হাদিসের আলোকে শীতের তীব্রতার রহস্য - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

হাদিসের আলোকে শীতের তীব্রতার রহস্য

 

শীতকাল কেন আসে—এর একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। হাদিস শরিফেও এ বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। উভয় ব্যাখ্যার মধ্যে বিরোধ নেই। কেননা একই বস্তুর জাহেরি ও বাতেনি তথা পার্থিব ও অপার্থিব ব্যাখ্যা থাকতে পারে। সম্ভবত হাদিসে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির বাতেনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।


শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো, আমরা জানি, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে। এই ঘোরার সময় পৃথিবী সূর্যের দিকে সামান্য হেলে থাকে। পৃথিবী আবার তার নিজ অক্ষেও ঘোরে। তাই বিভিন্ন সময় পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ সূর্যের দিকে হেলে থাকে।


এভাবে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধ কখনো সূর্যের কাছে চলে যায় আবার কখনো উত্তর গোলার্ধ। যখন যে অংশ সূর্যের দিকে হেলে থাকে, তখন সেই অংশ খাড়াভাবে বেশিক্ষণ ধরে সূর্যের আলো ও তাপ পায়। আর তখন সেই অংশে বেশি গরম পড়ে। এ সময় থাকে গ্রীষ্মকাল।


একটি অংশ সূর্যের কাছে থাকা মানে তার উল্টো দিকের অংশটি থাকবে সূর্য থেকে দূরে। আর দূরে থাকলে সেই অংশটি কম আলো ও তাপ পাবে। তখন সেই অংশে থাকে শীতকাল।


একটি উদাহরণ দেওয়া যাক—বাংলাদেশে যখন গ্রীষ্মকাল, অস্ট্রেলিয়ায় তখন শীতকাল। আবার ওদের যখন গ্রীষ্ম, তখন আমাদের থাকে শীত। কারণ অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ এবং বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধের দেশ।


শীত-গ্রীষ্মের হাদিসে বর্ণিত ব্যাখ্যা হলো, শীত ও গ্রীষ্মের তীব্রতা আসে জাহান্নামের নিঃশ্বাস থেকে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, জাহান্নাম তার রবের কাছে অভিযোগ করে বলে, হে রব, আমার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলেছে। মহান আল্লাহ তখন তাকে দুটি নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি দেন। একটি নিঃশ্বাস শীতকালে, আরেকটি গ্রীষ্মকালে। কাজেই তোমরা গরমের তীব্রতা এবং শীতের তীব্রতা পেয়ে থাকো। (বুখারি, হাদিস : ৩২৬০)


সুতরাং শীতের তীব্রতা জাহান্নামের শীতলতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কাজেই তীব্র শীতে জাহান্নামের কথা স্মরণ করে মহান আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া উচিত।

কোন মন্তব্য নেই