অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিশীলতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের প্রয়োজন - আব্দুর রউফ তালুকদার
আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, বিশ্বের শীর্ষ ৪১টি শীর্ষ অর্থনীতি দেশের মধ্যে মাত্র আটটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল গত অর্থ বছরে। তার মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল। এটি সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যথাযথ যোগসূত্র থাকার কারণে।
এ সময় তিনি বলেন, অর্থনৈতিক এ প্রবৃদ্ধিকে আরো গতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাঝে সমন্বয়ের প্রয়োজন।
অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আরো বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাজ হলো ফাইনান্স ও মূল্যস্ফিতি স্থিতিশীল রাখা। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের অর্থনীতি অনেক দূর এগিয়েছে। শেষ দশ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবদান হল অটোমেশন।
একসময় সরকারিভাবে ১০০ টাকা বিতরণ করতে গেলে ২৫ টাকা খরচ করতে হত। এখন তা হচ্ছে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন একাউন্টে চলে যাচ্ছে বলেও জানান আব্দুর রউফ তালুকদার।
এর আগে সকালে অনুষ্ঠান শুরুর পর বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ ৪১তম বড় অর্থনীতির দেশ, যা ২০৩৫ সালে ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২১ এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনার সময় এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় সামনের দিনে দেশের অর্থনীতিতে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্চ রয়েছে। এর মধ্যে কভিডজনিত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ ব্যাংক নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আরো বলেন, কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। নতুন করে দারিদ্রসীমায় প্রবেশের সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি তেমন একটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েনি। দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড সোজা রাখতে এবং কভিডের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বণিক বার্তার দ্বিতীয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। এই এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ছিল টার্নিং পয়েন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক যার নেতৃত্ব দিচ্ছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
কোন মন্তব্য নেই