আইক্লাউডের তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন
আইওএস অপারেটিং সিস্টেমের ডিভাইস ব্যবহারকারীরা তথ্য সংরক্ষণে আইক্লাউড ব্যবহার করে থাকেন। প্লাটফর্মে ব্যবহারকারীদের অধিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে অ্যাপল। খবর রয়টার্স ও টেকরাডার।
গোপনীয়তা সুরক্ষায় নতুন যেসব ফিচার আনা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আইমেসেজে কন্টাক্ট কি ভেরিফিকেশন রয়েছে। যেটি ব্যবহারকারীদের এসএমএসভিত্তিক নিরাপত্তা দেবে। এছাড়া আইক্লাউডে উন্নত তথ্য সুরক্ষা পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে। কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটির ঘোষণা অনুযায়ী, সাংবাদিক, ভিন্নমতাবলম্বী, মানবাধিকারকর্মী, বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ সমাজের গণ্যমান্যদের জন্য ফিচারগুলো আনা হয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে এগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছেও পৌঁছে যাবে।
নতুন ফিচারের আওতায় ব্যবহারকারীরা আইক্লাউডে ছবি ও নোটসহ সব ধরনের ফাইল এনক্রিপশনের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে পারে। এনক্রিপশনের স্তর এতটাই সুরক্ষিত যে আইফোনের নির্মাতাও এতে প্রবেশ করতে পারবে না বলে দাবি অ্যাপলের।
৭ ডিসেম্বর অ্যাপল অ্যাডভান্সড ডাটা প্রটেকশন ফিচারের ঘোষণা দিয়েছে। এনক্রিপশনের সুবিধা থাকায় সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথ্য চাইলেও কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি সেগুলো সরবরাহ করতে পারবে না। তবে ফিচারটি সবার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে না। যারা চাইবে তারা আলাদাভাবে চালু করে নিতে পারবে। এ বছর শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফিচারগুলো চালু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাপল যে উদ্যোগ নিয়েছে তার কারণে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন অধিকারকর্মী ও ব্যবহারকারীরাই বেশি খুশি হবে। এর আগে আইক্লাউডে রাখা তথ্যের নিরাপত্তায় এনক্রিপশন সুবিধা না থাকার বিষয়টিকে অ্যাপলের দুর্বলতা ভাবা হতো। পাশাপাশি সমালোচনাও হতো। এনক্রিপশন ছাড়া তথ্য সংরক্ষণ করার কারণে অ্যাপলের নিজস্ব সার্ভার হ্যাক করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের গোপনীয় তথ্য বেহাত হওয়ার শঙ্কাও ছিল।
ক্লাউডের তথ্য সুরক্ষায় অ্যাপল যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পছন্দ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আইমেসেজ সেবা ও ডিভাইসে এনক্রিপশনের সুযোগ থাকলেও ব্যাকঅ্যাপ এনক্রিপশন ফিচার ছিল না। ফলে মার্কিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্তের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারত।
ফিচার চালুর ঘোষণার দিনই সমালোচনামূলক বিবৃতি দিয়েছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। সংস্থাটির দাবি, এতে দেশজুড়ে যে অপরাধ, অপকর্ম সংঘটিত হবে সেগুলো থেকে নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্যান বার্নাডিনোর এক উগ্রপন্থীর এনক্রিপ্ট করা আইফোন আনলক করানোর জন্য আদালতের মাধ্যমে অ্যাপলের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল এফবিআই। সে সময় কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি জানায়, নিজস্ব সার্ভারে থাকা আইক্লাউড ব্যাকআপের মাধ্যমে একই তথ্য হাতে পাওয়া সম্ভব।
সাধারণত বিশ্বের প্রায় সব দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যক্তিগত ডিভাইস ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহারে ঘোর বিরোধী। কেননা এনক্রিপশন সুবিধা থাকলে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত লুকিয়ে ফেলা অপরাধীদের জন্য সহজ হয়ে যায়। আইক্লাউডে তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন কি ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে সে বিষয়ে ২০১৮ সালেই ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক।
তিনি জানান, অনেক ব্যবহারকারীর প্রত্যাশা আইক্লাউড থেকে এনক্রিপ্টেড তথ্য খোয়া গেলে হয়তো অ্যাপল থেকে সহায়তা করা হবে। কিন্তু কঠিন সত্য হচ্ছে তথ্য এনক্রিপশনের আওতায় চলে যাওয়ার পর ব্যবহারকারী যদি পাসওয়ার্ড ভুলে যায় তাহলেও অ্যাপলেরও সেগুলো উদ্ধারের সক্ষমতা নেই।

কোন মন্তব্য নেই