ভাড়ার জন্য চাপাচাপি, বিপাকে ভাড়াটিয়ারা
করোনাভাইরাস যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। নানা আতঙ্ক থাকলেও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ঢাকায় ভাড়াটিয়ারা। বাড়িওয়ালাদের চাপে তারা দিশেহারা। তবে এরকম অভিযোগে নড়চেড়ে বসেছে প্রশাসনসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন।
অভিযোগ উঠছে, করোনাভাইরাসের কারণে সবকিছু বন্ধ। এ কারণে অনেক অফিস মার্চ মাসের বেতন দিতে পারলেও অনেকইে আবার পারেনি। যাদের কাছে টাকা গচ্ছিত ছিল, তাও শেষ হওয়ার উপক্রম। সংসার চালানো দায় হয়ে যাচ্ছে অনেকেরই। কিন্তু এসব সমস্যার মধ্যে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বাড়ি ভাড়া। রাজধানীর বেশিরভাগ পাড়া-মহল্লার ভাড়াটিয়াদের ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বাড়ির মালিকরা। অনেককে জোর করে বের কিংবা বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্যও বলছেন বলে খিলগাঁওয়ে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করা এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) পর্যন্ত বাড়িওয়ালা তার কাছে ৩ বার ভাড়া চেয়েছেন। রাগারাগিও করেন। কিন্তু কি করবো ভাই, হাতে তো এখন টাকা নেই। অফিস না খুললে তো ভাড়া (১৫ হাজার ) দেওয়া সম্ভব না। করোনা আতঙ্কের সঙ্গে এ কারণে মানসিক যন্ত্রণায় আছি।’
শাহজাহানপুরের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাকে তো বাড়িওয়ালা বাসা ছেড়ে দিতে বলেছেন। বিষয়টি আমি স্থানীয়ভাবে সমাধান করলেও, ভয়ে থাকি। কখন না জানি বলে বাসা ছেড়ে দিতে।’
বাসায় থাকা নিয়ে সমস্যা হতে পারে এই ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা তো আর ইচ্ছা করে ভাড়া ধরে রাখি না। করোনার কারণে একটি সংকট চলছে। মানবিক বিচারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু বাড়িওয়ালারা কী করছেন? তাদের ভাড়া চাই। এ কারণে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ করেছেন তারা।
অবশ্য বাড়িওয়ালাদের কেউ কেউ বলছিলেন ভিন্ন কথা। আরামবাগের বাড়িওয়ালা হযরত মিয়া বলছিলেন, অনেকেরই জীবন-জীবিকা এই ভাড়া। ভাড়া না পেয়ে অনেকেই কষ্টে দিন পার করছেন। তারপরও এখন মানবিক হওয়ার কোনও বিকল্প নেই।
‘আমার বাড়ির ভাড়াটিয়াদের সুবিধাজনক সময়ে ভাড়া দিতে বলেছি। কোনও চাপ নেই,’ বলে প্রশ্নে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
অবশ্য এসব অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) মোহা. শফিকুল ইসলাম সতর্ক করে বলেছেন, মহামারির সম্মুখ যোদ্ধা চিকিৎসক-নার্সদের সঙ্গে ফ্ল্যাটের বাসিন্দা, ভাড়াটিয়া ও বিশেষ করে বাসার মালিক বিরূপ আচরণ করলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সরা করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিজ নিজ বাসা, ফ্ল্যাটে রেখে চিকিৎসা ব্যবস্থার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দারা এতে বাধা দিচ্ছেন। এমনকি করোনা রোগীদের চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে বাড়ির মালিকদের বিরূপ আচরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নতুনধারা বাংলাদেশ (এনডিবি) নামে একটি সংগঠন প্রতীকী অনশন করেছে ‘ভর্তুকি দিয়ে বাড়ি ভাড়া অর্ধেক করার জন্য’।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, দুর্নীতি-চুরি থামিয়ে আমজনতার কথা ভেবে ভর্তুকি দিয়ে বাড়ি ভাড়া অর্ধেক করুন। জনগণের ভোগান্তি কমান।
