দুঃখ, ভয় আর আশার বছর ২০২২ - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

দুঃখ, ভয় আর আশার বছর ২০২২


মৃত কিংবা মৃত্যুর জন্য দুঃখগাথা আর নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের ভীতি নিয়ে বিশ্বের মানুষ শুরু করেছে নতুন বছর। অবশ্য গোটা ২০২১ সালও এসব নিয়েই কেটেছে। যদিও বছরের শেষ দিকে মনে করা হচ্ছিল যে পরিস্থিতি থেকে হয়তো পরিত্রাণ ঘটেছে। তবে আদতে সেসব অভিজ্ঞতা নিয়েই শুরু হচ্ছে ২০২২। খবর এপি।


গত বছর নববর্ষ মনের মতো করে উদযাপন করতে পারেনি বিশ্ববাসী। তাই এবার তা নিয়ে প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা ছিল বেশ বড়। কিন্তু বছরের শেষ দিকে হঠাৎ করেই বেড়ে যায় ওমিক্রনের সংক্রমণ। ফলে অনেকটা যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে সব পরিকল্পনা। পরিস্থিতি অনেকটা দে জা ভ্যুর মতো। যেন একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আবারো যাচ্ছে পুরো বিশ্ব। আরো একবার দ্রুত ভরে উঠছে হাসপাতালের শয্যাগুলো, আবারো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে শুরু করেছে, বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে মাস্কের ব্যবহার, উৎসাহ দেয়া হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে।


২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বে ৫০ লাখের বেশি মানুষ কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে সাড়ে ২৮ কোটি মানুষের শরীরে। বৈশ্বিক এ মহামারীর কারণে বিভিন্ন দেশে নববর্ষের উদযাপন বন্ধ করা হয়েছে। ইংরেজি নতুন বছরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিখ্যাত আতশবাজির আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বাড়ির বাইরে বের হওয়ার জন্য মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


জার্মানির বার্লিনে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে ব্রান্ডেনবার্গ গেটে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেটি সরাসরি দেখার সুযোগ পায়নি কোনো দর্শক। কেউ যেন অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ঘোরাঘুরি না করে সেজন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করে পুলিশ। মাদ্রিদে নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত পুয়ের্তা ডেল সল ডাউনটাউন স্কয়ারের অনুষ্ঠানে মাত্র সাত হাজার দর্শনার্থীকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। সাধারণত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ অংশ নেয়।


নতুন বর্ষবরণ আয়োজনের বিষয়ে বেশ মিশ্র পন্থা অবলম্বন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নিউইয়র্কে বুধ ও বৃহস্পতিবার শনাক্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। ফলে সেখানে নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠান চলবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এমন পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে পূর্ণাঙ্গ ডোজ টিকা গ্রহণকারী নাগরিকরা ঘরের বাইরে পার্টির আয়োজন করতে পারবে। পাশাপাশি মাস্ক পরতে হবে এবং যতটুকু সম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সেভাবেই নতুন বছরকে উদযাপন করেছে নিউইয়র্কবাসী। তারা এসব বিধিনিষেধকে অন্তত গত বছরের ভার্চুয়াল নিউ ইয়ার পার্টির চেয়ে ভালো বলেই মনে করছে। শহরটির টাইম স্কয়ারের পরিসীমায় কেবল ১৫ হাজার পূর্ণাঙ্গ টিকা গ্রহণকারী মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। সাধারণত এ স্থানে এক লাখ মানুষের সমাগম ঘটে।


ফ্রান্স, ব্রিটেন, পর্তুগাল ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোয় প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যা। এমন অবস্থায় অন্যান্যবারের মতো টেমস নদীর তীরে আতশবাজি প্রদর্শনের আয়োজন বাতিল করা হয়। তার বদলে আলো ও ড্রোনের সাহায্যে আলোক প্রক্ষেপণের আয়োজন করা হয়, যা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যেন শহরের মানুষ ঘরে বসেই এ আয়োজনে অংশ নিতে পারে। তবে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরেও নির্ধারিত আয়োজন বাতিল করেনি অস্ট্রেলিয়া। সিডনির হারবার ব্রিজ ও অপেরা হাউজকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে জ্বলে ওঠে হাজারো আতশবাজি। যদিও মানুষ নিজের ইচ্ছায়ই অন্যান্য বছরের তুলনায় কম পরিমাণে উপস্থিত হয়েছিল।


চীনেও নববর্ষের মূল আয়োজন স্থগিত করে সরকার। ভারতের লাখো মানুষ বাড়িতে থেকেই নতুন বছর বরণের আয়োজন পালন করেছে। এভাবে গোটা বিশ্বের মানুষই যার যার জায়গা থেকে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে।


২০২১ সালে মহামারীর দিকপথ পরিবর্তন করেছিল টিকাদান কর্মসূচি, যা অব্যাহত আছে। বিভিন্ন দেশ টিকাদান কর্মসূচির গতি বাড়াচ্ছে। প্রত্যেকেই যার যার জায়গা থেকে ওমিক্রন মোকাবেলার চেষ্টা করছে, যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই