ভিন্ন এক পরিবেশে এলো এবারের রমজান - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

ভিন্ন এক পরিবেশে এলো এবারের রমজান












ভিন্ন এক পরিবেশে এলো এবারের মাহে রমজান। এমন রমজান এর আগে আসেনি কারও জন্য। মসজিদে ভিড় দেখা যাবে না মুসল্লিদের। উৎসবের আমেজে হবে না ইফতার পার্টির আয়োজন। ঘরে ঘরেই সীমাবদ্ধ থাকবে রমজানের সব আয়োজন। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে পুরো বিশ্ব কার্যত অবরুদ্ধ। এ অবস্থায় সাধারণ কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেকের খাদ্যের অভাব।
এমন দু:সময়ে রমজান অনেকের জন্য এক অবারিত সুযোগও নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সামর্থবানরা অনাহারি, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর এক বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে এই রমজান।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামা ঘনিয়ে আসতেই মসজিদের মাইকে রমজানের আগমনী বার্তার জানান দেয়া হয়েছে। যিনি কথা বলছেন তার কণ্ঠ ভেজা। যেনো অব্যক্ত কান্নার প্রকাশ ঘটছে প্রতিটি কথায়। অনুরোধ করা হচ্ছে, বাসায় তারাবিসহ পাঁচ ওয়াক্তের নামায পড়ার জন্য। বলা হচ্ছে, সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে রোজা রাখার জন্য। মানবজাতির এক চরম দুঃসময়ে এলো রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের পবিত্র মাহে রমজান।







রমজানের শুরুতেই ধর্মপ্রাণ মানুষ মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন, পবিত্র এই মাসের কল্যাণে মরঘাতি করোনা ভাইরাস থেকে পুরো পৃথিবীর মানুষকে যেনো হেফাজত করেন। পুরো পৃথিবী যেনো দ্রুত আবার স্বাভাবিক নিয়মে ফিরে আসে। রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আজ রাতে সেহ্রি খেয়ে রমজানের সিয়াম সাধনা শুরু করবেন। শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের মাধ্যমে পূর্ণ হবে প্রথমদিনের সিয়াম। রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও জননিরাপত্তার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রমজান ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র একটি মাস। এই মাসে সিয়াম সাধনার পর উদযাপিত হবে মুসলিম বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।


রোজাকে আরবি ভাষায় সিয়াম বা সাওম, আর ফার্সিতে রোজা বলা হয়। সাওম অর্থ বিরত থাকা। শরীয়তের পরিভাষায় ফরজ রোজা রাখার নিয়তে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যান্ত পর্যন্ত পানাহার এবং স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকার নাম সাওম বা রোজা। মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন মুমিন বান্দাদিগকে তাঁর কাছে টেনে নেয়ার জন্য এই পবিত্র মাসের রোজাকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাতের এবং তৃতীয় দশ দিন দোজখ থেকে মুক্তির বা নাজাতের। আল্লাহর নির্দেশে আকাশের মেঘমালা বছরের প্রথমে যে বারিধারা বর্ষণ করে থাকে, তাতে মৃত জমিন যেমন সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা হয়ে পৃথিবীকে নবশক্তিতে বলিয়ান করে থাকে। অনুরূপভাবে মাহে রমজানের রোজা মুমিন বান্দাদের আত্মাকে নবশক্তিতে বলিয়ান করে। ইসলামের প্রথম স্তম্ভ নামাজ যেমন মুমিনদেরকে শিক্ষা দেয় শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তী হওয়ার তেমনি মাহে রমজানের রোজা শিক্ষা দেয়, তাক্ওয়া, সহিষ্ণুতা ও সংযম। এক মাস সংযম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মায় নিয়ে আসে এক অনাবিল আনন্দ আর সুখের বার্তা।





কোন মন্তব্য নেই