চট্টগ্রামে কাঁচাবাজার খোলা মাঠে স্থানান্তর শুরু - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

চট্টগ্রামে কাঁচাবাজার খোলা মাঠে স্থানান্তর শুরু

নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমনের ঝুঁকি রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে চট্টগ্রাম মহানগরে কাঁচাবাজার খোলা মাঠে স্থানান্তর শুরু করেছে পুলিশ। শুরুতে শুক্রবার চকবাজারের কাঁচাবাজার প্যারেড মাঠে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অবকাঠামো সুবিধা নিয়ে নানা অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

তবে শুক্রবার আবারো জমে উঠেছে প্যারেড মাঠ। এবার খেলতে আসা কোনো শিশু-কিশোরের দল নয়, কাঁচাবাজারের বসেছে এখানে। সারি সারি সবজি, মাছ, ফল আর মাংসের দোকানের সামনে গোল বৃত্তে দাঁড়িয়ে চলছে কেনাকাটা। কিছুক্ষন পর পর পুলিশের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে মাইকিং। মাঝে মাঝে কিছুটা কঠোর হয়েই নির্দেশনা দিচ্ছে পুলিশ। পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ক্রেতারা।

এখানে বাজার করতে আসা রাহাত্তার পুলের বাসিন্দা আজিজুল কদির বলেন, সামাজিক দূরত্ব রক্ষার এই পদ্ধতি খুব ভালো। তবে এজন্য সাধারণকেই মূল ভূমিকা রাখতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা সচেতন না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে দিয়ে সবকিছু তদারকি করা কঠিন।

একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মকর্তা আবুল মনসুর সুমন বলেন, এই উদ্যোগ আরো আগে নেওয়া উচিত ছিলো। কারণ চকবাজারের কাঁচাবাজারটি এমনিতেই সংকীর্ন তাই দূরত্ব রেখে কেনাকাটা করা বেশ কঠিন।



তবে বাজারের অবকাঠামো নিয়ে আপত্তি আছে ব্যবসায়ীদের। খোলা মাঠে বৃষ্টি এলে কি হবে সেটি নিয়ে আছে আতঙ্ক। এর বাইরে পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত তাঁরা। সবজি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, বাজারে পণ্য সাজিয়ে রাখার সঠিক সুযোগ থাকলেও এখানে সেই ব্যবস্থা নাই। বৃষ্টি এলে পন্য নিয়ে কোথায় যাবো সেই চিন্তাও আছে।
শুটকি বিক্রেতা হুমায়ুন বলেন, ভালো করে ছাউনি না দিয়ে এভাবে স্থানান্তর ঠিক হয়নি। পানি সরে যাওয়া নালাও নাই। এরমধ্যে দুপুরে একপশলা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়ে দোকানিরা।

তবে বাজার কমিটি ও পুলিশ বলছে, প্রথমদিনে কিছুটা সমস্যা থাকছে। পরে সমস্যা অনুযায়ী সমাধান বের করা হবে। সবার আগে সংক্রমন রোধ করাটাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

শুক্রবার দুপুরে বাজার পরিদর্শনে এসে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিন) মেহেদী হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে চকবাজারের কাঁচাবাজারকে দিয়ে এই কাজ শুরু করা হয়েছে। ধাপে ধাপে অন্যান্য বাজারও সরিয়ে নেওয়া হবে খোলাস্থানে। তিনি আরো বলেন সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে সামনেও এটি চলমান থাকবে।

চট্টগ্রামে বর্তমানে দুইজন সবজি বিক্রেতাকে করোনাভাইরাস পজিটিভ হওয়ায় আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই