করোনাভাইরাসের কারণেই পুঁজিবাজারে ব্যাপক ধস: অর্থমন্ত্রী
করোনাভাইরাসকেই পুঁজিবাজার ধসের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী।
গেল কয়েকদিনে পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক ধসের কারণ হিসেবে করোনাভাইরাসকেই দায়ী বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। ধস ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২শ' কোটি টাকার তহবিল থেকে শেয়ার কেনা হবে বলেও জানান তিনি। ব্যাংকাররা বলছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হবে বিনিয়োগ, তবে ব্যাংকের মালিকরা বলছেন, আগামী বুধবার থেকেই বিনিয়োগে যাবে ব্যাংকগুলো।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে সারাবিশ্বের অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হলেও বাংলাদেশে এর প্রভাব দেখা যায়, দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসার পরপর।
গেল ৮ই মার্চ বিকেলে সে ঘোষণার পর ৯ই মার্চ দিনের শুরুতেই পুঁজিবাজারে ব্যাপক ধসের ঘটনা ঘটে। এরপর প্রায় ধারাবাহিকভাবেই ঘটছে পতন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের এমডি ও চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী।
দীর্ঘ বৈঠক পড়ে ব্যাংকাররা সাংবাদিকদের জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকেই বিনিয়োগ শুরু করবে ব্যাংকগুলো।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রেসিডেন্ট আলী রেজা ইফতেখার জানান, 'ব্যাংকের যে বন্ড কেনা আছে তার বিপরীতে ২শ’ কোটি টাকা পাঁচ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে সরকার। তবে, সব ব্যাংক এখনই শুরু করবে কি না তা এখনই বলতে না পারলেও তিনি জানিয়েছেন খুব শিগগিরই ব্যাংকগুলো এ কার্যক্রম শুরু করবে।
তবে, বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন-বিএবির সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, আগামী বুধবার থেকেই শুরু হবে বিনিয়োগ। তিনি আরও জানান, ৫০টি ব্যাংকই যে ২শ’ কোটি পাবে তা দিয়ে একদিনেই শেয়ার না কিনে ক্রমান্বয়ে কেনা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেই এটা মনিটর করা হবে বলেও জানান নজরুল ইসলাম মজুমদার।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, করোনার কারণেই পুঁজিবাজার ক্রেতা শুন্য। এ অবস্থা থেকে বাজারকে স্থিতিশীল করতে ব্যাংকের মাধ্যমে শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'ব্যাংকগুলো আশ্বস্ত করেছেন তারা বিনিয়োগ করবে। কিভাবে বাজারকে সাপোর্ট দিয়ে আরও গতিশীল রাখা যায় এবং কেউ যেন ভীত সন্ত্রস্ত না হয়ে অল্প দামে শেয়ার বিক্রি না করেন সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে।'
পুঁজিবাজারসহ দেশের আর্থিকখাতের পরিস্থিতি পর্যাবেক্ষণে এখন থেকে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি মাসে একবার বৈঠক করার ঘোষণাও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

কোন মন্তব্য নেই