নারায়ণগঞ্জে পিসিআর ল্যাব বসানোর জন্য গবেষণাগার নেই, বিস্ময় প্রধানমন্ত্রীর - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

নারায়ণগঞ্জে পিসিআর ল্যাব বসানোর জন্য গবেষণাগার নেই, বিস্ময় প্রধানমন্ত্রীর










নভেল করোনাভাইরাসের পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জে একটি পিসিআর ল্যাব বসানোর জন্য কোন গবেষণাগার পাওয়া যাচ্ছে না শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে কি কোন ইন্সটিটিউশন নাই? কিচ্ছু নাই, যেখানে একটা ল্যাব স্থাপন করা যায়? একটা রিসার্স সেন্টার লাগবে। কিন্তু আমি খুব অবাক হচ্ছি যে নারায়ণগঞ্জে কি কোথাও কোনো রিসার্স সেন্টার নাই? তার মানে নারায়ণগঞ্জ সারা জীবন ঢাকার উপর নির্ভর করে চলে আসছে।’

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে নারায়ণগঞ্জ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

ঢাকার পরেই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত জেলা নারায়ণগঞ্জের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী খানপুর ৩০০ শয্যা হাসাপাতালের মেডিসিন বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. শামসুদ্দৌহা সঞ্চয়ের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় এই চিকিৎসক করোনা পরীক্ষার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি তার হাসপাতালে এন-৯৫ মাস্ক একটিও পাননি বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করেন।

ডা. মো. শামসুদ্দৌহা সঞ্চয় বলেন, ‘যেহেতু নারায়ণগঞ্জ আক্রান্ত সংখ্যা বেশি। এটা শিল্পনগরী এবং বন্দরনগরী। প্রচুর বিদেশ ফেরত লোক নারায়ণগঞ্জে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। যাদের তালিকা আমাদের হাতে পুরোপুরি নাই। সেই নিরিখে আমি অবশ্যই দাবি জানাবো যে একটা পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য। যেহেতু আমাদের একটা করোনা হাসপাতাল আছে। নমুনাগুলো সংগ্রহ করে আমাদের ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে এবং রিপোর্ট পেতে দুই দিন লেগে যাচ্ছে। আমার যদি পিসিআর ল্যাব থাকে আমি সকালে সেম্পল কালেক্ট করে সন্ধ্যার মধ্যে রিপোর্ট পেয়ে যাব। এইজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাবি জানাতে চাই, একটি পূর্ণাঙ্গ পিসিআর ল্যাব অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থাপনের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।








তিনি বলেন, এন-৯৫ মাস্ক আমার হাসপাতালে আমি একটাও পাইনি। অথচ আমি কিন্তু করোনা চিকিৎসায় থেমে থাকি নাই। মাস্ক ছাড়াই কিন্তু খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল করো না চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। সেই কারণেই কিনা আমার হাসপাতালে ১৬ জন চিকিৎসক কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত।

এ কথার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চান। সেখানে যুক্ত হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু ঢাকার পরেই আমাদের নারায়ণগঞ্জেই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, ঢাকায় টেস্ট করতে হয়। দ্বিতীয়ত হচ্ছে মাস্ক যেটা...আসলেই তো আমাদের নেই। এটার কী সমাধান আমাদের একটু বলেন।’

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখনো চেষ্টা করছি ওখানে ল্যাব সেটআপ করা যায় কী না। আগে ল্যাব সেটআপ করে তারপর পিসিআর মেশিন আমরা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। পিসিআর মেশিন আমাদের আছে, কিন্তু ল্যাব নেই। আমরা চেষ্টা করেছিলাম মাতুয়াইলে আমাদের যে শিশু হাসপাতাল আছে সেটার ল্যাব ব্যবহার করা যায় কী না। কিন্তু সেটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে আমরা আগে ল্যাব সেটআপ করে পরে পিসিআর মেশিন দেবো। একটু সময় লাগবে। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়লে আমরা সেই ব্যবস্থা করবো।’

তিনি বলেন, ‘এন ৯৫ যে মাস্ক এটা আমেরিকার একটা কোম্পানি বানায়, এটা সারা পৃথিবীতে ঘাটতি রয়েছে এবং নাই। এন ৯৫ -এর সমমানের যে সব মাস্ক আছে সেগুলো আমরা নেওয়ার চেষ্টা করছি। এ সপ্তাহের মধ্যে আরো এভেইলেবল হয়ে যাবে। প্রয়োজনের তুলনায় তো আমাদের সব জায়গায় ঘাটতি। কিছু দেওয়া হয়েছে আবার দিয়ে দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে কী কোনো ইন্সটিটিউশন নাই? কিচ্ছু নাই যেখানে একটা ল্যাব স্থাপন করা যায়? যে কোনো একটা রিসার্স সেন্টার লাগবে। কিন্তু আমি খুব অবাক হচ্ছি যে নারায়ণগঞ্জে কি কোথাও কোনো রিসার্স সেন্টার নাই? তার মানে নারায়ণগঞ্জ সারা জীবন ঢাকার উপর নির্ভর করে চলে আসছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ থেকে আমরা যখন চাহিদার কথাটা শুনেছি। আমরা খুবই চেষ্টা করছি ওখানে একটা পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা যায় কী না। অসুবিধাটা হচ্ছে বাংলাদেশে তো পিসিআর মেশিন এভেইলেবল না। যদি থাকতো তাহলে করা যেতো। আমরা চেষ্টা করছি যতদ্রুত সম্ভব স্থাপনের চেষ্টা করবো। আমাদের যখন যে চাহিদা দেয় আমরা কিন্তু পূরণের চেষ্টা করি। এন-৯৫ মাস্কের সরবরাহ কিন্তু বন্ধ হয়ে গেছে, আমেরিকা বন্ধ করে দিয়েছে। সমমানের মাস্কের যদি সঙ্কট থাকে আমরা তা পূরণ করার চেষ্টা করবো।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ওখানে যতদ্রুত সম্ভব পরীক্ষাটা আপনারা করানোর চেষ্টা করেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে এখন তো আসা যাওয়া খুব কাছে হয়ে গেছে। যত দ্রুত এসে এটা করা যায়। দরকার হলে কিছু লোককে ভাগ করে দেন যাতে নারায়ণগঞ্জেরটা আগে করে দেয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের যারা আছে সংগঠনের প্রত্যেকটি একবারে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি করে দিতে হবে যারা সত্যিকারের অভাবে আছি যারা আমার ভোটার বা আমাকে ভোট দেয় শুধু তাদের নয়। এখানে সাধারণ জনগণ যারা সত্যিকার অর্থে অভাবে আছে তাদের নামের তালিকা করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কাজ করে জনগণের জন্য কে কোন দল করে, কে আমার পক্ষে কে আমার পক্ষে না। কে আমার ভোটার কে আমার ভোটার না সেটা দেখার দরকার নেই। যার অবস্থা খারাপ, দুস্থ ঘরে খাবার নেই তার ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে হবে।








তিনি বলেন, আমি চাই আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা নেতাকর্মী সেই মানসিকতা নিয়ে কাজ করবে, আর সেভাবে কাজ করবে। এখান থেকে সবাইকে ম্যাসেজটা পৌঁছাতে চাই। ইতিমধ্যে আমাদের ম্যাসেজ চলে গেছে। এটা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য; যাতে করে সঠিক নামটা আসে। খাবার থেকে শুরু করে ওষুধপত্র কোন কিছুর অভাব নেই অভাব থাকবে না আমরা সেটার ব্যবস্থা করবো।

কোন মন্তব্য নেই