নিউজ ফাস্ট

মাঠে নামছে আমানতকারীরা




অবসায়ন প্রক্রিয়ায় থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেস (পিএলএফএস) বন্ধ না করে আবার চালু করার পক্ষে মত দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম। এসংক্রান্ত আইনি মতামত সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


তবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ নাকি আবার চালু করা হবে তার দ্রুত ঘোষণা চান আমানতকারীরা। বন্ধ হলে কত দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়া হবে, আর পুনর্গঠন হলেও তা কত দিনের মধ্যে হবে সেই সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানাতে আগামী সোমবার মানববন্ধন করবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যক্তি আমানতকারীরা। পিপলস লিজিংয়ের প্রধান কার্যালয় মতিঝিলের সিটি সেন্টারের সামনে দুপুর ১২টায় এই মানববন্ধন হবে। ব্যক্তি আমানতকারীদের কাউন্সিলের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।


এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির আমানতকারী সামিয়া বিনতে মাহবুব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা টাকা ফেরত চাই। আর কত দিন অপেক্ষা করব। বন্ধই হয়েছে দেড় বছর। বন্ধ হওয়ার এক বছর আগে থেকে আমানত ফেরত পাই না। এর মানে আড়াই বছর ধরে আমাদের টাকা আটকে রয়েছে। পুনর্গঠন হবে কি হবে না সেটাও পরিষ্কারভাবে আমাদের জানানো হচ্ছে না। একটা সমাধান দরকার। আমরা এভাবে ঝুলে থাকতে পারি না। পুনর্গঠন করলেও তার ঘোষণা দ্রুত দিতে হবে। কবে করা হবে, কত দিনের মধ্যে করা হবে, এক মাসের মধ্যে নাকি তিন মাসের মধ্যে সেই টাইমফ্রেমও লাগবে। অথবা বন্ধ করে দিলেও আমানতকারীরা কত দিনের মধ্যে পুরো টাকা ফেরত পাবে, সেটা এক মাস, দুই মাস, না তিন মাস সেটার একটাও টাইমফ্রেম দিতে হবে।’


মানববন্ধন থেকে কঠোর কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেওয়া হতেও পারে। তবে এটা নির্ভর করছে ওই দিনের পরিস্থিতির ওপর। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবিদাওয়া মানববন্ধনের মাধ্যমে তুলে ধরব।’


জানা গেছে, পিপলস লিজিং বন্ধ না করে আবার চালুর জন্য গত মাসে আলমগীর শামসুল আলামিনসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেন। এই আবেদনের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনি মতামত চায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যারিস্টার তানজিব উল আলমের আইনি মতামত নিয়ে পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়েছে। তানজিব উল আলম পিপলস লিজিং অবসায়ন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, ‘কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপ প্রতিষ্ঠানটিকে নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে বলে আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে এখনো আসেনি।

’ এ ধরনের প্রস্তাব এলে চালুর পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক যাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোর্টের নির্দেশেই সব কিছু হচ্ছে। এ রকম কোনো প্রস্তাব এলে আমাদের নিয়োজিত আইনজীবীর মতামত সাপেক্ষে আমরা জিনিসগুলো করব। আদালতে যাওয়া লাগলে যেতে হবে।’


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পিপলস লিজিংয়ে আমানতকারীদের পাওনা রয়েছে দুই হাজার ৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তিপর্যায়ের আমানতকারীদের পাওনা ৭৫০ কোটি টাকা।


গত বছরের ১৪ জুলাই পিপলস লিজিং অবসায়নের জন্য আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই দিনই মামলার শুনানি শেষে প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন আদালত। এরপর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামান খানকে অবসায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।


এ নিয়ে মো. আসাদুজ্জামান  বলেন, ‘পিপলস লিজিং নতুন করে চালুর একটা প্রস্তাব আমিও শুনেছি। তবে একদম প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বলার মতো পর্যায়ে এখনো আসেনি।’ নতুন করে চালু করার প্রস্তাব এলে আবার আদালতের নির্দেশেই হবে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আদালতে তো যেতেই হবে। কারণ চালু করতে হলে অবসায়নের মামলা তুলে ফেলতে হবে। আর আদালতের আদেশ ছাড়া এটা তোলা সম্ভব নয়।


আমানতকারীদের টাকা ফেরতের বিষয়ে কোনো আপডেট আছে কি না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাকা আদায়ের চেষ্টা চলছে। ছোটখাটো আদায়ও হচ্ছে। আর আদায় করা টাকা থেকেই তাঁদের টাকা দিতে হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ পর্যন্ত ১৮ কোটি টাকার মতো আদায় করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।



No comments