০ দিনের মাথায় সাম্মামের গাছে ফল ধরেছে।'

গিয়াস উদ্দিনের সাম্মাম বাগানে গিয়ে দেখা যায়, অনেকটা শসা গাছের মতো মাচায় লতাজাতীয় সাম্মাম গাছগুলোতে ঝুলছে শত শত সাম্মাম। গিয়াস উদ্দিন বলেন, 'লাউ ও শসার মতো সাম্মাম গাছেও খুব সামান্য সার ও কীটনাশক দিতে হয়। রোগবালাই তেমন নেই বললেই চলে। তবে ফলের ওজনে লতা ছিঁড়ে পড়ার ভয়ে একটু বড় হওয়ার পরপরই ফলগুলো ব্যাগিং করতে হয়। যাতে নিচে পড়ে না যায় কিংবা পোকামাকড়ে হুল ফোটাতে না পারে।'

গিয়াস উদ্দিন বলেন, 'প্রথম চাষেই প্রচুর সাম্মাম ফলেছে। তবে প্রথম ধাপের সব ফল বিক্রি হলে আবার বীজ বপন করবেন।' তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহে প্রায় ২০০ কেজি সাম্মাম বাজারে বিক্রি করেছেন। অনেকে আকৃষ্ট হয়ে বাড়ি এসে বাগান থেকে সাম্মাম নিয়ে যাচ্ছেন খাওয়ার জন্য। ফল বিক্রেতাদের কাছে পাইকারি দেড়শ' টাকা কেজি দরে এবং খুচরা ক্রেতাদের কাছে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। গিয়াস উদ্দিনের প্রতিবেশী মো. মনিরুজ্জামান জানান, তিনি সাম্মাম খেয়েছেন। পাকা ফ্রুটির ঘ্রাণ সংবলিত ফলটির স্বাদ অত্যন্ত মিষ্টি। রং পাকা পেঁপের মতো।



বরিশাল মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা ফাহিমা হক বলেন, 'সাম্মাম তরমুজ জাতীয় সৌদি আরবের ফল। বরিশালে একমাত্র গিয়াস উদ্দিনই এ ফলের চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় বেশ লাভবান হচ্ছেন তিনি। কারণ, দেশি ফলের চেয়ে সাম্মামের দাম একটু বেশি, উৎপাদন খরচ কম। মাচায় চাষ করতে হয় সাম্মাম। পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণও কম। বরিশালের আবহাওয়া সাম্মাম চাষের জন্য যথেষ্ট অনুকূল। নগরীর ও আশপাশের কৃষকদের সাম্মাম চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।'

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, 'বরিশালে চাহিদা অনুযায়ী ফলের আবাদ কম। তাই কৃষকদের বাণিজ্যিকভাবে দেশি-বিদেশি ফল ও ফসল উৎপাদনে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। গিয়াস উদ্দিন সাম্মাম উৎপাদন করে কৃষি বিভাগের নজর কেড়েছেন। তাকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।'


No comments