রাজশাহীতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে কঠোর সেনা-পুলিশ
রাজশাহীতে সকাল থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সেনা সদস্যরা। এসময় তারা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ যান চলচলে শৃঙ্খলা ফেরান। এছাড়া নগরীর মনিচত্ত্বর, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, কুমারপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে চেক পোস্টের মাধ্যমে বাহিরে বের হওয়া প্রায় প্রতিটি মানুষকেই জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়। আর নগরের প্রবেশ পথগুলোতেও রয়েছে কঠোর অবস্থানে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অপ্রয়োজনে বাহিরে আসা ব্যক্তিদের বাসায় ফিরিয়ে দেয় সেনা বাহিনীর সদস্যরা। সেই সাথে টিসিবির পণ্য নিতে আসা মানুষদেরও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে লাইনে দাঁড় করান তারা। সেনা সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদেরও কড়া তৎপড়তা ছিলো নগরজুড়ে।
সোমবার রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সকাল ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবির খন্দকারের সভাপতিত্বে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলা নিয়ে আলোচনার ৩ নম্বর বিষয়ে রাজশাহীজুড়ে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত হয়। এর পর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নিদের্শনা দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে।
এছাড়া সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষনের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জনাব জাকির হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব মিরাজ উদ্দিন আহমেদ, সিটি কর্পোরেশনের সচিব আবু হায়াত মোঃ রহমতউল্লাহ, উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ সাজিদ হোসেন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারি পরিচালক ডা. আনোয়ারুল কবির।
এদিকে, রাজশাহীতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে সাতজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হওয়া এই সাতজনের মধ্যে চারজনকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে এবং তিনজনকে হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও করোনা চিকিৎসক সমন্বয় কমিটির আহবায়ক ডা. আজিজুল হক আজাদ। তিনি বলেন, ওই চারজন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তাদের ভাইরাসের উপসর্গ রয়েছে। তবে সেটি জোড়ালো নয়। পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না।
তিনি বলেন, করোনা ওয়ার্ডের চারজনের মধ্যে একজন কিশোরী। তার বাড়ি রাজশাহী চারঘাটে। গত ১০ দিন ধরে সে জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ্য। চারঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি থেকে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্ত করোনা পরীক্ষা না করে এলাকাবাসী তাকে গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছে না। এ কারণে তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
ডা. আজাদ বলেন, জ্বর-সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আরও তিনজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে স্থাপিত পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে রেখে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। যাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হবে না তাদের করোনা ওয়ার্ডে পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

কোন মন্তব্য নেই