যুক্তরাষ্ট্রের ঘরের লড়াই - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ঘরের লড়াই



নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপরীতে জো বাইডেনের বিজয়ের প্রায় এক বছর পরও যুক্তরাষ্ট্র একটা খুব উত্তেজনাকর ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়ে গেছে। এ অবস্থায় অনেক রাজনৈতিক ফলাফলই সম্ভব। ট্রাম্প তার পুরো শাসনপর্বে দেশটির নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক রীতিনীতি অবমূল্যায়নের চেষ্টা করেছেন। তিনি (ট্রাম্প) এবং রিপাবলিকান পার্টি এখনো সেই ধরনের প্রচেষ্টা ও ইচ্ছা অব্যাহত রেখেছে। এ প্রেক্ষাপটে বাইডেন চাইছে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে সাংবিধানিক রীতিনীতি আরো সুসংহত করতে এবং ট্রাম্প বা রিপাবলিকানদের সব ধরনের প্রচেষ্টা রুখে দিতে। যদিও এটা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে রয়ে যায় সংশয়।


যুক্তরাষ্ট্রের আজকের পরিণতির জন্য অতীত পুনর্বীক্ষণটা জরুরি। সঠিকভাবে এটা নির্ণয় করা সহজ নয়, আসলে এত গভীরভাবে দেশটি ভেতর থেকে কিসে আক্রান্ত যে সেখানে ট্রাম্পের আন্দোলন উদ্দীপিত হয়েছিল। এটা কি অনিঃশেষ সাংস্কৃতিক সংঘাতের ফল, যা দেশটিকে জাতি, ধর্ম ও ভাবাদর্শের ভিত্তিতে বিভাজিত করছে? এটা কি সম্পদ ও ক্ষমতায় নজিরবিহীন মাত্রায় অসমতা বৃদ্ধির ফল? চীনের উত্থানে এটা কি আমেরিকার ক্রমহ্রাসমান বৈশ্বিক ক্ষমতার প্রতিফলন, নাকি ভেতরকার মনোবেদনা, হতাশা?


সন্দেহ নেই, উল্লিখিত সব ফ্যাক্টরই আজকে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতপূর্ণ রাজনীতির পেছনে ভূমিকা রাখছে। তবে আমার মনে হয় সবচেয়ে গভীর সংকট রাজনৈতিক—সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘জনকল্যাণ নিশ্চিতে’ আমেরিকার রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতা। গত চার দশকে সাধারণ নাগরিকদের দুর্গতি-দুর্ভোগের বিনিময়ে আমেরিকার রাজনীতি অতিধনী ও করপোরেট গোষ্ঠীকে নানাভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ক্রীড়নকে (ইনসাইডার গেম) পরিণত হয়েছে।


১ শতাংশ মানুষ পুরো বাকি জনগোষ্ঠীর ওপরে


২০০৬ সালে ওয়ারেন বাফেট সংকটটির বিষয়ে সরাসরি আলোকপাত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “যথার্থই এখানে শ্রেণীযুদ্ধ বিরাজমান। তবে ‘আমার শ্রেণী, ধনিক শ্রেণীই’ যুদ্ধ করছে এবং আমরাই জয়ী হচ্ছি।”


প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র হলো ওয়াশিংটন ডিসি। শক ট্রুপস হলো করপোরেট লবিস্ট, যারা ঝাঁকে ঝাঁকে ফেডারেল ডিপার্টমেন্ট, প্রশাসনিক সংস্থাগুলোয় জেঁকে বসেছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, ফেডারেল লবিংয়ে (২০২০ সালে আনুমানিক ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন) এবং নির্বাচনী প্রচারাভিযানে (২০২০ সালের জাতীয় নির্বাচনে আনুমানিক ১৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে) বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়। শ্রেণীযুদ্ধপন্থী প্রচারক হলো মেগা-বিলিয়নেয়ার রুপার্ট মারডক পরিচালিত করপোরেট মিডিয়া।


প্রায় আড়াই হাজার বছর আগেই অ্যারিস্টটল পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, একটি ভুল সাংবিধানিক নির্দেশনা-আদেশের মাধ্যমে ভালো সরকার খারাপ সরকারে পরিণত হতে পারে। আইনের শাসনের দ্বারা পরিচালিত প্রজাতন্ত্র জনতুষ্টবাদী উন্মত্ত জনতার শাসন কিংবা একটি ক্ষুদ্র ও দুর্নীতিপ্রবণ শ্রেণীর গোষ্ঠীতান্ত্রিক শাসন কিংবা ব্যক্তিগত নিষ্পেষণ, এক ব্যক্তির শাসনে পর্যবসিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের সম্ভাব্য বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে, যদি না রাজনৈতিক ব্যবস্থা করপোরেট লবিংয়ের ব্যাপকতর দুর্নীতি ও ধনীদের প্রচারণা অর্থায়নের ঘেরাটোপ থেকে মুক্ত হতে না পারে।


