স্পেনের মাদ্রিদে ফের আংশিক লকডাউন
করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্পেনের মাদ্রিদে আংশিক লকডাউন জারি করা হয়েছে। শুক্রবার বিকাল থেকে প্রায় ৪৮ লাখ মানুষের ওপর শহর ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আলজাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর আবারও ইউরোপের কোনো রাজধানীতে লকডাউন জারি করা হলো। বাসিন্দারা অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাজধানীর বাইরে যেতে পারবেন না। মাদ্রিদের চারপাশের আরো ৯টি শহরেও থাকছে এই নিষেধাজ্ঞা।
খবরে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মে এসব এলাকায় বার ও রেস্টুরেন্টগুলো রাত ১১টার পর খোলা রাখা যাবে না। যে কোনো জায়গায় এক সঙ্গে জড়ো হতে পারবেন সর্বোচ্চ ছয় জন। অন্তত ১৪ দিন এই লকডাউন কার্যকর থাকবে, প্রয়োজনে বাড়তে পারে।
স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার এসব বিধি-নিষেধ আরোপ করলেও এর বিরোধিতা করছে মাদ্রিদ প্রশাসন। তারা বলছে, এই লকডাউনে তাদের অর্থনীতির ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হবে। এ কারণে এসব বিধি-নিষেধ কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।
তবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হলো জীবন রক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা। বিজ্ঞানীদের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, গত আট মাস আমাদের এখানে মাস্ক পরা হচ্ছে। নাইটক্লাব, পার্টি কিছু নেই। তারপরও সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। নতুন বিধি-নিষেধ কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে সন্দিহান তিনি।
ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের মতো স্পেনেও সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হারে বাড়তে শুরু করেছে। দেশটিতে গত কয়েক দিন ধরে দৈনিক ১০ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। শুক্রবার সেখানে ১১ হাজার ৩২৫ জন নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১১৩ জনের। সেখানে প্রতি চারটি পরীক্ষায় একটি পজিটিভ ফলাফল আসছে। যাকে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির ভয়াবহ সংকেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় হাসপাতালে প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে নতুন রোগী সংখ্যা। অনেকেরই অক্সিজেন দরকার হচ্ছে।
খুব শিগগিরই শহরের অনেক হাসপাতালের আইসিইউ আবারও ভর্তি হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিত্সকরা। উল্লেখ্য, স্পেনে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৩২ হাজারেরও বেশি।

কোন মন্তব্য নেই