২০২১ সালে বিপুলসংখ্যক দর্শক হারিয়েছে মার্কিন কেবল নিউজ
ডাটা ও তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান নিলসেন কোম্পানির এক প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর মার্কিন নাগরিকদের জন্য সান্ধ্য বিনোদনের কেন্দ্র ছিল কেবল নেটওয়ার্কগুলো। চলতি বছর সিএনএন ৩৮ শতাংশ, ফক্স নিউজ চ্যানেলের ৩৪ শতাংশ ও এমএসএনবিসি ২৫ শতাংশ প্রাইম টাইম ভিউয়িং (সান্ধ্য আয়োজনে দর্শকদের হার) হারায়। এছাড়া সন্ধ্যার সংবাদ আয়োজনের মধ্যে এবিসির ‘ওয়ার্ল্ড নিউজ টুনাইট’ ও ‘সিবিএস ইভনিংনিউজ’ ১২ শতাংশ ও এনবিসির ‘নাইটলি নিউজ’ ১৪ শতাংশ প্রাইম টাইম দর্শক হারায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে কিছু ডিজিটাল নিউজ সাইটে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বেড়েছিল। সবচেয়ে বেশি সাবস্ক্রাইবার ছিল দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বাড়লেও পাঠকরা খুব বেশি সময় সাইটে থাকতেন না।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মিডিয়া বিশ্লেষণকারী সংস্থা কমস্কোর জানিয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বরে গত বছর একই সময়ের তুলনায় ওয়াশিংটন পোস্ট ব্যবহারকারীর হার ৪৪ শতাংশ কমেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের ক্ষেত্রে এ কমার হার ছিল ৩৪ শতাংশ। যদিও ডিজিটাল নিউজ নির্বাহীরা জানতেন যে ২০২০ সালের শীর্ষ চূড়াটা টেকসই না। নিউজ মিডিয়া অ্যানালিস্ট কেন ডক্টর বলেন, সেটা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছিল।
তাছাড়া কেবল নিউজ নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে কথাটা আরো বেশি অবশ্যম্ভাবী ছিল। কারণ তাদের বানানো প্রাইম টাইম মডেলের পরিপূর্ণ লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের সময়ের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। ফলে সেটা ভিন্ন দিকে ঘুরে গেলে টিকে থাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়াই স্বাভাবিক।
ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ডের সাংবাদিকতার অধ্যাপক টম রজেনস্টিয়েল বলেন, আপনি কোনো কনটেন্ট বানানোর পরই কিছু দর্শকদের কাছে বন্দি হয়ে পড়বেন।
এসব নেটওয়ার্ক দর্শকদের আগ্রহ কমে গেলেও মূল লক্ষ্যবিন্দু রাজনীতির ওপরই রাখছে। মিডিয়া মনিটরিং কোম্পানি নিউজশিপ জানায়, গত বছর অনলাইনে ১ কোটি ৪০ লাখ রাজনৈতিক আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছিল এবং সেগুলোর প্রত্যেকটিতে গড়ে ৯২৪টি করে সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথস্ক্রিয়া পাওয়া গেছে। সেখানে ২০২১ সালে সংখ্যাটা ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ। তবে সেখানে সম্পৃক্ততা দেখা গেছে গড়ে ৩২১টি।
বিভিন্ন ডিজিটাল সাইট ডাউন হয়ে যাওয়ার এ সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসের সাবস্ক্রিপশন ৮০ লাখ ছাড়িয়েছে, এমনকি সেটা বাড়তির পথেই ছিল। কেন ডক্টর বলেন, নিউইয়র্ক টাইমস রাজনীতির বাইরে গিয়ে বৈচিত্র্য আনার জন্য খুবই কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মধ্যে গ্রাহকদের পরামর্শে গড়ে তোলা রিভিউ ওয়েবসাইট ওয়্যারকাটার একটি।
ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহীদেরও এ সময়ে কীভাবে রাজনৈতিক বিষয়াদির ওপর পাঠকের নির্ভরতা নিয়ে কাজ করা যায় সে বিষয়ে লড়াই করতে দেখা গেছে। তারা এখন আন্তর্জাতিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগের দিকে নজর রাখছে।
তবে দেশটির জাতীয় নিউজ আউটলেটগুলো ২০২১ সালকে ট্রাম্পের উন্মত্ত সংবাদ গতির বছরের তুলনায় ক্রান্তিকালীন বছর হিসেবেই মনে রাখবে। এ বছর ১০০ থেকে ১২০টি স্থানীয় পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। ২০০৮ সালের পর এ বছর গণমাধ্যমকর্মীরা চাকরিও হারিয়েছেন সবচেয়ে বেশি।
তবে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষক টিমোথি ফ্র্যাঙ্কলিন বলেন, এ বছরে আমরা যা দেখছি সেটা একটা সন্ধিক্ষণ। প্রিন্ট বিজনেস মডেল ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এবং ডিজিটাল মডেল বিস্তৃত হচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই