মধ্যম আয়ের ফাঁদ অতিক্রম করে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধি ও এসডিজি অর্জন করতে হবে : জিইডি - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

মধ্যম আয়ের ফাঁদ অতিক্রম করে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধি ও এসডিজি অর্জন করতে হবে : জিইডি


জাতিসংঘ একটি দেশের মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা বিবেচনা করে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি), উন্নয়নশীল এবং উন্নত দেশ হিসেবে শ্রেণীকরণ করে থাকে। জাতিসংঘের উন্নয়ননীতি বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি (সিডিপি) প্রতি তিন বছর পরপর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের উত্তরণ ঘটে। এ তিনটি সূচকের মধ্যে যে কোনো দুটিতে পরপর দুটি পর্যালোচনায় (ছয় বছর) উত্তীর্ণ হলে তাকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ।

সিডিপির বিশ্লষণ অনুযায়ী, মাথাপিছু আয় এক হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার, মানবসম্পদ সূচকে স্কোর ৬৬ বা তার বেশি এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে স্কোর ৩২ এর নিচে থাকতে হয়। এক্ষেত্রে সুখবর হচ্ছে, বাংলাদেশ এ তিনটি সূচকেই নির্ধারিত মান অর্জন করেছে। সূচক তিনটির মধ্যে কমপক্ষে দুটির মান টানা ছয় বছর জাতিসংঘের নির্ধারিত মানদ-ের ওপরে থাকতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি দেবে জাতিসংঘ। মানবসম্পদের ক্ষেত্রে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার, স্বাক্ষরতা হার ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়। আর অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের ক্ষেত্রে অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান, রফতানি বহুমুখীকরণ, উপকূলীয় অঞ্চলের জনসংখ্যার অনুপাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি ইত্যাদি বিবেচনায় নেওয়া হয়।

এক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) নিম্ন আয়ের দেশ থেকে এসডিজি-১ অর্জনে কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথা বলেছে। চ্যালেঞ্জগুলো হলোÑসম্পদ সংগ্রহ, বিশেষ করে বৈদেশিক উৎস থেকে সম্পদ সংগ্রহ করা। জাতীয় অর্থায়ন কৌশল বাস্তবায়নের জন্য সম্পদ বাড়ানোর প্রক্রিয়াকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর স্থাপন এবং জুতসই প্রচেষ্টার পাশাপাশি লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে যথার্থতা অবলম্বন। সম্প্রতি জিইডি টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট: বাংলাদেশ অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২০ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যম আয়ের ফাঁদ বাংলাদেশের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের (এলএমআইসি) মর্যাদা লাভ করে। এখন যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো এ মধ্যম আয়ের ফাঁদ অতিক্রম করে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধি ও এসডিজি-১ বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হওয়া। এজন্য এসডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা জরুরি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জিইডির সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, জাতীয় উচ্চ দারিদ্র্য রেখা ও নিম্ন দারিদ্র্য রেখার নিচে অবস্থানকারী জনসংখ্যার হার স্থিতিশীলভাবে কমছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে উচ্চ দারিদ্র্য রেখার নিচে বসবাসকারী জনসংখ্যার অনুপাত ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি নিম্ন দারিদ্র্য নেমে এসেছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশে। ঘাতসহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ত্বরিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কিন্তু, চলমান কোভিড-১৯ মাহামারী দারিদ্র্য নিরসনের গতির ক্ষেত্রে অন্যতম চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দারিদ্র্য বিশেষ করে চরম দারিদ্র্য অত্যন্ত জটিল এবং বহুমাত্রিক সমস্যাগুলোর একটি। এ থেকে উত্তরণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সমন্বয়ে প্রত্যেক দেশের জন্য নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, হতদরিদ্র মানুষ সবসময় পিছিয়ে থাকে এবং অনুকূল পরিবেশের অভাবে অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনা। চরম দারিদ্র্যের অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব কোন পছন্দ বা সুযোগ প্রাপ্তির সক্ষমতা থাকেনা। তারা মৌলিক মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত এবং সমাজের কর্মকান্ডে কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারেনা। হতদরিদ্র মানুষ যেসব সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করে, তারমধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়া, পর্যাপ্ত খাদ্য ও পোষাকের অভাব, জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজের অভাব অথবা খাদ্য উৎপাদনে জমির সংকট এবং ঋণ প্রাপ্তিতে অক্ষমতা। এসবের অর্থ হলো ক্ষমতাহীনতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং পরিবার ও সমাজ থেকে বিযুক্তি। এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মুখোমুখি হয়ে প্রান্তিক পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হন এবং সুপেয় পানি ও পয়ঃনিস্কাশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।


কোন মন্তব্য নেই