অভিযোগ উঠছে, করোনাভাইরাসের কারণে সবকিছু বন্ধ। এ কারণে অনেক অফিস মার্চ মাসের বেতন দিতে পারলেও অনেকইে আবার পারেনি। যাদের কাছে টাকা গচ্ছিত ছিল, তাও শেষ হওয়ার উপক্রম। সংসার চালানো দায় হয়ে যাচ্ছে অনেকেরই। কিন্তু এসব সমস্যার মধ্যে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বাড়ি ভাড়া। রাজধানীর বেশিরভাগ পাড়া-মহল্লার ভাড়াটিয়াদের ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বাড়ির মালিকরা। অনেককে জোর করে বের কিংবা বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্যও বলছেন বলে খিলগাঁওয়ে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করা এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) পর্যন্ত বাড়িওয়ালা তার কাছে ৩ বার ভাড়া চেয়েছেন। রাগারাগিও করেন। কিন্তু কি করবো ভাই, হাতে তো এখন টাকা নেই। অফিস না খুললে তো ভাড়া (১৫ হাজার ) দেওয়া সম্ভব না। করোনা আতঙ্কের সঙ্গে এ কারণে মানসিক যন্ত্রণায় আছি।’
শাহজাহানপুরের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাকে তো বাড়িওয়ালা বাসা ছেড়ে দিতে বলেছেন। বিষয়টি আমি স্থানীয়ভাবে সমাধান করলেও, ভয়ে থাকি। কখন না জানি বলে বাসা ছেড়ে দিতে।’
বাসায় থাকা নিয়ে সমস্যা হতে পারে এই ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা তো আর ইচ্ছা করে ভাড়া ধরে রাখি না। করোনার কারণে একটি সংকট চলছে। মানবিক বিচারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু বাড়িওয়ালারা কী করছেন? তাদের ভাড়া চাই। এ কারণে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ করেছেন তারা।
অবশ্য বাড়িওয়ালাদের কেউ কেউ বলছিলেন ভিন্ন কথা। আরামবাগের বাড়িওয়ালা হযরত মিয়া বলছিলেন, অনেকেরই জীবন-জীবিকা এই ভাড়া। ভাড়া না পেয়ে অনেকেই কষ্টে দিন পার করছেন। তারপরও এখন মানবিক হওয়ার কোনও বিকল্প নেই।
‘আমার বাড়ির ভাড়াটিয়াদের সুবিধাজনক সময়ে ভাড়া দিতে বলেছি। কোনও চাপ নেই,’ বলে প্রশ্নে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
অবশ্য এসব অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) মোহা. শফিকুল ইসলাম সতর্ক করে বলেছেন, মহামারির সম্মুখ যোদ্ধা চিকিৎসক-নার্সদের সঙ্গে ফ্ল্যাটের বাসিন্দা, ভাড়াটিয়া ও বিশেষ করে বাসার মালিক বিরূপ আচরণ করলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সরা করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিজ নিজ বাসা, ফ্ল্যাটে রেখে চিকিৎসা ব্যবস্থার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দারা এতে বাধা দিচ্ছেন। এমনকি করোনা রোগীদের চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে বাড়ির মালিকদের বিরূপ আচরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নতুনধারা বাংলাদেশ (এনডিবি) নামে একটি সংগঠন প্রতীকী অনশন করেছে ‘ভর্তুকি দিয়ে বাড়ি ভাড়া অর্ধেক করার জন্য’।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, দুর্নীতি-চুরি থামিয়ে আমজনতার কথা ভেবে ভর্তুকি দিয়ে বাড়ি ভাড়া অর্ধেক করুন। জনগণের ভোগান্তি কমান।

কোন মন্তব্য নেই