চতুর্থবারের মতো বাড়ছে ভোলার ৩৪.৫ মেগাওয়াট ভাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ
জানা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে ২০০৮ সালের ১৬ জানুয়ারি চুক্তি করা এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০০৯ সালের ১২ জুলাই থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরু করে। সে হিসেবে তিন বছর মেয়াদী ভাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১২ সালের ১১ জুলাই। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভোলা অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা বিবেচনায় পরবর্তীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মেয়াদ তিন দফায় (২+২+৩) মোট ৭ বছর বাড়ানো হয়। অর্থাৎ ভাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে গত দশ বছর ধরে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে।
জানা যায়, অনুষ্ঠেয় ক্রয় কমিটির বৈঠকে ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বর্ধিত সময়ে বিদ্যুৎ ক্রয়ের জন্য নতুন ট্যারিফ হারও নির্ধারণ করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নতুন মেয়াদে ট্যারিফ হার আগের তুলনায় কমছে। এতে দুই বছরে সরকারের প্রায় ৮ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
সূত্রমতে, বর্ধিত মেয়াদে ২০১৯ সালের ১২ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ২১ জুন পর্যন্ত ট্যারিফ হার প্রস্তাব করা হয়েছে প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা ৩ টাকা ৭ পয়সা (৩.৮৪ সেন্ট) এবং ২০২০ সালের ২২ জুন থেকে ২০২১ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা বিদ্যুতের ট্যারিফ হার প্রায় ২ টাকা ৮০ পয়সা (৩.৪৯৯ সেন্ট) প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ৮৪ টাকা হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবে ডলার প্রতি বিনিময় হার ৮০ টাকা ধরে হিসাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে মাস ভিত্তিতে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের গড় ক্রয় মূল্য বর্তমানে ১৩ ডলার। নতুন বর্ধিত মেয়াদে এই দর কমিয়ে ১২ ডলার ও পরে ১০ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ভোলা অঞ্চলে বর্তমানে বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৭৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে পটুয়াখালীর আংশিকসহ ভোলা সদর, বাংলাবাজার ও পরানগঞ্জের চাহিদা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট। এটি সরবরাহ করে ‘ভেঞ্চার এনার্জি রিসোর্সেস লিমিটেড’। নতুন বর্ধিত সময়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪০ মেগাওয়াটে উন্নীত করবে বলে জানা যায়। জানা যায়, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে ভোলা অঞ্চলের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ভোলায় একটি ২৩০/৩৩ কেভি ও ১২০/১৪০ এমভিএ ট্রান্সফরমার স্থাপনে ‘পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড’ (পিজিসিবি) ইতিমধ্যেই দরপত্র আহবান করেছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাজনিত কারণে এর নির্মাণ কাজ শেষ হতে পিজিসিবি’র হিসাবে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আর ততদিন পর্যন্ত এ ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু রাখা দরকার। এটি চালু হলে ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াই সমগ্র ভোলা অঞ্চলে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

কোন মন্তব্য নেই