নিউজ ফাস্ট

ডলার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির শক্তিকে প্রতিফলিত করে

 

মার্কিন ডলার প্রধানতম বৈশ্বিক মুদ্রা। যদিও মার্কিন ডলারের পাশাপাশি ইউরো জনপ্রিয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এই দুটির প্রচলন বেশি। ডলার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির শক্তিকে প্রতিফলিত করে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়।


আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোয় বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের অংশ ৬৪ শতাংশের বেশি। ইউরো প্রায় ২০ শতাংশ। টাকার অবমূল্যায়ন রপ্তানিকারকদের ডলারের বিপরীতে আরও বেশি অর্থ পেতে সহায়তা করে। সহজ কথায় বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতা আরও বাড়ায়।


অপরিশোধিত তেলসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে মার্কিন ডলার ব্যবহার করা হয়। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০ শতাংশ ঋণ ডলারে অনুমোদিত হয়। বিশ্বের ১৮০ বা এর বেশি অন্যান্য মুদ্রার বেশিরভাগই নিজ নিজ দেশের মধ্যে ব্যবহৃত হয়।


যখন কোনো কিছুর চাহিদা বেশি থাকে, তখন এর দাম বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বেশি থাকায় ডলারের দামও বাড়ছে। যেসব দেশের রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ বেশি, তারা রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি বাবদ বেশি খরচ করে। ডলারের দাম বেশি হলে সেসব দেশের আমদানি খরচ বাড়ে।


ডলারের দাম বৃদ্ধি মানেই নিজস্ব মুদ্রার দাম কমে যাওয়া। এটি সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে। ডলারের দাম বেড়ে গেলে বেশি খরচে অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয়। অপরিশোধিত তেলের জন্য অতিরিক্ত ডলার খরচ করতে হয় বলে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির সক্ষমতা কমতে থাকে। এ কারণে আমদানিনির্ভর দেশগুলোয় বিদেশি পণ্য ব্যয়বহুল হয়।


ডলারের দাম বৃদ্ধি বা টাকার দরপতন বিদেশি শিক্ষা ও ভ্রমণকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলে। টিউশন ফি ও ফ্লাইটের টিকিট ডলারে পরিশোধ করতে হয়। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হয়।


বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা যখন স্টক ও বন্ড বাজার থেকে অর্থ তুলে নেন তখনো বিভিন্ন মুদ্রার দরপতন হয় এবং ডলারের দাম বেড়ে যায়।


ডলারের দর বৃদ্ধি কারো কারো জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারে। যেমন: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা অন্যান্য দেশে থাকা বাংলাদেশি অভিবাসীরা দেশে ডলার পাঠালে বিনিময় হারের কারণে তাদের পরিবার বেশি অর্থ পায়।

কোন মন্তব্য নেই