বিয়ে না করা আর ন্যানোর স্বপ্ন নিয়ে কথা বললেন রতন টাটা
ভারতের বিখ্যাত শিল্পপতি ও জনহিতৈষী রতন টাটা। তিনি এখন অবসরে। অবসর কেমন কাটছে, টাটা ন্যানোর পেছনের স্বপ্ন, কেন বিয়েটা করা হলো না এসব নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন তিনি। হিউম্যানস অব বোম্বে নামে একটি ফেসবুক পেজে কয়েকটি পর্বে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়েছে। শুরুতেই তিনি বলেন, কোম্পানি বড় করাই ছিল আমার জীবনের ধ্যানজ্ঞান। তাকে মানুষকে কিছু ফিরিয়ে দেয়ার তাড়নাটি একেবারে শুরু থেকেই টাটার ডিএনএর মধ্যে ছিল। ৮২ বছর বসয়ী এ মানবদরদী বলেন, ধরুন জামশেদপুরে আমরা যখন কারখানা স্থাপন করলাম। বুঝতে পারলাম, আমাদের কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হচ্ছে কিন্তু আশেপাশের গ্রামগুলোর মানুষের অবস্থা তখনো খুব খারাপ। এরপরই আমরা তাদের জীবমান বদলে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করি।
রতন টাকা এখন টাটা সনসের এমেরিটাস চেয়ারম্যান। টাটা ন্যানোর ধারণাটি এসেছিল তার মাথা থেকেই। ছোট আকারের সুলভ এই গাড়িটি প্রস্তুত করার পেছনে একটাই উদ্দেশ্য ছিল, সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে একটি গাড়ি উপহার দেয়া। তিনি বলেন, আমি একদিন দেখলাম তুমুল বৃষ্টির মধ্যে একটি পরিবারের চার সদস্য মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছে। আমি ভাবলাম, বিকল্প না থাকার কারণে যারা এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে তাদের জন্য আরো কিছু করতে হবে।
খুব কম সময়ের মধ্যেই ন্যানো বাজারে আসে। তবে এ গাড়ি তৈরিতে খরচ তুলনামূলক বেশিই হয়েছিল বলে জানান রতন টানা। তিনি বলেন, কিন্তু আমি তো অঙ্গীকার করেছিলাম এবং আমরা সেটি রক্ষা করেছি। পেছনে ফিরে তাকালে আমি এখনো ওই গাড়িটি এবং এটি নিয়ে সামনে আগানোর সিদ্ধান্তের জন্য গর্ববোধ করি।
আজ থেকে দশ বছর আগে টাটা ন্যানো উন্মোচন করা হয়। ভারতের সবচেয়ে সুলভ গাড়ি ছিল এটি। কিন্তু এ গাড়ি বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি। তাছাড়া বেশ কয়েকবার ইঞ্জিনে আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে টাটা তার বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়েও কথা বলেন । তিনি বলেন, বিয়ে প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কাজের প্রতি অসম্ভব একাগ্রতা সেটিকে পরিণতি পর্যন্ত যেতে বাধা দিয়েছে। দুই তিনবার এ একটা কারণেই তার বিয়ে ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, সব সময় আমি হয় বোম্বে হাউজ নয়তো বাইরে ভ্রমণে থাকতাম। দুই-তিনটা মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ে প্রায় ঠিক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়নি। কারণ বিয়েটা হলে তাকে তার জীবনযাপন পদ্ধতি বদলে ফেলতে হতো, আমার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হতো। আমার সঙ্গে বিয়েটা ঠিক যায় না।
তবে অবসরে যাওয়ার পর জীবনটা সত্যি সত্যিই বদলে গেছে বলে জানান টাটা। এখন আর গলফ খেলা বা সৈকতে বসে ককটেলে চুমক দেয়ার মতো জীবন নেই। জীবনে আরো ভালো কিছু করার আকাঙ্ক্ষাটিা তার এখনো যায়নি।
ব্যয়সাধ্য ক্যানসার চিকিৎসা থেকে শুরু করে গ্রামীণ ভারতের জীবনের উন্নতি করাসহ ইত্যাদি জনকল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছেন রতন টাটা। টাটা ট্রাস্ট ঘিরেই তার এখনকার সব ধ্যানজ্ঞান।
একটি উপদেশ দিয়ে সাক্ষাৎকার শেষ করেন রতন টাটা। তিনি বলেন, উপদেশের কথা ভুলে যাও এবং সঠিক কাজটি করো। এমনকি সেটি তোমার কাঠে কঠিন মনে হলেও। যখন তুমি জীবনের পেছনে ফিরে তাকাবে, এটিই তোমার জন্য জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হয়ে থাকবে। সঠিক কাজটি করো।
রতন টাটা বর্তমানে টাটা গ্রুপের দাতব্য প্রতিষ্ঠান টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান। অবসরের পর দীর্ঘদিন জনসমক্ষে আসেননি এবং প্রায় বিচ্ছিন্ন থেকেছেন তিনি। গত বছরের অক্টোবরে সোস্যাল মিডিয়ায় যোগ দেন তিনি।
সূত্র: হিউম্যানস অব বোম্বে


কোন মন্তব্য নেই