নিউজ ফাস্ট

বাধা উপেক্ষা করে ঢাকা ছাড়তে মরিয়া মানুষ







একদিকে করোনাভাইরাস আতঙ্ক, আরেকদিকে 'সুপার সাইক্লোন' আম্পানের প্রবল আঘাত হানার আশঙ্কা- সব মিলিয়ে ভয়াবহ এক দুঃসময়। এর পরও ঈদ সামনে রেখে থামানো যাচ্ছে না গ্রামমুখী মানুষের ঢল। ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধির নূ্যনতম নির্দেশনাও মানছে না কেউ। নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ঢাকা ছাড়ার পথগুলোতে বসানো পুলিশের ব্যারিকেড পার হচ্ছে মানুষ। চলমান পরিস্থিতিতে পুলিশের মানবিকতারও সুযোগ নিচ্ছে তারা।






আগের দু'দিনের মতো গতকাল মঙ্গলবারও ঢাকা ছাড়তে হাজারো মানুষ ছুটে গেছে গাবতলী-আমিনবাজার, উত্তরার আবদুল্লাহপুর, খিলক্ষেতের ৩০০ ফুট সড়ক, যাত্রাবাড়ী-সুলতানা কামাল সেতু, পোস্তগোলা ও বাবুবাজার ব্রিজের দিকে। ঢাকায় প্রবেশ আর বের হওয়ার এই পথগুলোতে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তবে এদিন বেশিরভাগ মানুষকে আবার বাসায় ফেরত যেতে হয়েছে। এসব পয়েন্টে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, ঢাকা ছাড়তে চাওয়া মানুষের ভিড় গতকালও ছিল। কিন্তু তা আগের দু'দিনের তুলনায় কম।
গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল ছিল চোখে পড়ার মতো। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ঢিলেঢালা ভাব থাকায় কোথাও কোথাও যানজটও সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে গতকাল সকালে মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড় থেকে গাবতলী পর্যন্ত গাড়ির দীর্ঘ জট দেখা দেয়।
এই চিত্র দেখে দায়িত্বশীলদের কেউ কেউ মন্তব্য করেন, এখন ঢাকার রাস্তায় ঘুরলে মনেই হবে না, দেশে প্রতিদিন হাজারের ওপরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে, মারা যাচ্ছেন ১৫ থেকে ২০ জন করে! নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাড়ি যাওয়া আর কেনাকাটা করতে বের হয়ে নিজের অজান্তেই প্রাণঘাতী এই ভাইরাস বহন করে ফিরছে লোকজন। আর তা ছড়িয়ে যাচ্ছে তাদেরই স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
গতকাল সকাল থেকে গাবতলী বাস টার্মিনালের অদূরে আমিনবাজার ব্রিজের কাছে পুলিশ শক্ত ব্যারিকেড দেয়। ওই পথে কোনো গাড়িই বের হতে দেওয়া হয়নি। এতে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় থাকা তৈরি পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন কারখানার কর্মকর্তারাও আটকা পড়েন। নানা প্রমাণ দিয়ে তারা ব্যারিকেড পার হতে পারলেও ততক্ষণে যানজটে পড়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য আটকা থাকতে হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক-পশ্চিম বিভাগের সহকারী কমিশনার কে এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ জানান, জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়ি ছাড়া কোনো গাড়িই গাবতলী পার হতে পারছে না। অত্যন্ত জরুরি কাজ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়িগুলোকেও বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। এর পরও কিছু মানুষ হেঁটে ব্যারিকেড পার হয়ে নানা বাহনে চড়ে ঢাকা ছাড়ছে।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের দারুস সালাম জোনের অতিরিক্ত এডিসি মাহমুদা আফরোজ লাকী বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে মানুষকে নানাভাবে বোঝানো হচ্ছে, এর পরও কিছু লোক ঈদ সামনে রেখে ঢাকা ছাড়ার চেষ্টায় আছে। পুলিশ চেষ্টা করছে তাদের থামাতে; তবে সবাইকেই সচেতন হতে হবে।
ঢাকার অন্যতম প্রবেশ ও বাহিরপথ বাবুবাজার ও পোস্তগোলা ব্রিজে গতকালও গ্রামমুখী মানুষের স্রোত ছিল। কিন্তু পুলিশের কড়াকড়ির কারণে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক-চালকরা অযথা ব্যারিকেড পার হতে পারেননি। আবার নানা কৌশলে ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের শ্যামপুর জোনের এডিসি নাজমুন নাহার বলেন, গত দুদিনের তুলনায় পোস্তগোলা দিয়ে এদিন মানুষের চাপ কম ছিল। মূলত ওই পথে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ যাতায়াত করলেও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মাওয়া ফেরিঘাট দিয়ে সব যানবাহন পারাপার বন্ধ রয়েছে। এ জন্য মানুষ আর বাড়িমুখী হওয়ার তেমন সুযোগ পায়নি।
তিনি বলেন, পোস্তগোলা ব্রিজ দিয়ে একান্ত জরুরি কাজ ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি যাতায়াত করতে পারছে না। তবে পণ্যবাহী গাড়ি, ওষুধ ও জরুরি সেবার গাড়ি চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার ইলিয়াস হোসেন বলেন, গত রোববার ও সোমবার বাবুবাজার ব্রিজের সামনে ঘরমুখো মানুষের যে রকম চাপ ছিল, মঙ্গলবার সেটা কমে এসেছে। পুলিশও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অযথা কাউকে ঢাকা ছাড়তে দেওয়া হচ্ছে না।
জানা গেছে, উত্তরার আবদুল্লাহপুর আর যাত্রাবাড়ী পয়েন্ট দিয়েও মানুষ ঢাকা ছাড়ার চেষ্টায় ছিল। তবে পুলিশের কড়াকড়িতে বেশির ভাগেরই বাসায় ফিরে যেতে হয়েছে। তা ছাড়া ব্যারিকেডের আশপাশেও পুলিশ কোনো যানবাহন থাকতে দিচ্ছে না। ফলে চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যারিকেড পার হলেও ধারেকাছে যানবাহন না পেয়ে ভোগান্তিতেই পড়তে হচ্ছে গ্রামমুখী মানুষকে।







No comments