প্রবৃদ্ধির পথে তেলবীজের বৈশ্বিক উৎপাদন ও বাণিজ্য - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

প্রবৃদ্ধির পথে তেলবীজের বৈশ্বিক উৎপাদন ও বাণিজ্য


২০২২-২৩ মৌসুমে তেলবীজের বৈশ্বিক উৎপাদন ও বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূর্যমুখী, সরিষা ও তুলার তেলবীজ এবং পাম কারনেল উৎপাদনে নিম্নমুখিতার আশঙ্কা থাকলেও শীর্ষ দেশগুলোয় সয়াবিনের বাম্পার ফলন বৈশ্বিক উৎপাদনে আশা জাগাচ্ছে। এছাড়া ভারতে রবি মৌসুমে ইতিবাচক উৎপাদনও প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে তেলবীজের ঊর্ধ্বমুখী বৈশ্বিক বাণিজ্যে রসদ জোগাবে ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরীয় রফতানি। সম্প্রতি মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।



মার্কিন কৃষি বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে তেলবীজের বৈশ্বিক উৎপাদন গত মৌসুমের তুলনায় ৬ শতাংশেরও বেশি বাড়তে পারে। এর মধ্যে সয়াবিন উৎপাদন বাড়বে ১০ শতাংশ। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৯ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার টনে, গত মৌসুমে যা ছিল ৩৫ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার টন।


নভেম্বরে শুরু হওয়া এ মৌসুমে ভোজ্যতেল উৎপাদন বাড়ারও আভাস মিলেছে। ইউএসডিএর প্রাক্কলন অনুযায়ী, উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২১ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টনে, গত মৌসুমে যা ছিল ২০ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টন। সে হিসাবে এবার উৎপাদন ৪ শতাংশ বাড়বে।


সলভেন্ট এক্সট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার নির্বাহী পরিচালক বিভি মেহতা বলেন, চলতি মৌসুমে ভোজ্যতেলের বৈশ্বিক সরবরাহ আগের বছরের তুলনায় অন্তত ৭০ লাখ টন বাড়তে পারে। মোট সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়াবে তিন কোটি টনে। ইন্দোনেশিয়া যদি এবার বায়োডিজেল উৎপাদনে ৩৫ শতাংশ পাম ব্যবহার করে, তার পরও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকবে।


পাকিস্তানভিত্তিক ভোজ্যতেলের বাজার বিশ্লেষক আব্দুল হামিদ বলেন, ইন্দোনেশিয়া বি৩৫ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর অধীনে দেশটি বায়োডিজেল উৎপাদনে ৩৫ শতাংশ পাম উপাদান ব্যবহার করবে। এ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে চায় দেশটি। ঊর্ধ্বমুখী বায়োডিজেলের পরিমাণ ও ভোজ্যতেলের সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আনারও চেষ্টা চালাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া।



এদিকে তেলবীজ বাণিজ্য বাড়ারও পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ। চলতি মৌসুমে ইউক্রেন অনেক বেশি সূর্যমুখী তেলবীজ রফতানি করতে সক্ষম হবে, যা তেলবীজের বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার টনে, গত মৌসুমে যা ছিল ১৭ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার টন। চলতি মৌসুমে সূর্যমুখীর পর্যাপ্ত সরবরাহে সয়াবিনের দাম থাকবে নিম্নমুখী। তবে পাম অয়েলের দাম প্রতি টনে ১০০ ডলার বাড়তে পারে।



ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে রবি মৌসুমে ঊর্ধ্বমুখী তেলবীজ উৎপাদনও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। এ মৌসুমে দেশটিতে সরিষা উৎপাদন ৯৫ লাখ টন ছাড়াতে পারে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আবাদ বাড়িয়েছেন কৃষকরা। ফলন নিয়েও তারা আশাবাদী।


বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকতে পারে। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বাড়বে। সলভেন্ট এক্সট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরের গড়ের তুলনায় বর্তমানে টনপ্রতি ৩০০ ডলার কম মূল্যে পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল টনপ্রতি ১০০ ডলার কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই