করোনার প্রভাবে ইউরোপে জিডিপি বিপর্যয়
করোনা মহামারীর কারণে আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে পুরোবিশ্ব। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলো। ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড- আইএমএফের ইউরোপের দেশগুলোর জিডিপি বিপর্যয়ের একটি পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের পূর্বাভাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাম ইতালি । যাদের জিডিপি কমবে ৯.১ শতাংশ। আইএমএফের তথ্য অনুসারে ২০২০ সালে ৭.৫শতাংশ পতনের হিসেবেই ইউরোজোনে অর্থনীতির চুক্তি হবে।
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতেই করোনা মহামারীর প্রথম আঘাত আসে। বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি বিপর্যয়ে পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য।
ফলে ইতালিতে ২০২০ সালে ৯.১% জিডিপি কমে যাবে। দেশটির কিছু অঞ্চলে ইতিমধ্যে বুকশপ, লন্ড্রি, স্টেশনারী ও শিশুদের কাপড়ের দোকানগুলো খোলা সুযোগ মিলছে। বনজ কর্মী ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্মাতারা কাজে ফিরছেন। তবে সম্পূর্ণ লকডাউন শেষ হবে ৪ঠা মে। ইউরোজোনের দ্বিতীয় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ স্পেন। খুব দ্রুতগতিতেই সেখানে ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস। স্পেনের জিডিপি কমবে ৮%। ইতিমধ্যে দেশটির কিছু কারখানা খোলা হয়েছে এবং নির্মাণকর্মীরা চাকরিতে ফিরে আসছে। তবে বেশিরভাগ দোকান ও পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। অফিসের কর্মীরা এখনও বাড়ি থেকে কাজ করছেন। লকডাউন ২৭ এপ্রিল শেষ হতে চলেছে। তবে সম্ভবত এটি বাড়ানো হবে। ফ্রান্সে জিডিপি কমবে ৭.২%। লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে ১১ই মে পর্যন্ত। এরপরে ক্রমান্বয়ে চার্চ, স্কুলগুলো খোলা হবে পর্যায়ক্রমে। বার, রেঁস্তোরা ও সিনেমাঘর আপাতত বন্ধ থাকবে, কমপক্ষে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবে বড় আকারের জনসমাগম। প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও জিডিপিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়বে জার্মানি। জিডিপি কমবে ৭%। দেশটিতে সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ বাড়ানো হতে পারে ৩ মে পর্যন্ত। তবে স্পোর্টস স্টেডিয়াম ও কনসার্ট হলগুলো বন্ধ রাখা হবে কয়েকমাস। তবে স্কুলগুলো খুলে দেয়ার ব্যাপারে আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে রয়েছে মতবিরোধ। ৭% জিডিপি কমবে অস্ট্রিয়ায়। দেশটিতে ইতিমধ্যে পাবলিক পার্ক, ছোট দোকান, ডিআইওয়াই ও বাগান সরবরাহের স্টোরগুলি কঠোর দূরত্বের নিয়ম মেনে, মুখে মুখোশ পড়ে আবার খোলা হয়েছে। ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ থাকলে সমস্ত স্টোরগুলো ২ মে এবং রেস্তোঁরা গুলো মে মাসের মাঝামাঝি সময় খোলা হবে।
ইউরোপের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাজ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে করোনা ভাইরাস। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। খোদ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বাড়িতে সেল্ফ কোয়ারেন্টাইন শেষে উন্নতি না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আইসিইউতে কাটাতে হয়েছে বেশ কয়েকদিন। করোনার বিস্তার রোধে দেশটিতে ২৩ মার্চ থেকে চলছে লকডাউন। ১৩ মার্চ সে লকডাউনের মেয়াদ শেষ হলেও নতুন ঘোষণা না আসায় তা অব্যাহত রয়েছে। গণমাধ্যমগুলো সরকারের নানা সূত্রের বরাতে জানাচ্ছে, আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে লকডাউন। তারপরও সামাজিক দূরত্বসহ কিছু কিছু বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকবে দীর্ঘসময়। আইনএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, করোনা মহামারীতে যুক্তরাজ্যে ৬.৫% জিডিপি কমবে।
৬.৫% জিডিপি কমবে ডেনমার্কে। দেশটিতে ১৫ই এপ্রিল থেকে পুনরায় ডে-কেয়ার সেন্টার, প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেঁস্তোরা, ক্যাফে বন্ধ করা হয়েছে। আগামী ১০ মে পর্যন্ত ১০ জনের বেশী মানুষের সমাবেশ ও আগস্ট পর্যন্ত বৃহত্তর সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই পরিমান ৬.৫% জিডিপি কমবে চেক প্রজাতন্ত্রে। দেশটি ২০ই এপ্রিল থেকে পাঁচ জুন পর্যন্ত পাঁচধাপে পর্যায়ক্রমে লকডাউন ওপেন করা হবে। ওপেন এয়ার মার্কেট ও ওয়ার্কশপ দিয়েই প্রথমধাপ শুরু হবে। চেক নাগরিকরা এখন স্বল্প পরিসরে বিদেশে যাওয়া-আসা করতে পারবে। নরওয়েতে জিডিপি কমবে ৬.৩%। ২০ এপ্রিল থেকে কিছু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কাজে ফিরবেন এবং কিন্ডারগার্টেনগুলো আবার খুলবে। ২৭ এপ্রিল থেকে হাইস্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বিউটি সেলুনগুলো আংশিক পুনরায় ওপেন করা হবে। সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড রয়েছে তুলনামুলক ভালো অবস্থানে। ৬ শতাংশ জিডিপি কমবে সুইজারল্যান্ডে। এপ্রিলের শেষের দিকে ব্যবস্থা সহজ করার ঘোষণা করবে সরকার। একই পরিমান ৬.০% জিডিপি কমবে ফিনল্যান্ডে। রাজধানী হেলসিঙ্কি অঞ্চলসহ বাইরে ইতিমধ্যে অপরিহার্য যাতায়াতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অন্যান্য সমস্ত বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই