করোনায় বাড়িতে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করবেন না: এফডিএ - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

করোনায় বাড়িতে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করবেন না: এফডিএ














কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় বহুল আলোচিত ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের বিষয়ে শুক্রবার এক সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। সংস্থাটি বলেছে, হাসপাতালের বাইরে বা ডাক্তারের তত্ত্বাবধান ব্যতীত করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন বা ক্লোরোকুইন ব্যবহারের ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় জীবনের ওপর হুমকি সৃষ্টি হতে পারে। এ খবর দিয়েছে ডিজিটাল ট্রেন্ডস।

খবরে বলা হয়, কভিড-১৯ রোগ থেকে সেরে উঠার জন্য এই ওষুধ গ্রহণ করলে রোগীদের মধ্যে “গুরুতর হৃৎযন্ত্র সংক্রান্ত জটিলতা ও মৃত্যু”র সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে এফডিএ। এফডিএ কমিশনার স্টিফেন এম. হান এক বিবৃতিতে জানান, “কভিড-১৯ রোগের বিরুদ্ধে এই ওষুধগুলো কতটা নিরাপদ ও কার্যকর, তা নির্ণয়ের জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অব্যাহত আছে। তবে এসব ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যেগুলো বিবেচনা করা উচিৎ। যেসব স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী বিশেষ বিশেষ রোগীকে এই ওষুধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাদেরকে আমরা আহ্বান জানাই যেন ওই রোগিদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়। তাহলেই ওই ঝুঁকি কমতে সহায়ক হবে।”

এফডিএ’র এই ঘোষণা এমন সময় এলো যখন করোনার চিকিৎসায় এই ওষুধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এই ওষুধের প্রচারণা চালিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, এই রোগের চিকিৎসায় কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই ওষুধের।
মেডিকেল তত্ত্বাবধান ব্যতীত এই ওষুধ গ্রহণ করার বিষয়ে এফডিএ’র এই সতর্কতা জারি হলো সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে হাইড্রোক্লোরোকুইন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জল্পনাকল্পনার পর। এ নিয়ে এত বেশি আলোচনা হচ্ছিল যে, টুইটারের মতো কিছু মাধ্যম হাইড্রোক্লোরোকুইন সংক্রান্ত অপ-তথ্য তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।

শুধু এফডিএ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারি সংস্থাও কভিড-১৯ চিকিৎসায় হাইড্রোক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করেছে। দেশটির সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) সম্প্রতি তাদের তথ্য পাতা হালনাগাদ করে এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ প্রত্যাহার করেছে। সংস্থাটি লিখেছে, এখন পর্যন্ত এই ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।







এ মাসের শুরুর দিকে মায়ো ক্লিনিকের একজন কার্ডিওলোজিস্ট জানান, এই ওষুধের এমন প্রচারণার ফলে সম্ভাব্য প্রাণঘাতিমূলক বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। তার এই বক্তব্য সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে, যিনি তার প্রতিদিনের প্রেস ব্রিফিং-এ বার বার হাইড্রোক্লোরোকুইন ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলেছেন।

এই ওষুধ নিয়ে জল্পনা কল্পনা সৃষ্টির নেপথ্যে এফডিএ’রও ভূমিকা রয়েছে। সংস্থাটি মার্চে এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়। কৌশলত জাতীয় মজুত-এর অধীনে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন মজুতের অনুমোদন দেয় এফডিএ। এর ফলে এই ওষুধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাহিদা তৈরি হয়।

মূলত ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহার হয় বেশি। এই ওষুধ মূলত মানুষের ইমিউন সিস্টেমকে ব্যাপক নিষ্ক্রিয় করে। ফলে ইমিউন সিস্টেম আত্মঘাতি পদক্ষেপ নিতে পারে না। এ কারণে অটোইমিউন নামে পরিচিত রোগগুলোর চিকিৎসায় এই ওষুধের উপকারিতা পাওয়া যায়। এফডিএ বলেছে, এই ওষুধগুলোর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সংস্থাটি পর্যবেক্ষণ করে যাবে। আপাতত শুধুমাত্র হাসপাতালের মধ্যে এই রোগীদের এই ওষুধ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হবে।







কোন মন্তব্য নেই