দরিদ্রদের ওপর আমেরিকার শ্রেণীযুদ্ধ নতুন নয়, তবে সত্তরের দশকের প্রথমদিকে শুরু হওয়া ওই যুদ্ধ গত ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়েছে। মহামন্দার মধ্যে ১৯৩৩ সালে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠান থেকে ১৯৬১-৬৮ সালের কেনেডি-জনসনের শাসনপর্ব পর্যন্ত তিন দশক সাধারণত একই উন্নয়ন পথ অনুসরণ করেছিল দেশটি, সোস্যাল ডেমোক্রেসি হওয়ার জন্য পশ্চিম ইউরোপ যেমনটা করেছিল। আয় বৈষম্য কমছিল এবং অধিক সামাজিক গোষ্ঠী, বিশেষ করে আফ্রিকান-আমেরিকান ও নারীরা মূলধারার অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক জীবনে যোগ দিচ্ছিল।


তারপর ধনীদের প্রতিশোধ নেমে এল। ১৯৭১ সালে একজন করপোরেট আইনজীবী লুইজ পাওয়েল সমাজ গণতান্ত্রিক প্রবণতাগুলো বদলিয়ে শক্তিশালী পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণবিধি, কর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিকে নিয়ে যাওয়ার একটা কৌশল প্রণয়ন করেছিল। বড় বড় ব্যবসা উঠে দাঁড়িয়েছিল। প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ১৯৭১ সালে পাওয়েলকে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের জন্য মনোনীত করেছিলেন এবং পরের বছরের প্রথমদিকে তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। ফলে তিনি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়েছিলেন।


পাওয়েলের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ প্রবাহের প্লাবণতোরণ উন্মুক্ত করেছিল। ১৯৭৬ সালে বাকলে বনাম ভ্যালিও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বাকস্বাধীনতার অংশ হিসেবে প্রার্থী ও স্বতন্ত্র গ্রুপ কর্তৃক প্রচার ব্যয়ের ফেডারেল সীমায় হস্তক্ষেপ করে। ১৯৭৮ সালের ফার্স্ট ন্যাশনাল ব্যাংক অব বোস্টন বনাম বেলোটির মামলায় পাওয়েল লিখেছিলেন, সংখ্যাধিক্য মতামত ঘোষণা করে যে রাজনৈতিক অ্যাডভোকেসির করপোরেট ব্যয় ছিল বাকস্বাধীনতার জন্য, যা ব্যয়সীমায় বাধিত থাকতে পারে না। ক্যাম্পেইন অর্থায়নের ওপর আদালতের হস্তক্ষেপ ২০১০ সালের সিটিজেনস ইউনাইটেড বনাম ফেডারেল ইলেকশনস কমিশন মামলায় চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল, যেটি আবশ্যিকভাবে ফেডারেল রাজনীতিতে করপোরেট ব্যয়ের সব ধরনের সীমার অবসান ঘটায়।


১৯৮১ সালে যখন রোনাল্ড রিগ্যান প্রেসিডেন্ট হন, তিনি ধনীদের জন্য কর কমানো, সংগঠিত শ্রমের ওপর অভিঘাত এবং পরিবেশগত সুরক্ষা থেকে সরে আসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কল্যাণের ওপর সুপ্রিম কোর্টের হামলাকে আরো শক্তিশালী করেছিলেন। সেই বাঁকবদল এখনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে মৌলিক অর্থনৈতিক শোভনতা, কল্যাণ এবং পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে ইউরোপের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভিন্নতর হয়েছে। ইউরোপ যেখানে সাধারণভাবে সমাজ গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথ অব্যাহত রেখেছিল, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক দুর্নীতি, গোষ্ঠীতন্ত্র, ধনী ও দরিদ্র্রের মধ্যে বেড়ে চলা ব্যবধান, পরিবেশের বিপর্যয় ও মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সীমা প্রত্যাখ্যানের একটি উন্নয়ন পথে চালিত হয়েছিল। 


কিছু পরিসংখ্যান-সংখ্যা পার্থক্যটা বেশ ভালোভাবে স্পষ্ট করে তোলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সরকারগুলো রাজস্ব গড়ে মোটামুটি জিডিপির ৪৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের রাজস্ব জিডিপির কেবল ৩১ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে ইউরোপীয় সরকারগুলো সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, উচ্চশিক্ষা, পারিবারিক সমর্থন এবং কর্মপ্রশিক্ষণে অধিক ব্যয় করতে সমর্থ। যদিও নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এসব সেবা জোগাতে পারে না। সুখের সূচক নির্ণয়ের বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী জীবন সন্তুষ্টিতে ইউরোপ সবার চেয়ে এগিয়ে, যদিও এ সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কেবল ১৯তম। ২০১৯ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ছিল ৮১ দশমিক ১ বছর আর যুক্তরাষ্ট্রে সেটি ছিল ৭৮ দশমিক ৪ বছর (যা অবশ্য ১৯৮০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জীবন প্রত্যাশা থেকে বেশি ছিল)। ২০১৯ সাল নাগাদ পশ্চিম ইউরোপের জাতীয় আয়ে সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশ পরিবারের ভাগ ছিল ১১ শতাংশের মতো, যুক্তরাষ্ট্রে যা ছিল ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ব্যক্তিপ্রতি কার্বন নিঃসরণ করেছিল ১৬ দশমিক ১ টন, তার বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্যক্তিপ্রতি কার্বন নিঃসরণ হয়েছিল ৮ দশমিক ৩ টন। 


