কাঁচা মরিচের কেজি ২ টাকা, বিপাকে লালমনিরহাটের কৃষকরা - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

কাঁচা মরিচের কেজি ২ টাকা, বিপাকে লালমনিরহাটের কৃষকরা








কাঁচা মরিচ আবাদ করে বিপাকে পড়েছেন লালমনিরহাটের কৃষকরা। মঙ্গলবার কুমড়িরহাট বাজারে দুই শত টাকা মণে এক বস্তা কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে। তবে গ্রাম থেকে শহরের চিত্র একটু ভিন্ন, শহরে খুচরা বাজারে এক কেজি কাঁচা মরিচ ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরের মিশনমোড়ের কাঁচা বাজারে খুচরা মূল্যে ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ।

আদিতমারির কুমড়িরহাটের কৃষক রজব আলী ও আজিজুল ইসলাম জানান, তার এলাকায় সারা বছর তরিতরকারী চাষবাদ হয়। এই সময়ে প্রচুর মরিচ চাষ হয়। এ বছর তারা সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে তাদের প্রায় ২৬ হাজার টাকা। কিন্তু মরিচের দাম নেই। আবাদ করে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

কৃষকরা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশে লকডাউন চলছে। হাটবাজার বন্ধ। পাইকার আসতে পারছে না। তাই কাঁচা মরিচের দাম নেই। অথচ বৃষ্টি হলে কাঁচা মরিচের বাজার চড়া হয়। এবারে উল্টো চিত্র। এক মণ মরিচ বিক্রি করে একজন কৃষি শ্রমিকের মজুরি উঠে না। সরাদিনে একজন শ্রমিক খুব পরিশ্রম করে মরিচ ক্ষেত থেকে তুলতে পারবে খুব জোর দেড় থেকে দুই মণ। এই মরিচ বাজারের নিতে পরিবহন খরচ লাগে। সব মিলে ক্ষেত হতে মরিচ তুলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করে কোনো লাভ নেই। তাই ক্ষেতে মরিচ পঁচে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে প্রতিবেশীদের বলা হয়েছে, যার যতটুকু প্রয়োজন কাঁচা মরিচ ক্ষেত থেকে তুলে নিয়ে যাও। কোনো মরিচ গাছ ভেঙে ফেলো না। যদি দাম ভাল পাওয়া যায়।
একাধিক কৃষক বলেন, আদিতমারির হাট বাজারে ২ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। তবে কষ্ট করে শহরে নিতে পারলে একটু ভাল দাম পাওয়া যায়। কিন্তু উপায় তো নেই, কোনো যানবাহন না থাকায় পানির দরে মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে।

লালমনিরহাটের গোশালা বাজারের কাঁচা বাজারের আঁড়তদারা জানান, বাহির হতে কোনো পাইকার আসে না। আমরাও বাহিরে নিতে পারছি না। কারণ ট্রাক ও ছোট পিকআপভ্যান পাওয়া যায় না। ভাড়া বেশি চায়। কৃষি বাজার তো সারাদিন খোলা থাকে না। সামান্য কিছুক্ষণের জন্য খোলা থাকে। ব্যবসায়ীরা গিয়ে কোথায় থাকবে। কোথায় খাবে।







কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর লালমনিরহাটের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ বলেন, গ্রামাঞ্চল থেকে পন্য সহজেই জেলার বাহিরে পাঠানো কষ্টকর হওয়ায় মরিচের দামে ধস নেমেছে।

গ্রামাঞ্চলে ২-৩ টাকা ধরেই মরিচ বিক্রি হচ্ছে স্বীকার করে এই কৃষি কর্মকর্তা জানান, জেলায় চলতি বছর ৫৩৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে বাম্পার।







কোন মন্তব্য নেই