কেয়া কসমেটিকসের সম্পদ নিলাম স্থগিত
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি কেয়া কসমেটিকসের বিভিন্ন অবকাঠামোসহ কারখানার মালামাল, ভবন ও যন্ত্রপাতি নিলামের জন্য পূবালী ব্যাংক যে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল, তা স্থগিত করেছে।
সম্প্রতি ব্যাংকটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, গত ২২ এপ্রিল কেয়া কসমেটিকস ও কেয়া ইয়ার্নের বন্ধকী সম্পত্তি নিলামের জন্য যে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল, তা সাময়ি স্থগিত ঘোষণা করা হল।
২২ এপ্রিল পূবালী ব্যাংকের দেয়া নিলাম তফসিলের মধ্যে ছিল কেয়া গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপ সংস্থা কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড, কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড এবং এর প্রতিষ্ঠাতা আবদুল খালেক পাঠান ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি।
জানা যায়, রাজধানীর গুলশান-বনানীতে কেয়া কসমেটিকসের বিভিন্ন বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স রয়েছে। এসব অ্যাপার্টমেন্টে বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা বসবাস করেন। এসব সম্পত্তির মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২৭০ কোটি টাকা। আগ্রহী ক্রেতাদের ২৪ মে, ২০২১ তারিখের মধ্যে আবেদনের অনুরোধ করেছিল পূবালী ব্যাংক।
ওই সময়ে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিউল আলম খান চৌধুরী এ প্রসঙ্গে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, সময়মতো কেয়া কসমেটিকস খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমরা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।
ব্যাংকের যে কোনো টাকা উদ্ধারে কঠোর হওয়া আমাদের দায়িত্বের একটি অংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী খেলাপি ঋণ আদায়ে কিছু বিধান আছে। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি।
এদিকে, কেয়া গ্রুপের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার হুমায়ুন কবির সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, মহামারির কারণে আমরা সময়মতো ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আশা করছি, তারা নিলামের এই বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে নেবে।
তারই ধারাবাহিকতায় কেয়া গ্রুপ পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা চালায় এবং ব্যাংকটির নিলাম বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করতে সক্ষম হয়।
এর আগে ২০১৮ সালেও অনাদায়ী খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করার দায়ে কেয়া কসমেটিকসের গাজীপুরের কারখানার মালামাল, ভবন ও যন্ত্রপাতি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। সে বছরের ২৬ জুন কোম্পানিটির সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ঋণের অর্থ আদায়ের ঘোষণা দেয় ব্যাংকটি।

কোন মন্তব্য নেই