‘র্যাম’ নিয়ে অপোর প্রতারণা
চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অপো তাদের স্মার্টফোনে এক্সটেন্ডেড ভার্চুয়াল র্যাম ব্যবহার করছে। জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি তাদের অপো এ৭৬, অপো এ৯৫ এবং এফ১৯ প্রো মডেলের ফোনে এ সুবিধা দিচ্ছে। যেমন অপো তাদের এফ সিরিজের এফ১৯ প্রোতে ৫ জিবি ভার্চুয়াল র্যাম ব্যবহার করছে। যেখানে ফোনটির সাথেই রয়েছে ৮ জিবি র্যাম। এই ভার্চুয়াল র্যাম ব্যবহার করায় ফোনটি তুলনামূলক বেশি দামে বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে, ২৪ হাজার ৯৯০ টাকায়।
এফ সিরিজের পাশাপাশি তাদের জনপ্রিয় এ সিরিজেও ভার্চুয়াল র্যাম যুক্ত করেছে অপো।
এ৯৫ ফোনটিতে ৫ জিবি ভার্চুয়াল র্যাম ব্যবহার করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে এই ভার্চুয়াল র্যাম কি আদৌ কোনো কাজে আসে, নাকি শুধুই বিপণন প্রচারণা? সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, এক্সট্রা র্যাম ফোনকে ফাস্ট করে। এজন্য দামও বাড়তি দামও গুণতে হয়। কিন্তু আসলেও কি আমরা লাভবান হচ্ছি?
জানা যাচ্ছে, ভার্চুয়াল র্যাম মূলত ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ স্মুথভাবে রান করতে সহায়তা করে থাকে। কিন্তু অপো ফোনে বেটার গেমিং পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে বলে প্রচার করছে। এটা ক্রেতাদের সাথে একধরনের প্রতারণা। ভার্চুয়াল র্যামের ফলে সাধারণ ব্রাউজিং বা ফোন ব্যবহারে গতি বাড়ালেও গেইমিংয়ে এক্সট্রা এফপিএস পাওয়া যাবে না। মূলত পুরোনো প্রযুক্তির স্মার্টফোনের পারফরম্যান্স বাড়াতে এ প্রযুক্তি কাজে লাগতে পারে।
ভার্চুয়াল র্যামের ক্ষতিকর দিকও আছে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্টোরেজের লাইফস্প্যান লিমিটেড। অর্থাৎ একটা নির্দিষ্ট রাইট-রিরাইট করার হার থাকে। ফলে দেখা গেছে, এক্সটেন্ডেড ভার্চুয়াল র্যাম কাজে না আসলেও বেশি ব্যবহারের কারণে অতিরিক্ত সোয়াপিংয়ের মাধ্যমে ফোনের স্টোরেজ লাইফস্প্যান কমে যাচ্ছে।
তাই স্বাভাবিকভাবেই ভার্চুয়াল র্যাম নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে অপোর বিরুদ্ধে। শাকিল আহমেদ নামে ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, আমি অপো এ৯৫ ফোনটি ব্যবহার করছি অনেক দিন ধরে, কেনার সময় আমি জানতে পারি ফোনে ৮ জিবি র্যামের সাথে আরো ৫ জিবি র্যাম থাকছে যা ফোনকে অনেক ফাস্ট করে। কিন্ত এখন আমি মাত্র ৮ জিবি র্যাম ব্যবহার করতে পারছি। অতিরিক্ত ৫ জিবি র্যাম কোথায় আছে আমি খুঁজেই পাচ্ছি না।

কোন মন্তব্য নেই