নিউজ ফাস্ট

উত্তরাঞ্চলে বন্যার উন্নতি খাদ্য-চিকিৎসা সংকট















উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস মিলেছে। তবে কত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ অবস্থায় আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়া পানিবন্দি মানুষ খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে পড়েছে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করছেন আবহাওয়া কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে কোথাও কোথাও পানির চাপ আছে। এদিকে, চট্টগ্রামে থেমে থেমে ভারি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

গাইবান্ধা :গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তা নদীর পানি কমে যাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখঘাটে গতকাল সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এদিকে করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলায় অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

গত রোববার বিকেল ৩টা থেকে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৬২ সেন্টেমিটার। তবে এখনও এ নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন জানায়, এবারের বন্যায় সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৮৬৫ পরিবার। ৩৬ কিলোমিটার রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে।

নীলফামারী ও জলঢাকা : তৃতীয় দফায় শনিবার বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও গতকাল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে নীলফামারীর তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে। তিস্তার তীরবর্তী ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। তবে বন্যার কারণে প্রায় ১০ একর জমির ভুট্টা ও ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, চার ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তবে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় নীলফামারীর তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও ছয়টি উপজেলায় পানিবন্দি মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সোমেশ্বরী, মগড়া, উদ্ধাখালী, ধনুসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, বারহাট্টা, পূর্বধলা, আটপাড়া ও মোহনগঞ্জে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। গত দু'দিনে নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে শঙ্কিত মানুষ।

চট্টগ্রাম : থেমে থেমে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলা। দুর্ভোগে পড়েন সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। ভারি বর্ষণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পতেঙ্গা কার্যালয় জানায়, সোমবার বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বাকলিয়া সৈয়দ শাহ রোড, বাকলিয়ার অধিকাংশ এলাকায় হাঁটুপানি জমে যায়। বস্তি এলাকায় মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে।

No comments