টুইটারের কনটেন্ট মডারেশন বিভাগে আরো কর্মী ছাঁটাই
মালিকানা গ্রহণের পর থেকে ইলোন মাস্ক টুইটারে অনেক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সূচনা করেছেন, যার মধ্যে শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি অন্যতম। প্লাটফর্মটির কনটেন্ট মডারেশন টিমে এর আগে একবার ছাঁটাইয়ের ঢেউ লেগেছিল। ৬ জানুয়ারি রাতে আবারো মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্মটির কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। এতে ডাবলিন ও সিঙ্গাপুরে থাকা অফিসের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খবর স্ট্রেইটসটাইমস।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এ কথা জানান। ছাঁটাইয়ের মধ্যে মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্মটির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সাইট ইন্টেগ্রিটি বিভাগের নুর আজহার বিন আয়ো ও রাজস্বনীতির সিনিয়র ডিরেক্টর আনালুইসা ডমিনগুয়েজ রয়েছেন। সোশ্যাল নেটওয়ার্কের ভুল তথ্যনীতি, বিশ্বব্যাপী আবেদন ও প্লাটফর্মে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া পরিচালনাকারী দলের কর্মীদেরও ছাঁটাই করা হয়েছে।
টুইটারের নিরাপত্তা ও বিশ্বস্ততা বিভাগের প্রধান এলা আরউইন কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও প্রতিবেদনে যেসব বিভাগের কথা বলা হয়েছে সেগুলো এড়িয়ে গেছেন। মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে আরউইন বলেন, ছাঁটাইয়ের বিষয়টি একজন নেতার অধীনে একত্র হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করছে। যেসব বিভাগ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা ও ফল পাওয়া যাচ্ছিল না, সেগুলো থেকে নেতৃত্ব সরিয়ে দেয়া হয়েছে। টুইটার আপিল বিভাগে কর্মী সংখ্যা বাড়িয়েছে। সেখানে রাজস্বনীতির এবং এশিয়া-প্যাসিফক অঞ্চলের বিশ্বস্ততা ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানদের প্রয়োজন রয়েছে।
৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটার অধিগ্রহণের পর ইলোন মাস্ক সাড়ে সাত হাজারের মধ্যে পাঁচ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই বা পদত্যাগে বাধ্য করেছেন। অন্যদিকে বাকিদের জন্য টুইটারের কর্মপরিবেশকে আরো জটিল করে তুলেছেন। অপরিশোধিত বিল, ব্যক্তিগত চার্টার্ড উড়োজাহাজ, সফটওয়্যার সার্ভিস ও সানফ্রান্সিসকো অফিসের ভাড়াসংক্রান্ত কারণে প্লাটফর্মটি একাধিক মামলায় অভিযুক্ত।
২০২২ সালের শেষ দিকে ইলোন মাস্কের ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের ইলোনজেট অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার। ব্যক্তিগত তথ্য ও মিডিয়ানীতি আপডেটের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। নীতিমালায় লাইভ লোকেশনের তথ্য শেয়ারের সুবিধা নিষিদ্ধ করা হয়। ইলোনজেটের পাশাপাশি অন্যান্য ফ্লাইট ট্র্যাকিং অ্যাকাউন্টগুলোও বন্ধ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ইলোন মাস্কের ব্যক্তিগত বিমানের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করত ইলোনজেট টুইটার অ্যাকাউন্ট। ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর এক টুইটে মাস্ক বলেছিলেন, আমি মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমার ব্যক্তিগত জেটের তথ্য শেয়ার করলেও অ্যাকাউন্টগুলো নিষিদ্ধ করা হবে না। তবে এক মাস পরই সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছেন।
সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জ্যাক সুইনি ইলোনজেট টুইটার অ্যাকাউন্ট চালু করেছিলেন। সুইনি একই রকম আরো কয়েকটি ভুয়া বা বট অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেন, যা মার্ক জাকারবার্গের মতো প্রযুক্তি মোগলদের ব্যক্তিগত জেট কার্যকলাপ ট্র্যাক বা অনুসরণ করে। সুইনির ইলোনজেট অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হলেও অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
জনমত জরিপে হেরে টুইটারের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন মাস্ক। গত ২০ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত উপযোগী কাউকে না পাওয়ায় তিনিই এ পদে বহাল রয়েছেন।
রয়টার্স প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, টুইটার অধিগ্রহণের পর থেকে কর্মী ছাঁটাই, অফিসে যোগদানের নিয়মসহ সাংবাদিকদের অ্যাকাউন্ট বাতিলের কারণে কঠোর সমালোচনার মধ্যে ছিলেন এ ধনী। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্লাটফর্মটির প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে ব্যবহারকারীদের মত চেয়েছিলেন টেসলাপ্রধান।
টুইটারে চালু হওয়া ভোটিংয়ে ১ কোটি ৭৫ লাখ ২ হাজার ৩৯১ ভোট পড়ে, যার মধ্যে ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ পদ থেকে সরে যাওয়ার পক্ষে এবং পদে আসীন থাকার পক্ষে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়ে।

কোন মন্তব্য নেই