স্ট্রোকের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
লক্ষণ : হঠাৎ করে শরীরের একাংশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা ও বমি হওয়া, হঠাৎ অজ্ঞান হওয়া অথবা কথা জড়িয়ে যাওয়া বা একেবারেই কথা বলতে না পারার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। স্ট্রোক হলে মাথা ঝিমঝিম করে, প্রচ- মাথাব্যথার সঙ্গে ঘাড়, মুখ ও দুই চোখের মাঝখান পর্যন্ত ব্যথা হয়। হাঁটতে বা চলাফেরা করতে এবং শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমস্যা হয়। কথাবার্তা জড়িয়ে যায়, অস্পষ্ট শোনায়। শরীরের একপাশ দুর্বল, অসাড় কিংবা দৃশ্য দুটি দেখা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।
চিকিৎসা : স্ট্রোকের ধরন ও প্রকারভেদ অনুসারে স্ট্রোকের চিকিৎসা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। ইসকেমিক স্ট্রোকের (মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে বা শরীরের কোনো অংশ বিশেষ করে হৃৎপি- থেকে জমাটবাঁধা রক্ত মস্তিষ্কের রক্তনালিতে এসে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যে স্ট্রোক হয়) ক্ষেত্রে রোগীকে যদি তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে যদি হাসপাতালে নিয়ে আসা যায়, তা হলে থ্রম্বোলাইসিস (ইনজেকশনের মাধ্যমে জমাটবদ্ধ রক্ত গলিয়ে ফেলা) এবং থ্রমবেকটমির (স্টেন্টের মাধ্যমে জমাটবদ্ধ রক্ত বের করে নিয়ে আসা) মাধ্যমে কিছু রোগীর চিকিৎসা করা সম্ভব।
হেমোরেজিক স্ট্রোকের (মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে গিয়ে মস্তিষ্কের ভেতর রক্ত ছড়িয়ে পড়লে) ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি সার্জারি, সার্জিক্যাল ক্লিপিং অথবা কয়েলিংয়ের মাধ্যমে চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে স্ট্রোকের চিকিৎসা সম্পূর্ণ নির্ভর করে রোগীর অবস্থা, স্ট্রোকের ধরন এবং রোগী কত দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছিয়েছে, তার ওপর। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস নিতে সমস্যা হলে মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দিতে হবে। বমি হলে মাথা একদিকে কাত করে দিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো খাবার বা পানি খাওয়ানো যাবে না। অজ্ঞান রোগীর ক্ষেত্রে শ্বাসনালি, শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্ত সঞ্চালন নিয়মিত রাখতে হবে। রোগীকে একদিকে কাত করে শোয়াতে হবে।
কারণ : পুরুষের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। উচ্চ রক্তচাপ, বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস, হৃদরোগী, অতিরিক্ত মোটা ব্যক্তিরা স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। পরিবারে কারও স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে, ধূমপান বা অ্যালকোহলজনিত এবং হৃৎপি-ের সমস্যা থাকলে, কোনো হরমোন থেরাপি বা জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ সেবন করলে, আগে স্ট্রোক অথবা টিআইএ হয়ে থাকলে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
প্রতিরোধ : নিয়ম মেনে চললে স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেমন- অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার না খাওয়া এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা, প্রতিদিন কিছু শারীরিক পরিশ্রম বা সময় করে হাঁটা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, শাকসবজি, ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, শুঁটকি মাছ, দুধ, ভূসিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া।

কোন মন্তব্য নেই