সংক্ষেপে বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্র পরিণত হয়েছে ধনীদের, ধনীদের দ্বারা এবং ধনীদের জন্য একটি রাষ্ট্রে—জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কোনো রাজনৈতিক দায়িত্ব ছাড়া যা তারা বাকি বিশ্বের ওপর আরোপ করছে। ফলে সৃষ্ট সামাজিক ফাটল হতাশাজনিত মৃত্যুর মহামারী (অতিমাত্রায় মাদক গ্রহণ ও আত্মহত্যা), প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের অবনমন (এমনকি কভিড ১৯-এর আগেও) এবং বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিষণ্নতা বাড়ার দিকে চালিত করেছে। রাজনৈতিকভাবে, এসব ব্যবস্থা বিভিন্ন দিকে চালিত হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ হয়েছে ট্রাম্পের সময়ে, যিনি ভুয়া জনতুষ্টবাদ ও ব্যক্তিত্বের কাল্ট অফার করেছিল। অভিবাসীবিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক যুদ্ধ, শক্তিমত্তার ধ্বজা দেখিয়ে দরিদ্রদের বিপরীতে ধনীদের সেবা করার বিষয়টি ডেমাগগের প্লেবুকে বর্ণিত পুরনো কৌশল হতে পারে। তবে এটি এখনো বিস্ময়করভাবে ভালো কাজ করে।      


প্রতিবন্ধকতা


এ পরিস্থিতিই বাইডেন এখন মোকাবেলা করার চেষ্টা করছে, কিন্তু তার সাফল্য অনেকটা সীমিত ও ভঙ্গুর রয়ে গেছে। সহজ বিষয় হলো কংগ্রেসের সব রিপাবলিকান সদস্য এবং ডেমোক্র্যাটদের একটা ক্ষুদ্র অথচ প্রভাবশালী গ্রুপ (সবচেয়ে কুখ্যাত ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার জো মানচিন এবং আরিজোনার ক্রিস্টেন সিনেমা) ধনী ও মার্কিন করপোরেশনের ওপর কর বাড়ানোর যেকোনো অর্থবহ পদক্ষেপ ঠেকাতে চায়। ফলে একটি ন্যায্য ও সবুজ সমাজ সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় ফেডারেল রাজস্ব বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর যেকোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণও প্রতিহত করছে।


এভাবে আমরা বাইডেনের প্রথম বছর শেষে এখনো দেখছি ধনীদের ক্ষমতা। আরো দেখছি, তারা ন্যায্য করায়ন, সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি, ভোটিং অধিকার সুরক্ষা এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত সুরক্ষাসহ প্রতিটি ইতিবাচক নির্দেশনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাদের বিরুদ্ধে বাইডেন এখনো খানিকটা জয়ী হতে পারেন এবং তারপর সামনের বছরগুলোয় তাদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। জনগণ সেটি চায়ও। আনুমানিক দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান ধনী ও করপোরেশনের ওপর উচ্চহারে করের পক্ষে।


আমেরিকার ঘরের গোলযোগের ভয়ানক আন্তর্জাতিক প্রভাব বিদ্যমান। সংহতিপূর্ণভাবে নিজের দেশ পরিচালনা করতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক সংস্কারগুলোও এগিয়ে নিতে পারবে না। সম্ভবত চীনের দিক থেকে হুমকিই শুধু আজকাল আমেরিকানদের সংগঠিত করতে সহায়ক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার সঙ্গে সঙ্গে উভয় দলের রাজনীতিবিদরা তাদের চীনবিরোধী বয়ান-ভাষ্য বাড়িয়ে দিয়েছে, যেন একটি নতুন শীতল যুদ্ধ আমেরিকার ঘরে জন্মানো উদ্বেগ-ক্ষোভ কিছুটা প্রশমন করবে। ওয়াশিংটনের দ্বিদলীয় যূধ্যমান অবস্থা কেবলই আরো বেশি বৈশ্বিক উত্তেজনা ও সংঘাতের নতুন বিপদ (যেমন তাইওয়ান ঘিরে) তৈরি করবে, কোনোভাবেই আমাদের জরুরি বৈশ্বিক সমস্যার প্রকৃত সমাধান কিংবা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না। 


 জেফরি ডি স্যাকস: কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের পরিচালক এবং ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্কের সভাপতি

কোন মন্তব্য নেই