শেয়ার ছাড়তে আরও সময় চেয়েছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

শেয়ার ছাড়তে আরও সময় চেয়েছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ




ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথকীরণ স্কিম অনুসারে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারবাজারে শেয়ার ছাড়ার কথা ছিল। যদিও এখনো পর্যন্ত এক্সচেঞ্জ দুটি তা করতে পারেনি। এক্ষেত্রে সেলফ লিস্টিং কিংবা ক্রস লিস্টিং প্রক্রিয়ার বিষয়ে এই বছরের ১০ জানুয়ারির মধ্যে একটি খসড়া প্রবিধান প্রণয়ন করে সেটি জমা দিতে বলেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটি জমা দিতে না পেরে কমিশনের কাছে সময় চেয়েছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ।


প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে গতকাল কমিশনের কাছে সেলফ লিস্টিং ও ক্রস লিস্টিংয়ের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনে স্টক এক্সচেঞ্জটির তালিকাভুক্তির বিষয়ে আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি এই সংক্রান্ত খসড়া প্রবিধান জমা দেয়ার জন্য এ বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় চেয়েছে এক্সচেঞ্জটি।


ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম সাইফুর রহমান মজুমদার এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, খসড়া প্রবিধান প্রস্তুত করা হলেও এটি পর্ষদ অনুমোদন করাসহ আরো বেশকিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাকি রয়েছে। এজন্য এই মাস পর্যন্ত সময় দেয়ার জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি আমরা কমিশনের কাছে সেলফ লিস্টিং ও ক্রস লিস্টিংয়ের বিষয়ে কমিশনের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।


অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জও (সিএসই) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খসড়া প্রবিধান জমা দিতে পারেনি। বেশকিছু নতুন বিষয় এক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে এক্সচেঞ্জটিকে এটি প্রণয়নে আরো প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য সিএসই কমিশনের কাছে আরো ৬০ কার্যদিবস সময় চেয়েছে।


সিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম ফারুক এই বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সেলফ লিস্টিং ও ক্রস লিস্টিং সংক্রান্ত খসড়া প্রবিধান প্রণয়নের জন্য আমাদের আরো প্রস্তুতির প্রয়োজন। এজন্য আমরা বিএসইসির কাছে ৬০ কার্যদিবস সময় চেয়েছি।


গত ০২ জানুয়ারি ডমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম ও বোর্ড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিধিমালা অনুসারে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে কমপ্লায়েন্স অডিটর নিয়োগের নির্দেশ-সংবলিত চিঠি পাঠায় বিএসইসি। এক্ষেত্রে নিরীক্ষক নিয়োগ ও শর্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সেলফ লিস্টিং কিংবা ক্রস লিস্টিং প্রক্রিয়ার বিষয়ে এই বছরের ১০ জানুয়ারির মধ্যে একটি খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করে কমিশনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে চিঠিতে।


এছাড়া চিঠিতে ডিএসই অতিসত্বর চাকরি বিধিমালা জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে সিএসইকে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার বিক্রির বিষয়ে একটি সময়সীমা নির্ধারণের জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি সিকিউরিটিজসহ বন্ডের লেনদেন গতিশীল করতে একটি ইল্ডভিত্তিক প্লাটফর্ম চালুর জন্য নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।


এর আগে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য ডিএসই ও সিএসইর সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএসইসি। বৈঠকে ডিমিউচুয়ালাইজেশনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে কমিশনের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।


কমিশনের পর্যবেক্ষণে আরো উঠে এসেছে যে দৈনন্দিন আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন ইস্যুতে এক্সচেঞ্জের পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা ডিমিউচুয়ালাইজেশনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই কারণে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম ও বোর্ড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিধিমালা অনুসারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখতে কমপ্লায়েন্স অডিট করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি।


প্রসঙ্গত, শেয়ারবাজারের উন্নয়ন ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ২০১৩ সালে মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথক্করণের মাধ্যমে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন করা হয়। ফলে এক্সচেঞ্জের পর্ষদে শেয়ারধারী পরিচালকদের প্রাধান্য লোপ পায়। এর পরিবর্তে স্বতন্ত্র পরিচালকরা এক্সচেঞ্জের নেতৃত্বে আসে।


কিন্তু এই পরিবর্তনও অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কারণ ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পরও এখনো পর্যন্ত এক্সচেঞ্জের স্বতন্ত্র পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এর কার্যক্রমে তাদের স্বাতন্ত্র্য ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ফলে এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম পরিচালনায় অনেক ক্ষেত্রেই শেয়ারধারীপরিচালকদের দ্বারস্থ হতে হয়। এতে প্রকৃত ডিমিউচুয়ালাইজেশন বাস্তবায়ন থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ।

কোন মন্তব্য নেই