চাঁদের ছবি পাঠাল চন্দ্রযানের অরবিটার, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
চাঁদের একগুচ্ছ ‘ক্লোজড শট’ শেয়ার করল ইসরো। বিক্রম চন্দ্রপৃষ্ঠে ভেঙে পড়লেও অরবিটর এখনও সক্রিয়। চন্দ্রযান ২-এর সেই অরবিটারই ছবিগুলি পাঠিয়েছে। হাই রেজোলিউশন ক্যামেরা (OHRC) দিয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে ছবিগুলি তোলা হয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদের মাটিতে সফট ল্যান্ডিং হওয়ার কথা ছিল বিক্রমের। কিন্তু, সফট ল্যান্ডিংয়ের সময় শেষ মুহূর্তে ইসরোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বিক্রম। তাঁর সঙ্গে আর কোনওরকমভাবে যোগাযোগ করা যায়নি। পরে চন্দ্রযানের অরবিটারের মাধ্যমে তাঁর থার্মাল ইমেজ পাওয়া যায়। জানা যায়, নির্ধারিত লক্ষ্যের মাত্র ৫০০ মিটার দূরে হার্ড ল্যান্ডিং হয়েছে বিক্রমের। ক্রমশ আশাহত হতে থাকে দেশবাসী। কিন্তু হাল ছাড়েনি ইসরো। কারণ, অরবিটর তো তখনও সক্রিয়। শেষমেশ সেই অরবিটরই চন্দ্রপৃষ্ঠের কীর্তিকলাপ পাঠান পৃথিবীতে।
অরবিটার চাঁদের দক্ষিণ মেরুর যে ছবি পাঠিয়েছে, তাতে চাঁদের পিঠে পাথর দেখা গিয়েছে। এর স্পেকট্রোমিটার চাঁদের মাটিতে খনিজের সন্ধান তো পেয়েছে। এছাড়া অরবিটার চার্জড পার্টিকলের (প্রোটন-ইলেকট্রন) নিরন্তর বদলও লক্ষ্য করেছে। অরবিটারের লার্জ এরিয়া সফট এক্স-রে স্পেকট্রোমিটারের (CLASS) তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ পিঠে চাঁদের ধুলো বা রেগোলিথের (Regolith) মধ্যে রয়েছে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, সিলিকন, টাইটানিয়াম এবং আয়রনের মতো খনিজ পদার্থ। এর অণু-পরমাণুর মধ্যে নিরন্তর ধাক্কাধাক্কি চলছে। ইলেকট্রনের জন্যই এমনটা হচ্ছে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের। এই রেগোলিথের মধ্যেই মেটাল অবজেক্ট বা ধাতব বস্তুরও চিহ্ন রয়েছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, ল্যান্ডার বিক্রম এই এলাকাতেই কোথাও নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে রয়েছে। যদিও এনিয়ে কোনও স্পষ্ট ধারণা এখনও দিতে পারেনি অরবিটর।

কোন মন্তব্য নেই