নিউজ ফাস্ট

ট্রাম্প হেরে গেলে যেসব বিপদে পড়বেন




যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে হেরে গেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কতটা বিপদে পড়তে পারেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার শেষ নেই। মার্কিন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। 


সিএনএন এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলেছে, নির্বাচনে হেরে গেলে ট্রাম্প বেশ কিছু বিপর্যয়ের মুখোমুখি গতে পারেন। হোয়াইট হাউস থেকে তাঁর প্রস্থান সম্মানজনক নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সংবিধান অবাধ সুরক্ষা দিয়েছে। তারপরও নির্বাচনের পর বেশ কিছু আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।


ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে ব্যক্তি হিসেবে ও তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে বেশ কিছু অভিযোগে তদন্তের আওতায় রয়েছেন। তদন্তে ব্যবসায়ী হিসেবে ট্রাম্প কোনো জালিয়াতি করেছেন কিনা এসব দেখার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি একাধিক মামলার হুমকিতেও আছেন। ক্ষতিপূরণ মামলা থেকে অপরাধ সংগঠনের মামলার হুমকিও ঝুলছে তাঁর নামে। 


প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ২৬ জন নারী এর মধ্যে কোনো না কোনোভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। ট্রাম্পের সমর্থকদের বক্তব্য, এসব নারী মনোযোগ আকর্ষণের জন্যই এমন করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এমন অভিযোগ এক বাক্যে অস্বীকার করে আসছেন। 


প্রেসিডেন্ট হিসেবে ব্যক্তিগত মুনাফা করে সম্মানজনক পদকে দুর্নীতিগ্রস্ত করার অভিযোগের কথাও সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু তদন্ত দেরি করানো বা আটকে রাখার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পেরেছেন। তাঁর ট্যাক্স রিটার্ন নিয়ে তদন্তের বিষয়টিও তিনি চাপা দিতে বা বিলম্ব করতে পেরেছেন প্রেসিডেন্টের  ক্ষমতা থাকার কারণে। নির্বাচনে হেরে গেলে এসব নিয়ে নড়াচড়া শুরু হবে বেশ জোরের সঙ্গেই। 


জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী বেশ সন্তোষজনক ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। নির্বাচনে পরাজয় ট্রাম্পের জন্য প্রেসিডেন্ট পদে হেরে যাওয়ার চেয়েও বেশি হয়ে উঠতে পারে। নিউইয়র্কের আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধজনিত মামলার একটি তদন্তও ঝুলে আছে । 


ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতের সাবেক প্রসিকিউটর হ্যারি স্যান্ডিক বলেছেন, ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ত্যাগ করলেই মামলার বাদী ও প্রসিকিউটররা মামলাগুলো এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন, ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে যেকোনো আইনি তলবের বেলায় তিনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন। 


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনে হেরে গিয়ে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করলে ‘প্রেসিডেনশিয়াল ক্রাইম কমিশন’ নামের একটি স্বাধীন সংস্থা করার কথাও উত্থাপন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেটিক দলের কংগ্রেসম্যান এরিক সোয়ালওয়েল। এ কমিশনে স্বাধীন প্রসিকিউটররা থাকবেন এবং প্রেসিডেন্টের দুর্নীতি নিয়ে কমিশন তদন্ত করবেন বলে তিনি গত আগস্টে এক টুইট বার্তায় ধারণা দিয়েছেন।


ট্রাম্প এখন এমনই ক্ষমতাশালী যে, প্রসিকিউটরেরা মনে করেন না ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার ক্ষমতা তাঁদের আছে। নির্বাচনে হারলেই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে

জেনিফার রজার্স, সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর ও সিএনএনের আইন বিশ্লেষক

ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির মামলাটি ট্রাম্পের জন্য নাজুক হতে পারে। মামলা দায়েরের সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোম্পানির ব্যাংক জালিয়াতি, বিমা জালিয়াতি করাসহ ব্যবসার রেকর্ড নিয়ে তথ্যের গরমিলের তদন্ত করা প্রয়োজন। সাধারণত কোনো অপরাধ বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার পর আদালতে এমন তদন্তের আবেদন জানানো হয়। এ নিয়ে গত এক বছর থেকে নিউইয়র্কের আদালতে নানা প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে আইনগত অধিকারের প্রশ্নও উত্থাপন করা হয়েছে। কোনো রাজ্যের প্রসিকিউটরের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার আইনগত অধিকার আছে কিনা, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 


সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর ও  সিএনএনের আইন বিশ্লেষক জেনিফার রজার্স বলেছেন, ট্রাম্প এখন এমনই ক্ষমতাশালী যে,  প্রসিকিউটরেরা মনে করেন না ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার ক্ষমতা তাঁদের আছে। নির্বাচনে হারলেই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে বলে তিনি মনে করেন। মামলাগুলো এর মধ্যেই প্রস্তুত করে রাখা হচ্ছে বলে মনে করেন এ আইন বিশ্লেষক।



No comments