ভুয়া করোনা রিপোর্টে ছুটি নিচ্ছেন কর্মীরা, সতর্ক করলো এফবিআই
করোনাভাইরাস মহামারীতে বৈশ্বিকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রম। অনেক দেশে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আবার অনেক দেশেই এখনো সীমিত আকারে অফিসের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। কিন্তু এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতির মধ্যেও ঘটছে নানা প্রতারণা।
বিশ্বজুড়ে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা করোনাভাইরাস পজিটিভের ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট দেখিয়ে ছুটি নিচ্ছেন। আর এমন ঘটনা সামনে আসার পর বেসরকারি সেক্টরকে সতর্ক করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের প্রতারণার ফলে পুরো ব্যবসায়ের কার্যক্রম বন্ধ বা সংকুচিত করতে হচ্ছে, যা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে এফবিআই বলেছে, গত মাসে ক্রিটিক্যাল উত্পাদনকারী সংস্থার একজন কর্মী অফিসকে তার কভিড-১৯ পজিটিভ হওয়ার খবর দেন এবং প্রমাণ হিসেবে টেস্ট ফলের কাগজপত্র জমা দেন।
সংস্থাটি এর প্রতিক্রিয়ায় জীবাণুমুক্ত করার জন্য তাদের উত্পাদন ও সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন এবং ওই কর্মীর সঙ্গে যাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল, এমন কর্মীদের কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে ওই কর্মচারীরর কাগজপত্রগুলো পর্যালোচনা করতে গিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ হয় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে সেগুলো ভুয়া। এই কেলেঙ্কারিতে সরবরাহ দিতে না পারায় সংস্থাটির ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের ক্ষতি হয়। এছাড়া ওই কর্মীর পাশাপাশি থাকা এক কর্মীকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভাড়া বাসায় কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়। এতে করে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
গতমাসে মার্কিন ফাস্টফুড কোম্পানি ম্যাকডোনাণ্ডের ১৮ বছর বয়সী এক কর্মীকে কানাডায় গ্রেপ্তার করা হয়। তিনিও একইভাবে কভিড-১৯ আক্রান্তের ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে ছুটি নেন। স্থানীয় পুলিশ জানায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দাবি করা ওই কর্মীর জন্য রেস্তোরাঁটি কয়েকদিন বন্ধ রাখতে হয়েছিল এবং পেশাদার পরিষ্কার সেবাদাতাদের দিয়ে রেস্তোরাঁটি স্যানিটাইজ করতে হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তার এ দাবির জন্য রেস্তোরাঁর গ্রাহক ও কর্মচারীদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
একই অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলিনাতেও কল সেন্টারের এক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনিও কভিড-১৯ আক্রান্তের ভুয়া কাগজ জমা দেন এবং তার এ ভুয়া দাবির কারণে কল সেন্টারটি পাঁচদিন বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
এমন পরিস্থিতিতে এফবিআই পরামর্শ দিয়েছে, কভিড-১৯ এর প্রতারণামূলক দাবির শিকার না হওয়ার জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলোর সচেতন হওয়া এবং নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ। কর্মীদের সরবরাহ করা কাগজগুলো সরবরাহ করা স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই করে নিন। এছাড়া কর্মীদের স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।
সূত্র : সিএনএন

কোন মন্তব্য নেই