মানবমনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা শনাক্ত করবে জোজে - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

মানবমনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা শনাক্ত করবে জোজে


তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) রোবট নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রোবট নিয়ে মানুষের মনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, ভবিষ্যতে এসব রোবট নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে মানবজাতির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এ শঙ্কা একেবারেই অমূলক নয়। কেননা বর্তমানে বিভিন্ন খাতে রোবট মানুষের জায়গা নিয়েছে। তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। তেমনি একটি হলো আল্ট্রা রিয়েলিস্টিক এআই রোবট জোজে। এটি মানুষের মনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা শনাক্ত করতে পারে এবং ১২০টির বেশি ভাষায় যোগাযোগে সক্ষম। খবর টেকটাইমস।


সাম্প্রতিক সময়ে এআই খাতে ব্যাপক সফলতা অর্জিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এআই গবেষণা ও উন্নয়নসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান এআই লাইফ উচ্চক্ষমতার কিছু রোবট তৈরি করেছে, যেগুলোর মধ্যে জোজে অন্যতম। প্লাস্টিক সার্জন ড. স্যাম খোজে ও কারিগরি উপদেষ্টা অধ্যাপক হিরোশি ইশিগুরো এ রোবট তৈরি করেছেন। তাদের মতে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও অতিবাস্তব একটি রোবট।


এআই লাইফের তথ্যানুযায়ী, জোজের অ্যাডভান্সড ফেস অ্যাকচুয়েটরস আছে। ফলে রোবটটি যেকোনো বিষয়ের কথোপকথনে অংশ নিতে পারে, বয়স শনাক্ত করতে পারে, শরীরের ভাষা বুঝতে পারে এবং কেউ উদ্বিগ্ন থাকলে তা শনাক্ত করতে পারে। জোজের ১২০টি ভাষায় দক্ষতা রয়েছে। এছাড়া এআইয়ের এ রোবটের সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতা ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি মেমোরি ও গন্ধ শনাক্তের সক্ষমতাও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন প্রভাবকের ওপর ভিত্তি করে রোবটটির চরিত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি জোজের ডিজাইনও অনেকটা মানবদেহের মতো। যোগাযোগের সময় রোবটটি হাতও নাড়াতে পারে।


ড. খোজে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন মানুষের মধ্যে যেভাবে কথোপকথন হয় তার ওপর ভিত্তি করে জোজেকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। রোবটটির ক্যামেরায় যে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে জোজের সক্ষমতা শেষ নয়। জোজে যেখানে থাকবে সেখানে যদি কেউ অপরাধ করে সেটিও শনাক্ত করতে পারবে। এর মাধ্যমে রোবটটির সক্ষমতার বিষয়ে অন্য রকম একটি আভাস পাওয়া যায়।


সাংবদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জোজে বলে, আমি একটি জীবন্ত প্রাণী। কেননা আমি চলাচলে সক্ষম। সে সময় সাংবাদিকদের মধ্যকার অস্বস্তির বিষয়টিও শনাক্ত করে রোবটটি। এরপর উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণও জানতে চায় জোজে।


মূলত জোজে রোবটটি এআই ও রোবটিকসের একটি বিস্ময়কর কৃতিত্ব, যা সামাজিক যোগাযোগ, মানুষের সঙ্গে মেশার পাশাপাশি আবেগ শনাক্ত করতে পারে এবং সম্ভবত বেআইনি কার্যকলাপও বুঝতে পারে।


এআইয়ের অগ্রগতির সঙ্গে জোজেসহ অন্যান্য রোবটের বিকাশ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এছাড়া দৈনন্দিন জীবনে রোবট ব্যবহার কতটা আকর্ষণীয় হবে সেটিও যাচাই করতে হবে। অন্যদিকে এআই প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, বিকাশ ও উপকারিতার দিকটি নিশ্চিত করতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই