আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং ও ওয়েস্টার্ন মেরিনের ক্যাটাগরি পরিবর্তন
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভিন্ন খাতের দুই কোম্পানির ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হয়েছে। কোম্পানি দুটি হলো আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড ও ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড। কোম্পানি দুটির ক্যাটাগরি অবনমন হয়ে ‘এ’ থেকে ‘বি’তে স্থানান্তর করা হয়েছে। আজ থেকে পরিবর্তিত ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ার লেনদেন হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং: বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্য উদ্যোক্তা-পরিচালক বাদে বাকি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এ কারণে কোম্পানিটিকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৪ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ১৮ পয়সায়। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১৩ টাকা ৭৩ পয়সা।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ৪৭ লাখ টাকার বেশি বা ১৪ শতাংশ। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৫ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৩ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৩২ পয়সায়।
ওয়েস্টার্ন মেরিন: ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্য ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানিটি। এ কারণে কোম্পানিটিকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এর আগে লোকসানের কারণে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশের সুপারিশ করেনি কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। তবে কোম্পানিটির ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়।
আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যেখানে ইপিএস ছিল ৮৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৪০ পয়সায়। আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে যা ছিল ২৪ টাকা ৬ পয়সা।
৩০ জুন ২০২০ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৩ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। এর মধ্যে দশমিক ৫ শতাংশ নগদ ও বাকি ২ দশমিক ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৮৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৭৫ পয়সা। এ হিসাবে সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস কমে ১ টাকা ৮৯ পয়সা বা ৬৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ৩০ জুন ২০২০ শেষে প্রতিষ্ঠানটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৪ টাকা ৬ পয়সা, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৩০ টাকা ২৬ পয়সা।
২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। ২০১৮ হিসাব বছরে ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা। এছাড়া ২০১৭ হিসাব বছরে ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি ১২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।
কোন মন্তব্য নেই