সমীক্ষা না করায় যশোর-মাগুরা ৪ লেন প্রকল্প ফেরত পাঠালো পরিকল্পনা কমিশন
সওজ এর প্রস্তাব অনুসারে এই প্রকল্পের মাধ্যমে যশোর জেলার সদর ও ভাঘারপাড়া উপজেলা এবং মাগুরা জেলার সদর শ্রীপুর, শালীখা উপজেলায় বিদ্যমান জাতীয় মহাসড়কটিকে ৪ লেনে উন্নীত করা হবে। এজন্য সড়কের দুপাশের ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউলিটি স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করতে ২ হাজার ২৩০ কোটি ৬৯ লাখ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব পাঠায় সওজ। সরকারের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই কাজ সম্পাদন হবে। এর আগে ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর প্রকল্প প্রস্তাবটির উপর প্রথম পিইসি সভা হয়েছিল। ঐ সভাতেও প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপির বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছিলো পরিকল্পনা কমিশন। এখন আলোচ্য প্রকল্পের উপর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সভাতেও প্রকল্পের বিভিন্ন কম্পোনেন্টের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহকে তাদের মধ্যমেয়াদি বাজেট।
কাঠামোর (এমটিবিএফ) আওতায় প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণের অর্থবছরে বরাদ্দকৃত সিলিং এর মধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এমটিবিএফ বাজেটের মধ্যে সংকুলান করা
সম্ভব হবে কি নাÑতা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের ২০২০-২১ অর্থবছরের এমটিবিএফ সিলিংসহ অন্যান্য তথ্য ও উপাত্ত হালনাগাদ করতে হবে।
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে মাগুরা অংশের জন্য ডিসি কার্যালয় হতে ব্যয় প্রাক্কলনের প্রত্যয়ন সংগ্রহ করা হলেও যশাের অংশের প্রত্যয়ন সংগ্রহ করা হয়নি। যা সংগ্রহপূর্বক ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়ােজন বলে মনে করে কমিশন।
প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পাদন করা হয়নি। তবে প্রজেক্ট এপ্রেইজল রিপোর্ট প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের গুরুত্ব ও প্রাক্কলিত ব্যয় বিবেচনায় অবশ্যই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পাদন করতে বলেছে কমিশন।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদকাল এপ্রিল ২০১৯ হতে জুন ২০২১ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প শুরুর তারিখ ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হওয়ায় বাস্তবায়ন মেয়াদকাল যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, প্রকল্পের ইউটিলিটি স্থানান্তর বাবদ ২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা থােক হিসেবে রাখা হয়েছে। বাস্তবতায় দেখা যায় ইউটিলিটি স্থানান্তরের পাশাপাশি নির্মাণ কাজ শুরু না হলে পুনরায় তা বিভিন্নভাবে বেদখল হয়ে পড়ে। তাছাড়া, বাস্তবে কোন সংস্থার কি পরিমাণ ইউলিটি স্থানান্তর প্রয়োজন তা সরেজমিন তদপ্তপূর্বক নির্ধারণ করাই সমীচীন। কাজেই এ অধিগ্রহণ প্রকল্প হতে ইউটিলিটি স্থানান্তর কার্যক্রমটি বাদ রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার ৫৮৭টি কনক্রিট গাইড পোস্ট এর জন্য ১৩০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু কনক্রিট গাইড পোস্টের সংখ্যা নির্ধারণ ও ব্যয় প্রাক্কলনের ভিত্তির বিষয়ে সওজকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের মতামতের প্রেক্ষিতে সওজ বলছে, প্রকল্পের ওপর ২০১৯ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রকল্প হতে মাগুরা শহর বাইপাস নির্মাণ অংশটি বাদ দেয়ার বিষয়ে বিবেচনা করতে হবে। উক্ত সিদ্ধান্তের আলোকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে একটি পর্যালােচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রস্তাবিত মাগুরা লিংক অংশটি যথাসম্ভব দূরত্ব কমিয়ে নির্মাণের সংস্থান রেখে সরেজমিন পুন:পরিদর্শনপূর্বক প্রণীত প্রকল্পের পুনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করতে হবে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পে প্রস্তাবিত মাগুরা বাইপাস অংশটির যথাসম্ভব দূরত্ব কমিয়ে বাইপাস অংশটি বহাল রেখে পুনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। পর্যালােচনায় দেখা যায়, প্রথম পিইসি সভায় উপস্থাপিত ডিপিপিতে ৫১১.২২ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ১ হাজার ৯৫৬ কোটি ২৯ লাখ টাকার বরাদ্দ দাবি করা হয়েছিল। পুনর্গঠিত ডিপিপিতে ৫২৮.৭৫ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ২ হাজার ২০১ কোটি ৭১ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।
এক্ষেত্রে বাইপাস অংশের দূরত্ব কমানাে হলেও ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ও ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন। এছাড়া বাইপাস নির্মাণ ব্যতীত আলোচ্য মহাসড়কের মূল এলাইনমেন্ট বরাবর উভয় পাশে সার্ভিস লেনসহ ৬ লেনে উন্নীত করা হয় সেক্ষেত্রে কি সমস্যা হতে পারে তা সওজ অধিদপ্তরকে পরিকল্পনা কমিশনে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই