উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা : শ্রীলংকায় দুই সংসদ সদস্যকে পার্লামেন্ট থেকে অপসারণ
শ্রীলংকাভিত্তিক নিউজ ফাস্র্টের খবরে বলা হয়, অধিবেশনে নিজ বক্তব্যে চামিন্দা উইজেসিরি অভিযোগ করেন, সরকারের পৃথক পৃথক এমপিদের নিরাপত্তা দিতে ডজনেরও বেশি পুলিশ সদস্য সরবরাহ করা হয়। এমনকি কয়েকজনকে পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের কর্মীও দেয়া হয়েছিল। এ সময় একটি প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সংসদ সদস্য জনকা তিসা কুত্তিয়ারাচ্চির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা সরবরাহ করা হয়েছিল।
চামিন্দা উইজেসিরির এমন অভিযোগের জবাবে তিসা কুত্তিয়ারাচ্চি জানান, তার জন্য মাত্র ৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাহারের জন্য স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে কথাও বলেছিলেন।
এরপরই দুই সাংসদের মধ্যে তর্ক চরমে ওঠে। স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা বার বার তাদের থামতে বলেন। এও উল্লেখ করেন, তারা একে অপরের নামে অভিযোগ দিতে থাকলে অধিবেশন আগে বাড়ানো সম্ভব হবে না।
এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে পার্লামেন্টে নির্দিষ্ট কিছু সাংসদের অসংলগ্ন আচরণ এবং অসংসদীয় ভাষার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, কিছু সদস্যের বাঁজে ব্যবহারের কারণে পার্লামেন্টের ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে।
রনিল আরো বলেন, পুরো দেশ আমাদের দেখছে। যদি আমরা এটি সঠিকভাবে করতে না পারি, তাহলে আমরা এই অধিবেশনটি স্থগিত করব। আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করতে পাঁচ মিনিট সময় নেব। তারা যদি সঠিক আচরণ করে, তাহলে আমরা অধিবেশন থেকে ফিরে যাবো না।
এ সময় স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেগুনাবর্ধনের কাছে অধিবেশন পাঁচ মিনিটের জন্য মুলতবি করার অনুরোধ জানান রনিল। তার আবেদনে সাড়া দিয়ে স্পিকার অধিবেশন স্থগিত করেন।
পাঁচ মিনিট পর ফের অধিবেশ শুরু হলে পার্লামেন্ট আইনের বিধান অনুসারে জনকা তিসা কুত্তিয়ারাচ্চি এবং চামিন্দা উইজেসিরিকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ডেইলি মিররের খবর অনুসারে, পার্লামেন্ট সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস ওই দুই সদস্যকে চেম্বার থেকে সরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত অধিবেমণ মুলতবি রাখেন স্পিকার।

কোন মন্তব্য নেই