সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সাভার লকডাউন
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ সাভার উপজেলাকে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাভারের সঙ্গে রাজধানীসহ পাশের জেলা ও উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর প্রবেশদ্বার আমিনবাজার বর্ডার, কাউন্দিয়া সীমান্ত, ভাকুর্তার মোগরাকান্দা, বটতলা, হযরতপুর ব্রিজ ও কাশিমপুর সীমান্ত লকডাউন করার জন্য সব ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশ দিয়েছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান জুমন।
সাভার উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীসহ সাভারের আশপাশের উপজেলা ও জেলায় লোকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। ওইসব জেলা ও উপজেলার মানুষ সাভারের ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন। এতে তাদের মাধ্যমে সাভারের লোকজনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। এ কারণে সাভার হয়ে রাজধানীসহ পাশের জেলা ও উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রাজধানীসংলগ্ন সাভারের আমিন বাজারসহ অন্যান্য প্রবেশপথে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজুর রহমান জুমন বলেন, করোনার বিস্তার ঠেকাতে সাভার উপজেলাকে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এখানকার কোনো নাগরিক সাভারের বাইরে যেতে পারবে না। আবার পাশের জেলা ও উপজেলা থেকেও কেউ সাভারে ঢুকতে পারবে না। শুধু পণ্যবাহী গাড়ি ও জরুরি সেবার অন্যান্য পরিবহণ চলতে পারবে।
ইউএনও পারভেজুর রহমান জুমন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, 'সোমবার পর্যন্ত সাভার থেকে করোনা রোগী সন্দেহে ৩১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। আলস্নাহর রহমতে ও সাভারবাসীর দোয়ায় সবই নেগেটিভ এসেছে। সাভারকে করোনামুক্ত রাখতে আমিনবাজার বর্ডার, কাউন্দিয়া সীমান্ত, ভাকুর্তার মোগরাকান্দা, বটতলা, হযরতপুর ব্রিজ, কাশিমপুর সীমান্ত লকডাউন করার জন্য সব ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক ভাইদের আদেশ ও অনুরোধ করা হলো।'
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় ঢাকা ও অন্যান্য সংক্রমিত স্থান থেকে জেলায় জনসাধারণের প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সোমবার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম সোমবার দুপুরে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে লকডাউন ঘোষণা করেন। জেলা তথ্য অফিস জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের বরাত দিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জনস্বার্ধে লকডাউনের ঘোষণা জারি করেন। এদিকে পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসীর তত্ত্বাবধানে লকডাউন মেনে চলতে জনসচেতনায় সারা জেলায় প্রচারণা চলছে। শহরের কাচারী রোড, মোক্তারপাড়া এলাকায় লকডাউনের সচেতনতায় মাইকিং করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এস এম আশরাফুল আলম।
এদিকে আমাদের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মৌলভীবাজার জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সকালে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকাল ৫টা থেকে এ লকডাউন কার্যকর হবে। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মৌলভীবাজার জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময়ে কেউ মৌলভীবাজারে প্রবেশ এবং মৌলভীবাজার থেকে বের হতে পারবেন না। তবে জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই