নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঢেউ - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঢেউ




নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাসপুরে বাড়িতে ঢুকে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন মামলার প্রধান আসামি বাদলকে ৭ দিন এবং ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে ২ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাসফিকুল হক এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তকারী অফিসার বেগমগঞ্জ থানার এসআই মোস্তাক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার একই আদালত এ মামলায় গ্রেপ্তার মো. আব্দুর রহিম ও রহমত উলস্নাহর তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


এছাড়া ঘটনার মূল হোতা দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেনকে (২৬) অস্ত্র মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে প্রেরণ করলে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালত দেলোয়ারের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দেলোয়ারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার মাছের খামার থেকে ৭টি তাজা ককটেল ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছের্ যাব।


বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৫ নম্বর আসামি সাজুকে সোমবার রাতে ঢাকার শাহবাগ থেকে এবং ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে তার বাড়ির এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহাগ এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও আদালতে ভুক্তভোগীর দেওয়া জবানবন্দিতে নাম আসায় তাকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।


এদিকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন এবং মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল মাহামুদ ফয়জুল কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের প্রত্যেককে আসামি করা হবে। অপরাধীদের কাউকে কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না।


এদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনসহ সারা দেশে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজধানীর কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ, মিছিল ও গণঅবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুরসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর, জেলা শহরে ধর্ষণ-নির্যাতনকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীতে মশাল মিছিল করেছে ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন।


ধর্ষণবিরোধী গণজমায়েত নিয়ে রাজধানীর শাহবাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অভিমুখে রওনা হওয়া কালো পতাকা মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশি বাধায় পন্ড হয়ে যায়। এসময় মিছিলকারী ও পুলিশের মধ্য ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ছাত্র ইউনিয়নের ৫ থেকে ৭ জন কর্মী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি সমাবেশ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হয়ে গণঅবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে বামধারার কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের সমর্থক শিক্ষার্থীরাও ছিলেন। দুপুর ১টা ২৬ মিনিট থেকে 'ধর্ষকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ' ব্যানারে ধর্ষণবিরোধী মিছিল শুরু হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে এলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। পরে সেখানে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে আন্দোলনকারীরা। দুপুর দুইটার দিকে সড়ক ছেড়ে দিয়ে তারা শাহবাগে চলে যান।


এর আগে বেলা ১২টা থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে কালো পতাকা মিছিল-পূর্ব বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন তারা। জমায়েত থেকে 'আমার মাটি আমার মা, ধর্ষকদের হবে না' ইত্যাদি ধর্ষণবিরোধী বিভিন্ন স্স্নোগানে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গণঅবস্থান থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠেছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনগুলো। একই সাথে তারা প্রতিবাদ সমাবেশও করে। সমাবেশ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সরকার তরুণদের নেশার মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছে। এসব তরুণ নানাভাবে নারীদের ওপর ধর্ষণ, নির্যাতন অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অপরাধীর মধ্যে কাউকে কাউকে আইনের আওতায় আনা হলেও সুবিধামতো সময়ে তারা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। এভাবে একের পর এক ঘটনা ঘটে গেলেও অপরাধীদের উপযুক্ত বিচার হচ্ছে না। একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জয়ের আলো, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র, সোনাইমুড়ি জনকল্যাণ সমিতি এবং বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতি মানববন্ধন করে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি : 'সন্ত্রাস ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়' ব্যানারে শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন পদযাত্রা করেন। এ কর্মসূচির আয়োজন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পদযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, আদালত এলাকা, জনসন রোড, রায়সাহেব বাজার ঘুরে বাহাদুর শাহ পার্ক, কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ঘুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা দুই সারিতে সারিবদ্ধ হয়ে পদযাত্রাটি করেন। এতে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

আসাদগেটে মানববন্ধন : একই ঘটনার প্রতিবাদে ৯০ দিনের মধ্যে জড়িতদের ফাঁসি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রিন ভয়েস। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় এক ঘণ্টার মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা। একই দাবিতে সোচ্চার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি ধর্ষণ ধামচাপা দিতে যারা সমঝোতা করে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। প্রয়োজন হলে আলাদা ট্রাইবু্যনাল করে জনম্মুখে বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি।

উত্তরার শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ : সিলেটে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে তরুণী ধর্ষণ, নোয়াখালীতে নারীর ওপর নির্মম নির্যাতনসহ সারা দেশে ধর্ষণ-নিপীড়নের প্রতিবাদে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীর উত্তরায় সড়কে মানববন্ধন-বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে থেকে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেয় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মাইলস্টোন কলেজ, উত্তরা হাইস্কুল, নবাব হাবিবুলস্নাহ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই কর্মসূচিতে যুক্ত হন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে বিএনএস সেন্টারের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা বিভিন্ন পস্ন্যাকার্ড, ব্যানারসহ ধর্ষণবিরোধী নানা লেখা নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন। এ সময় তারা ধর্ষকের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্স্নোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বিভিন্ন পস্ন্যাকার্ডে লেখা রয়েছে- 'ধর্ষণমুক্ত দেশ চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই', 'নারী কোনো পণ্য নয়, নারী কোনো ভোগ্য নয়' প্রভৃতি। শিক্ষার্থীরা স্স্নোগান দেন, 'আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকের ঠাঁই নাই' প্রভৃতি।

শাবিপ্রবিতে মানববন্ধন : সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদ জানিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃতু্যদন্ডের দাবি জানান তারা। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বৃষ্টি উপেক্ষা করে 'শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীবৃন্দ' ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী লেখা সংবলিত পস্ন্যাকার্ড বহন করেন। 'দাবি মোদের একটাই, ধর্ষণের শাস্তি মৃতু্যদন্ড চাই', 'আর কোনো দাবি নাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই', 'করোনার ভ্যাকসিন নয়, আগে ধর্ষণকারীদের ভ্যাকসিন চাই', '১৯৭১ সালে ধর্ষণকারীদের পরিচয় ছিল রাজাকার, বর্তমান ধর্ষণকারীদের পরিচয় কি?' প্রভৃতি লেখাসংবলিত পস্ন্যাকার্ড এ সময় দেখা যায়।

বরিশাল : দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতাসহ সব ধরনের সামাজিক অনাচারের প্রতিবাদে বরিশালে গণঅবস্থান ও মানববন্ধন হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নগরের অশ্বিনীকুমার টাউন হলের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির আয়োজন করেন। একই সময়ে বরিশাল প্রেসক্লাবের সামনে পৃথক মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ বরিশাল শাখা।

এতে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ জোট, বস্নাস্ট বরিশাল ইউনিট ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন।

বরিশাল শহরের অশ্বিনীকুমার হলের সামনে মানববন্ধন ও গণঅবস্থান চলাকালে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধর্ষণ করে পার পেয়ে যাওয়া আর বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠছে, তাতে এই অনাচার মহামারিতে রূপ নিচ্ছে। এজন্য আজ দেশের মানুষকে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সরকারকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সুনামগঞ্জ : পৌর শহরের আলফাত স্কয়ার এলাকায় মানববন্ধন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। নারী-শিশুরা ঘরে-বাইরে কোথাও এখন নিরাপদ নয়। এজন্য সমাজের সর্বত্র এখন একটা ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব, সরকারের উদাসীনতা এ জন্য দায়ী।

রাজশাহী : মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নোয়াখালীতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, তা সারা দেশের মানুষকে নাড়া দিয়েছে। গত আট মাসে ১ হাজার ৯৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এটা শুধু নথিভুক্ত ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষণ এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিচারহীনতার জন্যই এ ঘটনা ঘটছে। সরকারকে তাই এ ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে দ্রম্নত বিচার আইনে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। সেই সঙ্গে ধর্ষণের মামলা জামিনের অযোগ্য করতে হবে। কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হবে। এই কর্মসূচি পালন শেষে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হবে।

রংপুর : মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে 'ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী ছাত্রজনতা' ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা বলেন, দেশে একের পর এক ধর্ষণ ও নারীর প্রতি নিপীড়ন-নির্যাতন বেড়েই চলেছে। ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে এসব ন্যক্কারজনক কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে। এসব কর্মসূচিতে নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও ২৫টির অধিক সংগঠন অংশ নেয়।

নোয়াখালী : মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন সংগঠন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একই স্থানে জেলা বিএনপির উদ্যোগেও মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। বিএনপির এই কর্মসূচিতে জেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা বক্তব্য দেন।

এছাড়া দুপুর ১২টার দিকে শহরের টাউন হল মোড়ে জেলা বাম জোটের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে নারী নির্যাতনের ঘটনার নেপথ্যে থাকা দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর দাবি জানান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। প্রেসক্লাবের সামনে সকালে আমাদের নোয়াখালী, এসএসসি (১৯৭২-২০২০) ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজক সংগঠনের সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।


কোন মন্তব্য নেই