নিউজ ফাস্ট

পদ্মার চরে ৩৭ প্রজাতির পাখি

রাজশাহীর পদ্মা নদীর চরে ৩৭ প্রজাতির পাখির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। রোববার করা এক পাখিশুমারিতে এ তথ্য মেলে।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এই জরিপ করে। আইইউসিএন বাংলাদেশের ওয়াইন্ড বার্ড মনিটরিং প্রোগ্রামের আওতায় করা এই শুমারিতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, রাজশাহী বার্ড ক্লাব এবং বন অধিদপ্তর।

সেদিন রাজশাহীর পদ্মানদীর প্রায় ৩৯ কিলোমিটার অংশে পাখিশুমারি করা হয়। চরখানপুর, খিদিরপুর, ১০ নম্বর চর, চারঘাট অংশ ও মধ্যচরে বেশি সংখ্যক পাখি পাওয়া গেছে। এ দিন ৩৭ প্রজাতির মোট ৪ হাজার ২৫টি পাখি গণনা করা হয়। এর মধ্যে ২৭ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ১০০টি পাওয়া গেছে পিয়ং হাঁস। সবচেয়ে বিরল পাখির মধ্যে দেখা গেছে একটি বৈকাল তিঁলিহাঁস।

এ ছাড়া দেশি মেটে হাঁস, লালমাথা ভূতিহাঁস, ইউরেশিয় সিঁথিহাঁস, উত্তুরে খুন্তেহাঁস, উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস, কালা মানিকজোড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, পদ্মার চরে অনেক দুর্লভ প্রজাতির পাখি পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে এ বছরই পদ্মাচরে প্রথম দেখা গেছে পাতি মার্গেঞ্জার। বাংলাদেশে এই পরিযায়ী পাখি অনিয়মিত। সাম্প্রতিককালে এটিকে তৃতীয়বারের মতো দেখা গেল। এর আগে দুইবার এ পাখি ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা গেছে।

আইইউসিএন বাংলাদেশের মুখ্য গবেষক সীমান্ত দীপু বলেন, তারা সাধারণত হাওরাঞ্চলে পাখির শুমারি করেন। তবে এই মৌসুমে রাজশাহী থেকে প্রথম শুমারি করা হলো। রাজশাহীতে পাখিরা বেশ ভালো আছে। এর কারণ, বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। জায়গা অনেক বেশি হওয়ার কারণে পাখিরা এখানে আশ্রয় নেয়। এক চরে অনুকূল পরিবেশ না পেলে আরেক চরে উড়ে যায়।

তিনি জানান, প্রতি বছর ওয়েটল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বব্যাপী পাখির তথ্য প্রকাশ করে থাকে। পাখিশুমারিতে পদ্মার চরে পাওয়া তথ্য ওয়েটল্যান্ড ইন্টারন্যাশনালে পাঠানো হবে।

No comments